লিডোর তরুণ সাংবাদিকদের নিয়ে নেটওয়ার্ক গ্রুপের সূচনা

লিডোর তরুণ সাংবাদিকদের নিয়ে নেটওয়ার্ক গ্রুপের সূচনা

ফন্ট সাইজ:


সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনতে নতুন একটি ‘নেটওয়ার্ক গ্রুপ’ গঠন করেছে লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো-LEEDO)।

বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক গ্রুপটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এটি লিডোর ‘ইয়াং জার্নালিস্ট চেঞ্জমেকার’ প্রকল্পের অন্যতম কার্যক্রম।

এই বিশেষ গ্রুপে লিডোর তরুণ সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকর্মী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুরক্ষা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে এই নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে লিডোর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, “সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের বাস্তবতা সমাজের সামনে তুলে ধরতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে লিডোর এই তরুণ সাংবাদিকরাই তাদের লেখনী ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। এই নেটওয়ার্ক নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা এবং সামাজিক অ্যাডভোকেসিকে আরও শক্তিশালী করবে।”

তিনি আরও বলেন, শিশু অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈষম্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জনসমক্ষে যথাযথভাবে তুলে ধরতে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যেই ‘ইয়াং জার্নালিস্ট চেঞ্জমেকার’ উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক সাংবাদিকতায় দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী আবুল বাশার, লিডোর ফাইন্যান্স ডিরেক্টর মুনিরা কান্তা, নাট্যকর্মী নামিমা নাসরিন, সমাজকর্মী আনোয়ারুল করিম এবং মো. হারুন অর রশিদ। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, সময় টিভি ও যমুনা টিভির সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, সমাজের বাস্তবতা, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার এবং মানুষের জীবনসংগ্রাম যথাযথভাবে তুলে ধরতে তরুণ সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

অংশগ্রহণকারীরা শিশু অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

আয়োজকরা জানান, গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে লিডো পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা, পুনর্বাসন এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তরুণ সাংবাদিকদের জন্য একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তাদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্ম গণমাধ্যম, উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ উদ্যোগ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অ্যাডভোকেসির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন