সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার পাকিস্তানের অধিকারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ‘সন্ত্রাসী আস্তানা’গুলোকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বিত স্থল ও বিমান অভিযান চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা বলেছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সন্ত্রাসীদের হাতে পাকিস্তানের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার। একই সঙ্গে তারা পুনর্ব্যক্ত করে যে, সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার পাকিস্তানের অধিকারকে ওয়াশিংটন সমর্থন করে।
এই মন্তব্য আসে পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’-এর আওতায় পরিচালিত গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক একাধিক অভিযান ও নির্ভুল হামলায় ২৯ জন জঙ্গি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, ২৯ জুন নিরাপত্তা বাহিনী প্রথমে বাজাউর জেলায় একটি সুপরিকল্পিত গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করে। এতে ভারতের মদদপুষ্ট বলে পাকিস্তানের দাবি করা জামাত-উল-আহরার এবং ফিতনা আল-খাওয়ারিজ-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার জঙ্গি নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে উচ্চ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত কমান্ডার খান ফারোশ, ওরফে জাবাল ছিলেন। তারার আরও বলেন, ওই অভিযানের পর ২৮ ও ২৯ জুন রাতভর সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী শিবির ও আস্তানার বিরুদ্ধে নির্ভুল হামলা চালানো হয়। পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে অবস্থিত তিনটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়। এসব হামলায় আরও ২৫ জন জঙ্গি নিহত হয়।
তিনি বলেন, লক্ষ্যবস্তুতে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও অভিযানে ধ্বংস করা হয়েছে। ফেডারেল সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান এবং করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্স (সিন্ধু)-এর একটি ক্যাম্পে হামলাসহ পাকিস্তানের ভেতরে সংঘটিত একাধিক সন্ত্রাসী হামলার জবাব হিসেবে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়।
এদিকে ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বেলুচিস্তান সীমান্ত দিয়ে আফগান তালেবান পাঠানো চারটি প্রাথমিক ধরনের ড্রোনও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভূপাতিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নন-ন্যাটো মিত্রদের অন্যতম পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ডনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে উন্নত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টায়ও ইসলামাবাদ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালানো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ডে নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে।
