হেরে যাওয়া দল নিয়ে ক’জনই বা কথা বলে। মাঠ ছাড়ার পর তাদের নিয়ে আলোচনা দ্রুত থেমে যায়। কিন্তু কেপ ভার্দে যেন সব প্রচলিত নিয়মকে পাল্টে দিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো। মেসির গোল কিংবা রেকর্ডকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছোট্ট এই আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রের অবিশ্বাস্য লড়াই। আর সেই লড়াইয়ের নায়কদের নিয়ে গর্বে বুক ভরে উঠেছে দলটির কোচ বুবিস্তার। ফিফা র?্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা আর কেপ ভার্দের মধ্যে ব্যবধান ৬৩ ধাপের। এত বড় পার্থক্যের কারণে ম্যাচের আগে অনেকেই ভেবেছিলেন, এটি হতে পারে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে একপেশে লড়াই। কিন্তু মাঠের খেলা বদলে দিল সব হিসাব-নিকাশ।
শুধু ব্যবধান ঘোচানোই নয়, একটা সময় জয়ের স্বপ্নও দেখিয়েছিল কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য হার মানতে হয় ৩-২ গোলে। তবু এই লড়াই থেকে দলটি যা অর্জন করেছে, তা কোনো অংশেই কম নয়। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে কোচ বুবিস্তা বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি এবং আমরা সাহসিকতার সঙ্গে সেটা করেছি। আমরা আমাদের নিজস্ব খেলার ধরনেই খেলেছি, আর ঠিক এ কারণেই পুরো ম্যাচে খেলোয়াড়েরা যেভাবে খেলেছে, সে জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।’ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুইবার সমতায় ফেরার সমীকরণ মিলিয়েছে কেপ ভার্দে। এই বিষয়ে বুবিস্তা বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, আর্জেন্টিনার সামর্থ্যের কারণে আমাদের সাহসী এবং সুসংগঠিত হতে হয়েছিল। কিন্তু দুবার সমতায় ফেরা এবং পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানো প্রমাণ করে, আমাদের দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম। আমাদের মানসিক শক্তি কতটা দৃঢ়।
পুরো টুর্নামেন্টে আমরা যা করেছি, তার জন্য আমি খুবই গর্বিত।’ জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপে অংশ নেয়া তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে। মাত্র ছয় লাখের কিছু বেশি মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্র বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে চেয়েছিল। সেই লক্ষ্যে তারা সফলও হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বুবিস্তা বলেন, ‘খেলার চেয়েও বড় বিষয় ছিল বিশ্বের কাছে আমাদের নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরা। টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলতে চেয়েছি। এই টুর্নামেন্টে আমরা অনভিজ্ঞ, আর অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক। কিন্তু এরপরও এ পর্যায়ে পৌঁছানো, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ১২০ মিনিট খেলতে পারা, আমরা শুধু দল নিয়ে সুখী আর গর্বই অনুভব করতে পারি।’
