কারণ জানালেন নিখোঁজ মার্কিন কংগ্রেসম্যান

চার মাস রহস্যময় অনুপস্থিতি

কারণ জানালেন নিখোঁজ মার্কিন কংগ্রেসম্যান

ফন্ট সাইজ:

চার মাসেরও বেশি সময় রহস্যজনকভাবে ‘নিখোঁজ’ ছিলেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান টম কিন। অবশেষে তিনি প্রকাশ্যে এসেছেন। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই দায়িত্ব থেকে অনুপস্থিত থাকা রিপাবলিকান এই কংগ্রেসম্যান জানিয়েছেন, তিনি বিষণ্নতার (ডিপ্রেশন) চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার কাজে ফিরে প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিউ জার্সির এই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বলেন, আমার বিষণ্নতা ধরা পড়ে। এটি একটি শারীরিক এবং মানসিক অসুস্থতা। আপনি নিজে এ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে না গেলে, এই রোগ কতটা শক্তিশালী ও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, তা পুরোপুরি বোঝা কঠিন।

এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, ৫৭ বছর বয়সী টম কিন বর্তমানে তৃতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিউ জার্সিতে তার নির্বাচনী আসনটি নিয়ে রিপাবলিকান নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ আসনটি আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের দখলে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার ১৪২ দিনের অনুপস্থিতির সময়ে তিনি ১৪০টিরও বেশি ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পারেননি। এতে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়। প্রতিনিধি পরিষদে দেয়া বক্তব্যে টম কিন জানান, কয়েক মাস আগে স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের কারণে তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন তিনি ভাবেননি, সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় থাকতে হবে। তিনি বলেন, পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার বিষণ্নতা শনাক্ত করেন এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য হাসপাতালে থেকেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। টম কিন বলেন, অনেকে মনে করেন, বিষণ্নতা মানেই শুধু দুঃখবোধ। কিন্তু বিষণ্নতা এর চেয়ে অনেক বেশি জটিল একটি অসুস্থতা।

গত মাসের শুরুতে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। এর আগে নিজের দীর্ঘ অনুপস্থিতি সম্পর্কে তিনি খুব সীমিত তথ্য দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি শুধু এটিকে ব্যক্তিগত চিকিৎসাসংক্রান্ত সমস্যা বলে উল্লেখ করেছিলেন। তার কয়েকজন সহকারী, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে তারাও ব্যক্তিগতভাবে অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ জানতেন না, তারা শুধু এতটুকু বলেছিলেন যে- টম কিন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। রিপাবলিকান দলের অনেক নেতাই তার অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্বচ্ছতা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

টম কিন যে আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেটি নিউ জার্সির একটি ‘সুইং ডিস্ট্রিক্ট’ হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ, প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই এই আসনটি রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের মধ্যে হাতবদল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন কংগ্রেসে কোন দলের ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রিপাবলিকানদের জন্য টম কিনের আসন ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ডেমোক্রেটরা তাকে পরাজিত করে আসনটি নিজেদের দখলে নিতে চায়, যা কংগ্রেসে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও একটি রাজনৈতিক ধাক্কা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন