সেই ‘সুয়ারেজ ভূত’ দেখিয়ে ঘানার বিদায়ঘণ্টা বাজালো কলম্বিয়া

সেই ‘সুয়ারেজ ভূত’ দেখিয়ে ঘানার বিদায়ঘণ্টা বাজালো কলম্বিয়া

ফন্ট সাইজ:

ঘানার ফুটবল সমর্থকদের জন্য ‘লুইস সুয়ারেজ’ নামটা এক অনন্ত কান্নার ইতিহাস। ২০১০ বিশ্বকাপের সেই কুখ্যাত হ্যান্ডবলের ঠিক ১৬ বছর পর, আবারও এক লুইস সুয়ারেজের কারণেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো আফ্রিকার ব্ল্যাক স্টাররা। তবে এবারের সুয়ারেজ উরুগুয়ের নন, তিনি কলম্বিয়ার ৩০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই এই সুয়ারেজের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন জন আরিয়াস। আর তাতেই ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। আগামী মঙ্গলবার ভ্যাঙ্কুভারে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় কলম্বিয়া। মাত্র সাত মিনিটে প্রধান স্ট্রাইকার জহন কর্দোবা হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়লে মাঠে নামানো হয় লুইস সুয়ারেজকে। গত মৌসুমে পর্তুগালের স্পোর্টিংয়ের হয়ে ২৮ গোল করা সুয়ারেজই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন। ডান প্রান্ত দিয়ে তার দারুণ এক ক্রস খুঁজে নেয় অরক্ষিত জহন আরিয়াসকে। ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে গোল করতে ভুল করেননি আরিয়াস। চলতি মৌসুমের শুরুতে ইংলিশ ক্লাব উলভসে মাত্র ছয় মাস কাটিয়ে ব্রাজিলের পালমেইরাসে যোগ দিয়েছেন তিনি। ম্যাচের পর হুঙ্কার ছুঁড়ে কলম্বিয়ান এই উইঙ্গার বলেন, ‘আমাদের ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার স্বপ্ন দেখার এবং তা বিশ্বাস করার মতো সামর্থ্য আছে। ইতিহাস গড়ার প্রথম ধাপই হলো মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা।’ পুরো ম্যাচে কলম্বিয়ার হলুদ জার্সির সমর্থকদের আধিপত্যের সামনে পাত্তাই পায়নি ঘানা। টটেনহ্যাম তারকা মোহাম্মদ কুদুসের অনুপস্থিতিতে পুরো ম্যাচে গোলমুখে একটিও অন টার্গেট শট নিতে পারেনি তারা।

ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে নকআউটে আসা দলটি কোচ কার্লোস কুইরোজের অধীনে ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলেছিল। ম্যাচের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এ সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট বলেন, ‘এখন আমার কাজ হলো এক গ্লাস ঠাণ্ডা জল খেয়ে রিল্যাক্স করা। মাথা ঠাণ্ডা করে কাল সকাল থেকে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেব।’
ম্যাচে কলম্বিয়ার মহাতারকা হামেস রদ্রিগেজকে প্রথমার্ধের পর তুলে নেয়ায় কিছুটা অসন্তুষ্ট দেখিয়েছে। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই গোল্ডেন বুট জয়ী নায়কের সেরা সময় যে পেরিয়ে গেছে, তা স্পষ্ট। তবে লুইস দিয়াজের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। শেষ মুহূর্তে ঘানার গোলকিপার লরেন্স আতি-জিগি বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বড় হারের লজ্জা থেকে বাঁচান।

কলম্বিয়ার আর্জেন্টাইন কোচ নেস্টর লরেঞ্জো দলের এই জয়ে উচ্ছ্বসিত। ১৯৯০ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ দলের সদস্য লরেঞ্জো বলেন, ‘এই জয় আমাদের জন্য অনেক বড় কিছু। বিভিন্ন শহরের তাপমাত্রা এবং দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল সামলে লজিস্টিকালি টুর্নামেন্টটা সবার জন্যই খুব কঠিন।’
কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার সামনে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা। তবে তার আগে সুইজারল্যান্ডের কঠিন বাধা পার হতে হবে লরেঞ্জোর শিষ্যদের। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে ম্যাচ না জেতার রেকর্ড আগের মতো রেখেই বিদায় নিলো ঘানা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন