আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের ম্যাচে রেকর্ডের ফুলঝুরি

আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের ম্যাচে রেকর্ডের ফুলঝুরি

ফন্ট সাইজ:

নকআউট পর্বে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক লড়াই দেখলো বিশ্ব। কেপ ভার্দেকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দেকে বিদায় করার রাতে একের পর এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন ফুটবল জাদুকর। হয়েছে আরও অনেক রেকর্ড।

২০: ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ২০ গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন মেসি। বিশ্বমঞ্চে নিজের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেলেন তিনি।
১২: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন মেসির মোট গোল অবদান ১২টি (৬ গোল, ৬ অ্যাসিস্ট)। পেলে এবং কিলিয়ান এমবাপ্পেকে টপকে গত ৬০ বছরের ইতিহাসে নকআউটে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদানের রেকর্ড গড়লেন তিনি।
৮: বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৮ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়লেন মেসি।

৭+: প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ৭ বা তার বেশি গোল করার কীর্তি গড়লেন তিনি (২০২২ এবং ২০২৬)। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ৬। কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল রয়েছে ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
৭: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে গিলার্মো স্ট্যাবিলের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড (১৯৩০ সালে ৮ গোল) ছুঁতে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র ১ গোল। আর দক্ষিণ আমেরিকান পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে আদেমিরের রেকর্ড (১৯৫০ সালে ৯ গোল) ভাঙতে লাগবে ২ গোল।

৫: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার মাইলফলক ছুঁলেন মেসি। হাঙ্গেরির গিয়র্গি সারোসি (১৯৩৪-৩৮) এবং ব্রাজিলের ভাভার (১৯৫৮-৬২) পর পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে এই নজির গড়লেন তিনি।
১০: নিজের শেষ ৬টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে সরাসরি ১০টি গোলে অবদান রেখেছেন লিওনেল মেসি (৬ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট)।
১৪: বয়স ৩৫ পার হওয়ার পর বিশ্বকাপে ১৪ গোল করলেন মেসি। এই তালিকায় ৫ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ক্যামেরুনের রজার মিলা। বাকি সব ৩৫+ বছর বয়সী ফুটবলাররা মিলে বিশ্বকাপে করেছেন মোট ২৫ গোল।
১৪: বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত মুখোমুখি হওয়া ২২ দলের মধ্যে ১৪টি দলের বিপক্ষেই গোল করার রেকর্ড গড়লেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।

৩: ৩৯ বছর ৯ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে তৃতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা মেসি। তার আগে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (৪১ বছর ১৪৭ দিন) এবং পেপে (৩৯ বছর ২৮৩ দিন)।
১: মেসির প্রথম গোলটিতে অ্যাসিস্ট করে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক অ্যাসিস্টের খাতা খুললেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দশম আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশ্বকাপে মেসিকে অ্যাসিস্ট করলেন তিনি। ৪২.৫ মিটার দূর থেকে দেয়া এই পাসটি গত ৬০ বছরে কোনো আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের দীর্ঘতম অ্যাসিস্ট।
১: ১৯৬৬ সালের পর প্রথম আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়লেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ।
৩০ ও ১৩: বিশ্বকাপে নিজের ৩০তম ম্যাচ খেলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড আরও বাড়ালেন মেসি। পুরুষ ফুটবলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৩০টি ম্যাচ খেললেন তিনি। পাশাপাশি নকআউটে এটি তার ১৩তম ম্যাচ।

১: নিজের ২৭তম জন্মদিনের আগের দিন কেপ ভার্দের হয়ে প্রথম নকআউট গোল করলেন ডেরয় দুয়ার্তে। প্রথম আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসেবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউটে গোল করলেন তিনি।
১০০: আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে নিজের ১০০তম ম্যাচ পূর্ণ করলেন লিওনেল স্কালোনি। তার অধীনে দলের রেকর্ড ৭৩ জয়, ১৮ ড্র ও ৯ হার, জিতেছেন ৪টি বড় ট্রফি।
৫: ভোজিনহা ৪০ বছর ৩০ দিন বয়সে মাঠে নেমে চলতি বিশ্বকাপের নকআউটে খেলা পঞ্চম ৪০ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড় হলেন। ২০২৬ সালের আগে ইতিহাসে মাত্র দুজন এমন বয়সে নকআউট খেলেছিলেন।
১৮: ম্যাচে ৮টি সেভ করে মোট ১৮টি সেভ নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে গোলকিপারদের তালিকায় তিনে আছেন ভোজিনহা।
৮: ২০১৪ সালে আলজেরিয়ার রাইস এম’বোলহির পর ভোজিনহার ৮টি সেভ কোনো আফ্রিকান গোলকিপারের সর্বোচ্চ সেভ (এর মধ্যে ৫টি সেভ ছিল মেসির শট থেকে)।

৩: ম্যাচের ১১১ মিনিটে ডিনে বোর্জেসের আত্মঘাতী গোলটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনার ৩য় লেটেস্ট (সবচেয়ে দেরিতে) গোল। ২০১৪ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ডি মারিয়ার (১১৮ মিনিট) গোলের পর এটিই তাদের সবচেয়ে দেরিতে পাওয়া গোল।
৫৩: ২০২৬ বিশ্বকাপে সেট পিস থেকে এখন পর্যন্ত ৫৩টি গোল হয়েছে, যা ১৯৬৬ সালের পর কোনো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।

১২: বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ে এ নিয়ে ১২টি ম্যাচ জিতলো আর্জেন্টিনা। জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে এটিই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত সময় জয়ের রেকর্ড।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন