পাগল হয়ে যেতেন স্কালোনি!

পাগল হয়ে যেতেন স্কালোনি!

ফন্ট সাইজ:

জয় এলো ঠিকই। কিন্তু স্বস্তি এলো অনেক দেরিতে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হলো আর্জেন্টিনাকে। আর এই ম্যাচটা ছিল আরো বিশেষ। স্কালোনির শততম ম্যাচ। জাতীয় দলের ডাগআউটে এক মাইলফলকের রাত। অথচ সেই রাতেই প্রায় বিদায়ঘণ্টা বেজে যাচ্ছিল! কেপ ভার্দে দুইবার সমতায় ফিরিয়ে কাঁপিয়ে দেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। শেষমেশ জয় এলো। স্বস্তি ফিরলো। স্কালোনির কথাতেই স্পষ্ট, ভেতরে ভেতরে কতটা নার্ভাস ছিলেন তিনি। ম্যাচ হারলে তিনি নাকি পাগল হয়ে যেতেন! আর্জেন্টিনার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ী কোচ কেপ ভার্দে ম্যাচের পর বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে ১০০টি ম্যাচের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই এই ম্যাচটি আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। যেহেতু এটি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ এবং আমাদের বারবার ধাক্কা খেয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হয়েছে, তাই একজন কোচ হিসেবে এই ম্যাচ আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমার এই ১০০তম ম্যাচে যদি আমরা হেরে বিদায় নিতাম, তবে সেটি হতো এক নির্মম ও দুঃখজনক পরিসংখ্যান।

সত্যি বলতে, আজ হেরে গেলে আমি নির্ঘাত পাগল হয়ে যেতাম! তবে এটাই ফুটবল।’ বিশ্বকাপের ফিকশ্চার ড্র হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন, আর্জেন্টিনা তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়েছে। এমনকি কেপ ভার্দে ম্যাচের আগেও সংবাদ সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় স্কালোনিকে। সেই ধারণা যে ভুল প্রমাণিত হয়েছে, তা স্পষ্ট করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেকেই বলেছিল আমরা নাকি সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছি। এখন নিশ্চয়ই সবাই বুঝতে পারছেন বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই। আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। আমরা প্রচুর ভুগেছি, তবে দল হিসেবে জয়টা আমাদের প্রাপ্যই ছিল। আমাদের ছেলেরা কখনো হাল ছাড়ে না।’ আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচে সমতা ফিরিয়েছিলেন কেপ ভার্দের ২৩ বছর বয়সী লেফট-ব্যাক সিডনি লোপেস কাবরাল। প্রতিপক্ষের এই তরুণ ফুটবলারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন স্কালোনি নিজেও। তিনি বলেন, ‘ওটা একটা অবিশ্বাস্য গোল ছিল।
আমরা আগে থেকেই ভিডিওতে দেখেছিলাম ও বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ে শট নেয়। কিন্তু আপনি যতই বিশ্লেষণ করেন না কেন, ও যেভাবে বলটা জালে জড়ালÑতা আটকানো এককথায় অসম্ভব ছিল।’ দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা না করে পারেননি স্কালোনি। তার ভাষায়, ‘১২০ মিনিট খেলার কারণে ফুটবলাররা ক্লান্ত ছিল। তবে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের যখন ফুসফুসে বাতাসের ঘাটতি তৈরি হয়, তখন তারা হৃদয় দিয়ে খেলে। আজ ছেলেরা মাঠের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দুর্দান্ত চরিত্র দেখিয়েছে। যেসব ভুল হয়েছে, আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করবো এবং শুধরে নেবো।’ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে চমকপ্রদ হারের তেতো স্মৃতি এখনো আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মনে টাটকা। সেই ম্যাচের সঙ্গে কেপ ভার্দে ম্যাচের তুলনা টেনে স্কালোনি বলেন, ‘সৌদি আরবের বিপক্ষের ম্যাচের চেয়ে এই ম্যাচের তফাত হলো, আজ দল ধাক্কা খাওয়ার পর দারুণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। আমাদের এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞতা। ছেলেরা জানে বিশ্বকাপে কীভাবে টিকে থাকতে হয়। সেদিন দল পুরোপুরি খেই হারিয়ে ফেলেছিল, আজ কিন্তু তা হয়নি।’



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন