লন্ডনের বাজারে জমজমাট ইফতারি কেনাকাটা, যেন এক টুকরো বাংলাদেশ

লন্ডনের বাজারে জমজমাট ইফতারি কেনাকাটা, যেন এক টুকরো বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ইফতারি বাজারে এখন জমে উঠেছে রমজানের আমেজ।রমজানকে কেন্দ্র করে লন্ডনের এই বৈচিত্র্যময় বাজারগুলো যেন পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়, যেখানে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি ফুটে উঠছে বহুসাংস্কৃতিক ঐক্যের চিত্র। হোটেল রেস্তোরাঁর পাশাপাশি রাস্তার পাশে বাইরে অস্থায়ী দোকানগুলোতে বসেছে বৈচিত্রময় ভিন্নধর্মী ও অভিজাত আয়োজনে বাহারি ইফতারির পসরা।
পূর্ব লন্ডনের আশপাশে প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই বাহারি সব ইফতারি সামগ্রী কিনতে ভিড় বাড়ছে রোজাদারদের। রমজান এলেই লন্ডনের এই এলাকাগুলো যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়। বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস্ সহ বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে ইফতার বাজারে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয়দের পাশাপাশি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও ভিড় করছেন ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে। পুরো রমজান জুড়েই এমন জমজমাট বেচাকেনা থাকবে। সব মিলিয়ে লন্ডনের ইফতারি বাজার এখন শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং প্রবাসী মুসলিমদের মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।

স্থানীয় বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীরা জানান, রোজাদারদের চাহিদা মেটাতে দোকানে রাখা হয়েছে খেজুর, বেগুনি, পেঁয়াজু, ছোলা, সামুচা, হালিমসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী ইফতারি। পাশাপাশি আরবি মিষ্টান্ন, তুর্কি বাকলাভা এবং বিভিন্ন ফলমূলেরও চাহিদা বেড়েছে। তবে বাংলাদেশিদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে জিলাপি। জিলাপি ছাড়া ইফতার যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

নানা স্বাদের দেশীয় খাবারে মুখরিত ইফতার আইটেম নিয়ে প্রবাসীরা জানালেন উচ্ছাসের বার্তা । ইফতারি আইটেম নিয়ে ক্রেতারা বলেন, ইফতরি বাজার শুধু ইফতারি কেনার ক্ষেত্রই নয় এখানে প্রবাসীরা খুঁজে পান দেশের আমেজ। প্রবাসে থেকেও যেন একটু দেশের ছোঁয়া তাদের মনে প্রশান্তির বার্তা দিয়ে যায় । প্রবাস জীবনে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ না থাকলেও বাজারের এই প্রাণচাঞ্চল্য তাদের দেশে থাকার অনুভূতি এনে দেয়। অনেকেই বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে বাইরে ইফতার করছেন।
ইফতারি ক্রয় করে শুধু ক্রেতারাই তৃপ্ত নয় এবার বিক্রেতাদের আগ্রহও অনেক , আগের বছরের তুলনায় এবার বিক্রিও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। ব্রিকলেনের এক ব্যবসায়ী শাহীন আলম বলেন, “রমজান এলে আমাদের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। বিশেষ করে সপ্তাহান্তে ক্রেতাদের চাপ অনেক বেশি থাকে। অনেক রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেও ইফতার স্পেশাল মেনু চালু করেছে, যেখানে নির্দিষ্ট মূল্যে ইফতার প্ল্যাটার পরিবেশন করা হচ্ছে।
ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁও রেস্টুরেন্টের পরিচালক আলম বলেন , সারা বছর রমজান মাসের জন্য অপেক্ষা থাকে ব্যবসায়ীরা। ইফতারি বিক্রি করে মুনাফা অর্জনই শুধু উদ্দেশ্য নয় পাশাপাশি বাংলাদেশিদের একটি মিলন মেলার আয়োজন হয়। দেশের একটি আমেজ ও ঐতিহ্য খুঁজে পান সবাই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন