যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে দেশটির একশত ডলারের নোটে প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই ঘোষণার কয়েক মাস পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজের স্বাক্ষর সংবলিত একটি ১০০ ডলারের নোটের নতুন ছবি শেয়ার করেছেন। এ খবর দিয়েছে সিএনএন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মার্কিন নথিপত্র এবং ল্যান্ডমার্কে নিজের নাম ও ছবি যুক্ত করার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। তার প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিশেষ স্মারক পাসপোর্ট, জাতীয় উদ্যানের পাস, ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন সংস্থার ব্যানার, মার্কিন ইনস্টিটিউট অফ পিস এবং শিশুদের বিশেষ বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পের নাম বা ছবি ব্যবহার করেছে।
এমনকি ফ্লোরিডার পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্পের নামে রাখা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ডলার বিলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত নতুন ছবিতে দেখা যায়, নোটটিতে ট্রেজারি সেক্রেটারি বেসেন্টের স্বাক্ষরের ঠিক উপরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর রয়েছে। সাধারণত মার্কিন ডলারে ট্রেজারি সেক্রেটারি এবং মার্কিন ট্রেজারারের স্বাক্ষর থাকে, তবে কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর থাকার ঘটনা ইতিহাসে এটাই প্রথম। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মার্কিন ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচ মার্চ মাসের ঘোষণায় জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের স্থপতি হিসেবে ইতিহাসে প্রেসিডেন্টের অবদান অনস্বীকার্য এবং আমেরিকার মুদ্রায় তার স্বাক্ষর থাকা কেবল উপযুক্তই নয়, বরং তার সম্পূর্ণ প্রাপ্য। কংগ্রেসের কিছু সদস্য আরও এক ধাপ এগিয়ে ট্রাম্পের ছবি দিয়ে ২৫০ ডলারের একটি বিশেষ স্মারক নোট চালুর জন্য বিল উত্থাপন করেছেন।
তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী, কেবল প্রয়াত ব্যক্তিদের ছবিই মুদ্রায় ব্যবহার করা যাবে। এই বিল পাস করতে হলে কংগ্রেসের ডেমোক্রেট সিনেটরদের সমর্থনের প্রয়োজন হবে, যা বেশ কঠিন। তা সত্ত্বেও, ব্যুরো অফ এনগ্রেভিং অ্যান্ড প্রিন্টিং-এর কর্মীরা ট্রাম্পের প্রতিকৃতি ও স্বাক্ষরসহ ২৫০ ডলারের নোটের প্রোটোটাইপ বা খসড়া তৈরি করছেন।
মে মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রেজারি সেক্রেটারি বেসেন্ট জানান, ২৫০তম বার্ষিকীর নোটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছবি রাখার মধ্যে তিনি অন্যায় বা আপত্তিকর কিছু দেখছেন না।
