ট্রাম্পকে কি বার্তা দিলো ইরান?

খামেনির জানাজার মহাকাব্যিক আয়োজন

ট্রাম্পকে কি বার্তা দিলো ইরান?

ফন্ট সাইজ:

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে দুই দেশের পাঁচটি শহর জুড়ে এক সপ্তাহব্যাপী এক বিশাল জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুদ্ধের রেশ না কাটতেই ইরানের এই মহা আয়োজন সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে। ইরান কি শুধুই শোকযাপন করছে? এমনিতেই শিয়া সম্প্রাদয় শোক যাপনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। মহরম মাসজুড়ে মূহ্যমাণ ইরানি শিয়ারা শোকের অভূতপূর্ব প্রদর্শণ করে। তবে শোকের সঙ্গে সঙ্গে তারা কঠোর প্রতিরোধের বার্তাও দেয়। নিজেদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে বিদায় জানাতে মহরম মাসকেই বেছে নিয়েছে ইরান।

শোকসভার এই মহা আয়োজনের মাধ্যমে তেহরান ট্রাম্প ও বিশ্বের কাছে বার্তা দিতে চায় যে, তারা শুধু এই যুদ্ধেই টিকে থাকেনি, বরং তাদের নিহত নেতাকে প্রতিরোধের এক অবিনশ্বর প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। ইরানের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এই আয়োজনে যোগ দিতে কোটির অধিক মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানকে সফল করতে সরকারি কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয়, ফায়ার সার্ভিস, সেনা সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাসহ পুরো রাষ্ট্রীয় শক্তিকে নিয়োজিত করা হয়েছে। এমনকি প্রতিবেশী ইরাক থেকেও লাখ লাখ শিয়া ধর্মাবলম্বী এই জানাজায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বার্তায় জানান, এটি এমন এক মহাকাব্যিক ঘটনা যা পুরো বিশ্বের কাছে ইরানি জাতির মহান আত্মার পরিচয় তুলে ধরবে।

এই শোকসভার টাইমিং বা সময় নির্বাচনও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। খামেনির মরদেহ যখন শায়িত রাখা হয়েছে, তখন আমেরিকা তাদের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে। এছাড়া পুরো আয়োজনটি চলছে ইসলামি মহররম মাসে, যা শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে শোক ও শাহাদাতের প্রতীক। তবে তার এই জানাজাকে সমর্থকরা দেখছেন এক ধরণের বিজয় মিছিল হিসেবে, যা প্রমাণ করে মৃত্যুর পরও খামেনির আদর্শ পরাজিত হয়নি। ইরানের সামরিক কমান্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, জানাজা চলাকালীন যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ বা আগ্রাসনের জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। বিশাল এই জমায়েতের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার জন্য রাজধানী তেহরানে যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করা হয়েছে, বিমানবন্দরগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পঞ্চাশ মিলিয়ন রুটি তৈরির জন্য বিশেষ ভ্রাম্যমাণ বেকারি নামানো হয়েছে। তেহরান ও কোম শহরে জানাজা শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে তার জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হবে। রাশিয়ার দিমিত্রি মেদভেদেভ ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ বেশ কয়েকজন বিদেশি নেতা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। এই বিশাল ও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে তেহরান প্রশাসন ট্রাম্প, ওয়াশিংটন এবং পুরো বিশ্বের কাছে একটি স্পষ্ট ও অবাধ্য বার্তা দিতে চায়।

শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার প্রমাণ: এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বকে এবং একই সাথে ইরানের শত্রুদের দেখানো যে, দুটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধ এবং কয়েক দশকের চরম অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা কেবল টিকেই থাকেনি, বরং তারা এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে অমরত্ব: দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র বিরোধিতা করা এবং দৃঢ়ভাবে মার্কিন-ইসরাইল নীতির অবাধ্য থাকা খামেনিকে মৃত্যুর পরও বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তেহরান প্রমাণ করতে চায় যে, শত্রুরা হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করলেও তার আদর্শকে পরাজিত করা যায়নি, বরং মৃত্যুর পর তিনি প্রতিরোধের এক অবিনশ্বর ধর্মীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

যুদ্ধের মাঝেও শক্তির মহড়া: যুদ্ধের ধকল কাটানোর আগেই পাঁচটি শহর জুড়ে কোটি কোটি মানুষের এই বিশাল সমাগম এবং অভূতপূর্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ইরান তার অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও বিশাল লজিস্টিক ক্ষমতা বিশ্বমঞ্চে প্রদর্শন করছে। রেভ্যুলেশনারি গার্ডসের কমান্ডারদের মতে, এই জানাজা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তির একটি প্রকাশ্য মহড়া। কোনো আপস না করার অনড় অবস্থান: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বার্তা অনুযায়ী, এই জানাজার মাধ্যমে বিশ্বকে স্পষ্ট করে দেয়া হচ্ছে যে, ইরানি জাতি নিপীড়নের মুখে কখনো নীরব থাকবে না এবং তাদের নেতার রক্তের বদলা নেয়া থেকে পিছপা হবে না। আমেরিকার সাথে চলমান আলোচনার খবরের চেয়েও খামেনির এই স্মরণসভাকে গণমাধ্যমে প্রধান করে তোলার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি চরম অবাধ্যতার অবস্থানটিই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

Fi Amanillah

১ ঘন্টা আগে

Allah Khamenike Behesto Nosib Karon

মন্তব্য করুন