৬ দিন পর ভেনেজুয়েলার ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু

অলৌকিক!

৬ দিন পর ভেনেজুয়েলার ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু

ফন্ট সাইজ:

বিস্ময়কর! অলৌকিকও বলা যেতে পারে। ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল। ভিডিওতে দেখা যায়, যখন শিশুটিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হচ্ছে তখন উদ্ধারকর্মীরা উল্লাস করছেন। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শিশুটির নাম ক্লেইবার মোরান বলে জানিয়েছেন। উদ্ধার অভিযানটি পরিচালিত হয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে। ডেলসি রদ্রিগেজ শিশুটির উদ্ধারকে ‘আশার এক মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন। এ খবর বলা হয়েছে অনলাইন বিবিসি। এদিকে জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশটিতে হাজার হাজার মানুষের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও আশ্রয়ের প্রয়োজন।

গত সপ্তাহে রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৪৩। আহত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। এছাড়া আরও হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ক্লেইবার মোরানকে উদ্ধার করার পর ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বর্তমানে রাজধানী কারাকাসে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার অনেক পর শিশুটির উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরায় অনেক স্থানীয় বাসিন্দা নিজেরাই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) মঙ্গলবার জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় খাদ্যসংকট ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। মৌলিক সেবাগুলো ভেঙে পড়েছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ভূমিকম্পের সময় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত হওয়া লা গুয়াইরার ১৮ বছর বয়সী হকার দানিয়েলা আরমাস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু কখনো কখনো মানুষ খাবারের জন্য প্রায় একে অপরকে মেরে ফেলতে উদ্যত হয়। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের জন্য সুরক্ষা, জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।

ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন, টিকাদানের হার কম থাকায় হাম, ডিপথেরিয়ার মতো টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়েছে। নাসা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, ক্লেইবার মোরানের উদ্ধার প্রমাণ করেছে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো জীবিত মানুষ থাকার আশা রয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং আরও কয়েক ডজন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জীবিতদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন