ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি তার প্রয়াত পিতার দাফন ও জানাজায় সশরীরে উপস্থিত হবেন কি না, তা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় শুরু হওয়া এই সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রাখা হলেও মোজতাবা খামেনির প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা। মার্কিন ও ইসরাইল যৌথ বিমান হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। ওই হামলার পর মোজতাবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও তিনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি।
উক্ত হামলায় তিনি নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রকাশ্যে না আসার পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরাইল প্রশাসনের অনবরত হত্যার হুমকি এবং হামলার কারণে তৈরি হওয়া তার শারীরিক জটিলতা। মোজতাবা খামেনির নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জানাজা অনুষ্ঠান চলাকালীন যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ এড়াতে তারা ওয়াশিংটন ও ইসরাইল প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই শোকের দিনগুলোতে যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ বা আগ্রাসনের ফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। এই রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে আলী খামেনির পাশাপাশি তার বড় মেয়ে, জামাতা, ১৪ মাস বয়সী এক নাতনি এবং মোজতাবা খামেনি স্ত্রীর কফিনও রাখা হয়েছে, যারা সকলেই ওই একই হামলায় প্রাণ হারান। ইরানের বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা কফিনে শ্রদ্ধা জানালেও নতুন সর্বোচ্চ নেতা শেষ পর্যন্ত বাবার জানাজায় সামনে আসবেন কি না, তা জানতে পুরো বিশ্ব নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।
