পঞ্চম ম্যাচের অভিশাপ তো কাটলো মেক্সিকোর। সামনে আরও বড় পরীক্ষা। কাল সকাল ৬টায় স্বাগতিকরা শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে অতীত রেকর্ড খুব একটা সুবিধার নয় মেক্সিকোর। তবুও আজতেকার দুর্গে দর্শকদের অনুপ্রেরণায় আত্মবিশ্বাসের পারদটা উঁচু ‘এল ট্রি’-দের। বৃটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই ম্যাচে শুধু মাঠ নয়; ইংল্যান্ডকে লড়তে হবে মেক্সিকো সিটির উচ্চতা আর ৮৮ হাজার দর্শকের সঙ্গেও। ইংল্যান্ডও প্রস্তুতি নিয়েই নামছে। আজতেকায় পুরনো দুঃখ ভুলতে চাইবে তারা। সবশেষ এখানে তারা খেলেছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। ঘটনাবহুল ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল থ্রি লায়ন্সরা। ইংলিশ ফরোয়ার্ড মার্কাস রাশফোর্ড বলেন, ‘ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই। অসাধারণ একটি স্টেডিয়াম, দুই দলের সমর্থকদের আবেগও দারুণ। আশা করি, দারুণ একটি ফুটবল ম্যাচ হবে এবং শেষ পর্যন্ত জয়টা আমাদেরই হবে।’
মেক্সিকোর বিপক্ষে ৯ ম্যাচে ৬টিতেই জয় ইংল্যান্ডের। শেষ চার দেখাতেই জিতেছে তারা। হার দুটি। বিশ্বকাপে একবারই দেখা হয়েছিল দু’দলের। ১৯৬৬’র আসরের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ‘থ্রি লায়নন্স’-রা জেতে ২-০ গোলে। মেক্সিকোর বিপক্ষে ৮-০ গোলের জয়ের রেকর্ডও রয়েছে ইংল্যান্ডের। তবে ২০১০ সালের পর মেক্সিকোর বিপক্ষে আর খেলেনি ইংল্যান্ড। কাজেই কাগুজে হিসাব সরিয়েই রাখতে হবে। মেক্সিকো টানা চার জয় নিয়ে উড়ছে। ভেন্যু আর কন্ডিশন সবই তাদের অনুকূলে। কাজেই ইংলিশদের সামনে কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে। সেই পরীক্ষায় উতরাতে সম্ভাব্য সকল কৌশল ব্যবহার করবেন কোচ টমাস টুখেল। মেক্সিকান ওয়েভ আর আজতেকার উচ্চতার চাপ সামলাতে এরই মধ্যে ‘ভায়াগ্রা’ সেবনের অনুমতিও দিয়েছেন তিনি। ফিফার নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় ‘সিনডেনাফিল’ না থাকায় ভায়াগ্রা সেবনে বাধা
নেই।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ফুট উঁচু আজতেকা স্টেডিয়াম। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলক কম। ফলে খেলোয়াড়দের দ্রুত ক্লান্তি ধরে যায়। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। দৌড়ানোর সক্ষমতাও কমে যায়। ভায়াগ্রা যেহেতু রক্তনালী প্রসারিত করে অক্সিজেন পরিবহনে সহায়তা করে, তাই এটি ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন টুখেল।
৮৮ হাজার দর্শকের উন্মাদনাই হোক কিংবা উচ্চতার চ্যালেঞ্জ, পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে প্রস্তুত রাশফোর্ড। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটাই আমাদের বড় শক্তিÑ যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত।
দিনশেষে এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। ম্যাচ যেভাবেই আগাক না কেন আমরা জয়ের জন্যই খেলবো।’ আবহাওয়াজনিত কারণে ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচটি এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। মেক্সিকোর কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, সম্ভাব্য বজ্রঝড় এড়াতে ম্যাচটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার বদলে দুপুর ১২টায় আনার প্রস্তাব ছিল। কারণ, এর আগে প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচ। কিন্তু এ বিষয়ে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। ফলে দু’পক্ষই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা জানায়। মেক্সিকো কোচ হাভিয়ের আগুইরে সরাসরি বলেন, ‘এ যেন পেটে সজোরে ঘুসি খাওয়ার মতো। পুরো পরিকল্পনাই বদলে যায়। কারণ, নির্ধারিত সূচি থেকে ছয় ঘণ্টা বাদ দিতে হবে। আমরা অবশ্যই ফিফার নিয়ম মানতে বাধ্য। কিন্তু ওরা তো আমার সঙ্গে কোনো পরামর্শই করেনি।’
এমনকি দর্শকরাও অসন্তোষ প্রকাশ করে। শেষতক আগের সূচিতে ফিরে যেতে বাধ্য হয় ফিফা। যদিও নিজস্ব বিবেচনায় কোনো ম্যাচ বাতিল বা পুনঃনির্ধারণ করা কিংবা অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার এখতিয়ার সংস্থাটির রয়েছে। নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী স্টেডিয়ামের আট মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩০ মিনিটের জন্য খেলা স্থগিত রাখা হয়। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচেও একই কারণে খেলা বিলম্বিত হয়েছিল।
