বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর মঞ্চে এবার গোলপোস্টের নিচে অতিমানবীয় বীরত্ব দেখাচ্ছেন গোলরক্ষকেরা। বাংলাদেশের সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য এখন পর্যন্ত চলতি আসরের সেরা গোলকিপার হিসেবে বেছে নিয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে। বিপ্লব বলেন, ‘আমার কাছে ভোজিনিয়াকেই এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা মনে হয়েছে। গোলপোস্টের নিচে তার যে দক্ষতা এবং আসর জুড়ে যেভাবে তিনি ধারাবাহিক পারফর্ম করছেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। আমার হাতে যদি সেরা গোলকিপারদের পুরস্কার গোল্ডেন গ্লাভস দেয়ার ক্ষমতা থাকতো, তবে আমি কোনো দ্বিধা ছাড়াই সেটি ভোজিনিয়াকে দিতাম।’ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন তিন দল স্পেন, উরুগুয়ে এবং আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপক্ষেও ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ।
এছাড়া মেক্সিকোর তরুণ গোলকিপার রাউল রাঞ্জেলকে এই বিশ্বকাপের সেরা আবিষ্কার ভাবছেন ফুটবল বোদ্ধারা। গোলপোস্টের নিচে টানা ৪টি ম্যাচে কোনো গোল না খেয়ে ক্লিন শিট রাখার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন এই মেক্সিকান গোলকিপার। তার সেভ পারসেন্টেজ শতভাগ। তাছাড়া আর্জেন্টিনার বিশ্বস্ত বাজপাখি এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এবং ব্রাজিলের প্রধান গোলরক্ষক হিসেবে খেলা অ্যালিসন বেকারের ওপরেও ভরসা রাখছেন সাবেক এই ফুটবলার। বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘মার্টিনেজের অভিজ্ঞতা ও মনস্তাত্ত্বিক মাইন্ড গেম প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আর অ্যালিসন ব্রাজিলের প্রথম পছন্দের গোলকিপার হিসেবে গোলপোস্টের নিচে ভরসার শেষ আশ্রয়। আমার মনে হয় সে মার্টিনেজের চেয়ে ভালো খেলছে। এদিকে মাঠের লড়াইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য ফুটবল উপহার দেয়ার বিষয়টি বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছে। তবে ম্যাচে আর্জেন্টাইনদের বেশ কিছু আশঙ্কাজনক দুর্বলতা ধরা পড়েছে। দলের ডিফেন্স বা রক্ষণভাগের নড়বড়ে অবস্থা এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি স্পষ্ট লক্ষ করা গেছে। বিপ্লব বলেন, ‘আসলে সময় যত গড়াচ্ছিল, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। টুর্নামেন্টের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দলের এই গতির অভাব সামনে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।’ এছাড়া আলবিসেলেস্তেরা এখনও প্রচণ্ড রকমের মেসি-নির্ভর দল হিসেবে মাঠে নামছে। দলের বড় তারকারা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে বারবার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেই ত্রাতা হিসেবে এগিয়ে আসতে হচ্ছে। এমনকি ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তেও আর্জেন্টিনা গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়তে পারত। কিন্তু গোলরক্ষক ই মার্টিনেসের অবিশ্বাস্য জোড়া সেভ দলকে খাদের কিনারা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
ডন আনচেলোত্তি ব্রাজিলকে বদলে দিয়েছেন
হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইউরোপের শক্তিশালী দল নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানে তাকালে দেখা যাবে, সেলেসাওদের জন্য নরওয়ে সবসময়ই এক চরম অস্বস্তিকর প্রতিপক্ষ। অতীতে নরওয়ের বিপক্ষে খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে ব্রাজিল ২টি হেরেছে এবং ২টি ড্র করেছে। তবে পরিসংখ্যান যাই বলুক, বর্তমানের এই ল্যাটিন পরাশক্তি ম্যাচ বাই ম্যাচ দারুণ উন্নতি করছে। বিশেষ করে জাপানের বিপক্ষে নকআউটের প্রথম ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয়ের দ্বিতীয়ার্থের নান্দনিক পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘জাপানের বিরুদ্ধে ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্থে যেভাবে খেলেছে, তা স্রেফ চোখ ধাঁধানো ছিল। নরওয়ে কোনোভাবেই ব্রাজিলের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না’। দীর্ঘদিন পর সেলেসাওরা একজন খাঁটি স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারমাইন্ড ও ইউরোপীয় ফুটবল বিশেষজ্ঞ ডন কার্লো আনচেলত্তিকে নিজেদের ডাগআউটে পেয়েছে। এই কিংবদন্তি কোচ খুব ভালোভাবেই জানেন নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে কোন কৌশলে দলকে খেলাতে হবে। ইতিমধ্যেই তিনি নরওয়ে দলের শক্তিমত্তা চূর্ণ করার নিখুঁত নীলনকশা সাজিয়েছেন। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, রাফিনিয়া, রায়ানের পাশাপাশি নেইমার মাঠে থাকলে নরওয়ের রক্ষণভাগ ভেঙে চূর্ণ হয়ে যাবে। বিপ্লব বলেন, ‘ইউরোপের মাটিতে আনচেলত্তির ঈর্ষণীয় সাফল্যই ব্রাজিলকে সবচেয়ে বড় সুবিধা এনে দেবে। এই নকআউট ম্যাচে সেলেসাওরা অত্যন্ত শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য দল হিসেবেই মাঠে আধিপত্য দেখাবে।’
