প্রথম আলো
‘নজরদারি শিথিল, সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা উগ্রপন্থীদের’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার একটি বাড়িতে গত ২৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নামে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়িটির চারপাশের দেয়াল ও ছাদের একাংশ ধসে পড়ে।
পরে ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে ছিল হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, এসিটোন, নাইট্রিক অ্যাসিড এবং প্রায় ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক। এ ছাড়া কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো নয়টি তাজা বোমাও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা আইএস–মতাদর্শী উগ্রপন্থী সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য। তাঁদের মধ্যে শেখ আল আমিন, অলি উল্লাহ জনি ও শাহীন ওরফে আবু বকর অতীতেও উগ্রবাদী তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
কেরানীগঞ্জের ওই বিস্ফোরণের পর চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া আরও তিনটি ঘটনার সঙ্গে এই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে তল্লাশির সময় পুলিশের ওপর হামলা করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। পালানোর সময় দুর্বৃত্তদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে কয়েকটি বোমা উদ্ধার করা হয়। সেই বোমার সঙ্গে কেরানীগঞ্জে উদ্ধার করা বোমার মিল পাওয়া গেছে। এরপর গত মার্চে রাজধানীর সায়েদাবাদের জনপথ মোড় এলাকায় পুলিশের তল্লাশির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। একই মাসে কুমিল্লা শহরের একটি শিবমন্দিরেও বিস্ফোরণ হয়। এসব ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে পুলিশ।
যাত্রাবাড়ীতে পুলিশকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা, সায়েদাবাদ ও কুমিল্লায় বিস্ফোরণের ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কেরানীগঞ্জের ঘটনায় যুক্ত শেখ আল আমিনের ঘনিষ্ঠ দুজনকে শনাক্ত করে পুলিশ। তাঁরা হলেন নাজমুল হাসান মামুন ও মোহাম্মদ আরিফ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তিনটি ঘটনাতেই এই দুজনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণের আগের রাতে আল আমিন বোমা তৈরি করেছিলেন। তৈরি করা বোমাগুলো আলাদা কক্ষে সরিয়ে রাখেন। কোনো এক অসতর্ক মুহূর্তে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আল আমিন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান আহত হন। স্ত্রী ও সন্তানকে হাসপাতালে রেখে আল আমিন পালিয়ে যান। তিনি নাজমুল হাসান মামুনের সাভারের বাসায় আশ্রয় নেন। সেখান থেকে ঢাকার দোলাইরপাড়ে মোহাম্মদ আরিফের বাসায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই বাসা থেকেই আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে আরিফ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠনের অনেক সদস্য কারাগার থেকে পালিয়ে যান। অনেকে জামিনেও মুক্ত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর নব্য জেএমবির এই দল বোমা ও বিস্ফোরক মজুত করা শুরু করে। কেরানীগঞ্জের বিস্ফোরণের ঘটনায় বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরবর্তী সময়ে আরও দুটি বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এই উগ্র গোষ্ঠীকে নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়।
যদিও কেরানীগঞ্জের বিস্ফোরণের মামলায় গ্রেপ্তার শেখ আল আমিন ও অলি উল্লাহর অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিচারও চলছে। ফলে এ ধরনের ঘটনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেও জানান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা।
কেরানীগঞ্জের বিস্ফোরণের পর আইএস মতাদর্শী উগ্রপন্থী এই গোষ্ঠী আবার সংগঠিত হওয়ার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে কিছুটা তৎপরতা দেখা গেলেও এখন এ বিষয়ে নজরদারি একেবারেই শিথিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা।
উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে পুলিশের দুটি বিশেষায়িত ইউনিট—অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এই দুই ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, উগ্রবাদী তৎপরতা পর্যবেক্ষণে খুব একটা নজরদারি নেই। তাঁদের ভাষ্য, সরকারের পক্ষ থেকে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কী ধরনের কৌশল বা অগ্রাধিকার অনুসরণ করতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর অনলাইন কার্যক্রম, সন্দেহভাজন সদস্যদের চলাচল, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের তৎপরতা এবং বিদেশি উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার কথা। সেটা না থাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর সদস্যরা আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে কি না বা তাদের অন্য কোনো তৎপরতা আছে কি না, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে স্পষ্ট কোনো চিত্র নেই।
কেরানীগঞ্জে উদ্ধার হওয়া বোমা ও বিস্ফোরক কেন মজুত করা হয়েছিল, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। যদিও শুরুতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছিল বলে তখন একাধিক সূত্র দাবি করেছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার এবং সাভার থানায় মামলা করার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে বিব্রত হতে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণে অনেক কর্মকর্তা এখন উগ্রবাদবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী নন। এ ধরনের বিষয়ে কাজ করলে বা কোনো পদক্ষেপ নিলে সেটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়—এমন আশঙ্কায় অনেকেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
এসব বিষয়ে পুলিশের বিশেষায়িত দুই সংস্থার কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে এটিইউর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো শাফকাত মুনির প্রথম আলোকে বলেন, সহিংস উগ্রবাদ এখন সারা পৃথিবীতেই গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি। বাংলাদেশে বর্তমানে পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় হয়তো ভালো। তবে সহিংস উগ্রবাদ ও উগ্রবাদী হুমকিকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে হলে বিশেষায়িত সংস্থা ও বাহিনীগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে উগ্রবাদ দমনের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পুরস্কার ঘোষিত সেই ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী কোথায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নব্বইয়ের দশকে ঢাকায় কিলিং মিশন বাস্তবায়ন, কোটি টাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আর পাড়া-মহল্লায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। অনেকে আবার ভাড়াটে খুনি হিসাবেও কাজ করত। সে সময় পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল ঢাকার কয়েকটি এলাকা। অপরাধজগতের সেই আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিতে ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা ঘোষণা করে। তাদের ধরতে লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় সরকার। ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়ও ওঠে অনেকের নাম।
ওই তালিকা প্রকাশের পরই আন্ডারওয়ার্ল্ডে ভয়ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তখন কেউ বিদেশে পাড়ি জমান, কেউবা পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। আত্মগোপনেও চলে যান কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। তবে তাদের কার্যক্রম থেমে থাকেনি। দুই যুগের বেশি সময় পরও তাদের উত্তরসূরিদের নিয়ন্ত্রেণেই আছে ঢাকার আন্ডারওয়াল্ড। ফলে এখনো তারাই আলোচনায়। অনেক এলাকায় তাদের ছত্রছায়ায়, আবার কোথাও কোথাও তাদের নাম ভাঙিয়ে চলছে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। অনেক ক্ষেত্রে শীর্ষ সন্ত্রাসীরাই সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের তাদের নামে রিপোর্ট করতে উৎসাহিত করেন। কারণ আলোচনা হলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং এতে তাদের চাঁদার পরিমাণ বেড়ে যায় বলে আলোচনা আছে। সম্প্রতি ওই তালিকায় দুই নম্বরে নাম থাকা খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন গুলিতে নিহত হওয়ার পর ফের আলোচনায় সেই ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী। এ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তালিকার ১৬ নম্বরে নাম থাকা পিচ্চি হেলালের বিরুদ্ধে। এর মধ্য দিয়ে আবার ফিরেছে সেই পুরোনো আতঙ্ক। সময়ের ব্যবধানে ঢাকার অপরাধ জগতের খোলনলচে বদলে গেছে। কিন্তু সেই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের উত্তরসূরিরা এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আন্তঃকোন্দলে একের পর এক ঘটছে খুনের ঘটনা। তাদের কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অনেকটা অসহায়-এমনটাই মনে করছেন সাধারণ জনগণ।
সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকেই কারামুক্ত হয়েছেন। তাদের কেউ দেশে, আবার কেউ বিদেশে সক্রিয় রয়েছেন। দেশে অবস্থানকারীরা আন্তঃকোন্দলে একের পর এক খুন হচ্ছেন। তালিকায় থাকা ২৩ সন্ত্রাসীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশে পলাতক আছে ১১ জন, জামিনে মুক্ত ৪ জন। এছাড়া পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ এবং স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এর বাইরে এখনো কারাগারে আছে ৩ জন। দায়িত্বশীলরা বলছেন, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের যারা দেশ ছেড়েছেন তাদের বিষয়ে তেমন তথ্য নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। কিন্তু যারা জামিনে তারা নজরদারিতে আছেন।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ওই তালিকার দুই-চারজন দেশে আছে। আমরা চেষ্টা করি তাদের খোঁজখবর রাখার জন্য। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে অবশ্যই তো তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কেউ যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে, তবে সেটা তার ও দেশের জন্য মঙ্গল’। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেওয়া বা তাদের জামিন পাওয়া রাষ্ট্রের হঠকারী সিদ্ধান্ত। বিচারকার্য শেষ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটি করা হয়েছে, যার ফলে সামগ্রিক সমাজব্যবস্থা এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা এখন হুমকির সম্মুখীন। এর জন্য যারা দায়ী, তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব তাদের পুনরায় গ্রেফতারের পর বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই আটকে রাখা।
জানা গেছে, ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ জন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করে। ঢাকার মোস্ট ওয়ান্টেড ওই সন্ত্রাসীরা হলো-কালা জাহাঙ্গীর, খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন, সোহেল ওরফে ফ্রিডম সোহেল, খন্দকার তানভীর ইসলাম ওরফে জয়, হারিস আহমেদ ওরফে হারেস, খোরশেদ আহমেদ ওরফে রাসু, ইমাম হোসেন, প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, জব্বার মুন্না, আব্বাস ওরফে কিলার আব্বাস, কামাল পাশা ওরফে পাশা, আরমান, মোল্লা মাসুদ, মশিউর রহমান কচি, ত্রিমতি সুব্রত বাইন, ইমামুল হোসেন ওরফে হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, মোহাম্মদ হান্নান ওরফে পিচ্চি হান্নান, এম আলাউদ্দিন, লিয়াকত, কামরুল হাসান ওরফে হান্নান, শামীম আহমেদ ওরফে আগা শামীম, জাফর আহমেদ ওরফে মানিক ও আমিনুর রসুল সাগর ওরফে টোকাই সাগর। সূত্র বলছে, ওই সময় অপরাধীরা এতটাই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে যে, থানা-পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল ঢাকার রমনা, নিউমার্কেট, মিরপুর ও ধানমন্ডি এলাকা। তালিকা প্রকাশের উদ্দেশ্য ছিল অপরাধীদের কোণঠাসা করা এবং পুলিশের সরাসরি অ্যাকশনে যাওয়ার আইনি ও রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়া।
কালের কণ্ঠ
‘চাকা ঘুরছে না ৫৫০ কারখানায়’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বছরের পর বছর অপেক্ষার পরও মিলছে না গ্যাস সংযোগ। ডিমান্ড নোটের টাকা পরিশোধ করেও উৎপাদনে যেতে পারছে না সাড়ে পাঁচ শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
এতে গ্যাস সংযোগের দীর্ঘসূত্রতায় চরম সংকটে পড়েছে দেশের শিল্প খাত। প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ করে এরই মধ্যে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়ে গ্যাস সংযোগের জন্য চার-পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষায় রয়েছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেও তারা পাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস সংযোগ। শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিনের এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা না গেলে দেশের শিল্পায়নের গতি আরো মন্থর হয়ে পড়বে এবং বিনিয়োগ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশের বিভিন্ন গ্যাস বিতরণ কম্পানির কাছে শিল্প খাতে নতুন সংযোগের জন্য বর্তমানে এক হাজার ৮০০টিরও বেশি আবেদন জমা রয়েছে। কিন্তু গ্যাসসংকট ও নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বেশির ভাগ আবেদনই বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে।
এর ফলে নতুন কারখানা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক উদ্যোক্তার স্থাপনা প্রস্তুত থাকলেও উৎপাদন শুরু করতে না পারায় ব্যাংকঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক চাপ বাড়ছে। এতে নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহ হচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও একই চিত্র। শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে গড়ে তোলা এসব অঞ্চলের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করেও গ্যাস সংযোগের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না। এতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
ডিমান্ড নোটের অর্থ জমা দিয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষমাণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সংযোগ দেওয়া এবং একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া বর্তমান সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবি, সংযোগের জন্য নির্ধারিত ডিমান্ড নোটের অর্থ পরিশোধের পরও বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে, অথচ কবে সংযোগ মিলবে সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হচ্ছে না। এই অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিচালনা এবং নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলছে।
গ্যাস বিতরণ কম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়িয়েই বিপুলসংখ্যক শিল্প সংযোগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ডিমান্ড নোট বাবদ শত শত কোটি টাকা আদায় করা হলেও বহু প্রতিষ্ঠান আজও সংযোগ পায়নি। ফলে ব্যাংকঋণ নিয়ে কারখানা নির্মাণ করা অনেক উদ্যোক্তা উৎপাদনে যেতে না পেরে ঋণখেলাপির ঝুঁকিতে পড়েছেন।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন ডিভিশন) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে তিতাসের কাছে ডিমান্ড নোট পরিশোধ করা প্রায় ৪৯০টি প্রতিষ্ঠান গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে শুধু তিতাসেই নতুন সংযোগের জন্য আরো প্রায় এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০টি আবেদন জমা রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এসব আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি বলেন. ‘এসব আবেদন ও তালিকা এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি পুরোপুরি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। মন্ত্রণালয় যাদের অনুমোদন দেবে আমরা তাদেরই সংযোগ দেব।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকি নিয়ে শুরু হলো জুলাই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাড়ে তিন মাস ধরে সংক্রমণ ভীতি ছড়িয়ে যাচ্ছে হাম। টিকাসহ নানা উদ্যোগেও কমছে না এই রোগের প্রকোপ। এর মধ্যেই আবার চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। শুধু জুনেই রোগী হয়েছে চার গুণ। মৃত্যুও বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু মোকাবিলায় লক্ষ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণের তাগিদ দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এখনই পদক্ষেপ না নিলে জুলাইয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে ডেঙ্গু। আর জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে না পারলে মৃত্যু আরও বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে ১ জন এবং জুনে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জুনেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা ২ হাজার ৯০৭। মে মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭১৪, অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা প্রায় চার গুণ হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮০ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ১০৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৮ জন।
উদ্বেগজনক এ পরিস্থিতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশারের সঙ্গে কথা বলেছে সমকাল। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়বে। জুলাই ও আগস্টে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এবার ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে সংক্রমণ বেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আসছেন। দীর্ঘ সময় যাতায়াতের কারণে রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা ও প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে সব রোগীকেই রাজধানীতে আসতে না হয়।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং কার্যকর নয় বলেও মন্তব্য করেন ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে সেখানে লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। এভিডেন্সভিত্তিক লক্ষ্য-নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ নিতে হবে।
বর্তমানে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি প্রকোপ বরিশাল বিভাগে। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬২৯ জন। চট্টগ্রামে ১ হাজার ১৪০ ও খুলনায় ৭০১ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঢাকার দক্ষিণ সিটিতে সংক্রমণ বেশি। দক্ষিণে ৮৭১ জন ও উত্তরে ৫৩২ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
ইত্তেফাক
‘১৫ হাজারের বেশি স্কুলে নেই খেলার মাঠ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আজিজুল হক। এই পরিবারে দুটি শিশু আছে। একটির বয়স ১১ বছর, অন্যটির ১৩ বছর। ১৩ বছর বয়সি শিশুটির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সে সারা দিন ডিজিটাল ডিভাইস স্মার্টফোন নিয়ে কেন পড়ে থাকে। জবাবে বলল, ‘আমি খেলতে চাই। কিন্তু মাঠ পাব কোথায়?’ ১১ বছর বয়সি শিশুটির কাছে জানতে চাওয়া হয়, মোহাম্মদপুর থানাটি কোন জেলায় অবস্থিত? জবাবে সে স্মর্টফোন হাতে নিয়ে বলে, ‘দেখি গুগল কী বলে?’ গুগলে সার্চ দিয়ে বলল, ঢাকা জেলায় অবস্থিত। শিশু দুটির বাবা আজিজুল হক বলেন, তার সন্তান দুটি মোহাম্মদপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। কিন্তু ঐ স্কুলে কোনো খেলার মাঠ নেই। আজিজুলের বাসার আশপাশে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে নেই কোনো খেলার মাঠ। ফলে তার দুই সন্তানের প্রচুর আগ্রহ থাকলেও খেলার কোনো সুযোগ নেই। মিরপুরের কাজীপাড়ায় বসবাসকারী রবিউল আলমের ৯ বছর বয়সি শিশুটি খেলার মাঠ না পেয়ে এখন মোবাইল, ট্যাব ও স্মার্ট টিভিতে বেশির ভাগ সময় অতিবাহিত করছে। বেলা ১২টার দিকে এই শিশুটির কাছে প্রশ্ন ছিল, তোমার এখন কী করা উচিত। জবাবে বলল, ‘চ্যাটজিপিটির (একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট) কাছে শুনে জানাচ্ছি।’
জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় বাধ্যতামূলক থাকলেও ঢাকাসহ সারা দেশে ১৫ সহস্রাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই কোনো খেলার মাঠ। রাজধানী ঢাকায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে শতকরা ৯৫ ভাগের বেশি প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। একাধিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, এসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৮ ভাগেরই নিজস্ব খেলার মাঠ নেই। ছোট পরিসরে, গ্যারেজে বা ছাদে গড়ে উঠেছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সব বিভাগীয় শহরে প্রায় ৪০ ভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নেই খেলার মাঠ। দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৬। অর্ধেকের বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৭২ দশমিক ২৬ শতাংশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠ থেকে বঞ্চিত। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে থাকা ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৫২টিতেই কোনো খেলার মাঠ নেই।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকতে হবে খেলাধুলার সুযোগ, উন্মুক্ত মাঠ। খেলাধুলা ছাড়াও সমাবেশ আয়োজন ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে পাঠদানের জন্য প্রয়োজন হয় একটি সুন্দর মাঠের। কোনো প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার মাঠ বা সুযোগ না থাকলে তাকে পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলা যায় না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার মাঠ নেই। খেলার মাঠের অভাবে শিশুরা ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্ত হচ্ছে। তাদের মানসিক, মেধা ও সৃজনশীল বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।’ ঢাকার বহু পরিবারের মা-বাবা এখন মাঠ না থাকা সন্তানদের ভবিষ্যত্ নিয়ে চিন্তায় আছেন।
জানা গেছে, ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ, ক্রীড়া, খেলাধুলা ও শরীরচর্চার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এদিকে দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং তা সব শিশু-কিশোরের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বর্তমান সরকার। গত ২৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শেষে এবং ছুটির দিন এসব মাঠ আশপাশের ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার জন্য খুলে দিতে হবে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এটি একটি অপরিহার্য শর্ত। কিন্তু এই শর্ত যারা পূরণ করছে না, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা চোখে পড়ছে না। যেসব স্কুলে খেলার মাঠ রয়েছে, এমন পাঁচটি স্কুলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিকালে স্কুল ছুটি হওয়ার খেলার মাঠ তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে রাজধানীসহ সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকান গড়ে উঠেছে। খেলার মাঠ না থাকায় এসব রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া ও আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অনেক সময় এসব প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি হয়। অনেক জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়াল ঘেঁষে বা আশপাশের দোকানে সিগারেট ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি ও প্রচার করা হয়। যদিও শিক্ষাঙ্গনের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু অনেকে এই নিষেধাজ্ঞা মানছেন না।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘মালয়েশিয়ার ২ মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি, শ্রমবাজার খোলার ঘোষণা আসছে’। খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়ার দু’জন মন্ত্রীকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী মো: আরিফুল হক চৌধুরী।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর শেষ হওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী দেশে ফিরে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সফরের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন। তবে গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে তাদের সফরের বিষয়টি বাংলাদেশ হাইকমিশন ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে চূড়ান্ত করা হয়নি।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সোমবার এ প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে এক জায়গায় বলা হয়েছে, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় উভয় দেশ অ্যাগ্রি করেছে। কী কী বিষয়ে অ্যাগ্রি করা হয়েছে সেগুলো সেটেল করার জন্য মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এর আগে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত এমওইউতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেই অনুযায়ী গত বছর জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী এবার মালয়েশিয়াতে হওয়ার কথা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির সভাপতি থাকেন পদাধিকার বলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। ওই দেশের লেবার মিনিস্ট্রির সচিব। তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কী কী সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সেগুলো নিয়েই পরবর্তীতে ফরেন ওয়ার্কার্স কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর শ্রমবাজার খোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। এটাই নিয়ম। তিনি আরো বলেন, আমাদের বিশ্বাস এবার মালয়েশিয়া সরকার মার্কেট খুলবে, শ্রমিকও নেবে।
সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, চলতি মাসের মধ্যে (জুলাই) মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার আনুষ্ঠানিকভাবে খোলার সুখবর আসবে। এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করতেই পারেন। তবে শ্রমিক আমদানিকারক দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া যদি চায় তাহলে দ্রতই শ্রমবাজার খুলে যাবে। তার মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে যেসব বাধা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বাধা হচ্ছে মামলা জটিলতা। এগুলো দ্রুত শেষ হলেই মনে হয় শ্রমবাজার খোলার ঘোষণা যেকোনো সময় আসতে পারে। ইতোমধ্যে ডিবির তদন্তে মানবপাচার ও মানিলন্ডারিং মামলা থেকে সম্প্রতি সবাইকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। তবে একই মামলায় অপর একটি ধারায় ৫২ জনকে অব্যাহতির আবেদন এবং ৫১ জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের নাম উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এসব নামের মধ্যে কিছু এজেন্সির মালিক ফ্যাসিস্ট রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তাদের নামে আরো অনেক মামলা রয়েছে।
এই বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, মালয়েশিয়া সরকার চাচ্ছে শ্রমবাজার সংক্রান্ত মামলাগুলো যাতে দ্রুত শেষ করা হয়। কারণ এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত মালয়েশিয়ার নাম উল্লেখ করে একেক সময় দেশী-বিদেশী সংবাদপত্রে একেক রকম প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে। এতে মালয়েশিয়া সরকার খুবই বিব্রতবোধ করছে।
মালয়েশিয়ার দুই মন্ত্রীর সফর করার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি এখন পজিটিভভাবে এগোচ্ছে। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর শেষ করে ঢাকায় ফিরে দু’দিন পরই মালয়েশিয়ার হিউম্যান রিসোর্স মিনিস্টার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঢাকায় আসার অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছেন। তবে এখনো তাদের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়কে কিছু জানানো হয়নি। সবকিছু ঠিক থাকলে সফরের তারিখ এক দিনেই চূড়ান্ত হতে পারে। তবে মালয়েশিয়া থেকে দুই মন্ত্রী ঢাকায় এসে বৈঠকের পর শ্রমবাজার খোলার ঘোষণা আসবে নাকি ফিরে যাওয়ার পর ঘোষণা দেয়া হবে সেটি এখন অপেক্ষার বিষয়।
বণিক বার্তা
‘ঢাকায় কিলোমিটারপ্রতি ৬.২৭ টাকা যানজট শুল্ক আরোপের প্রস্তাব’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার যানজট কমাতে কিলোমিটারপ্রতি ৬ দশমিক ২৭ টাকা হারে যানজট শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে এ শুল্ক সব সড়কে নয়, শুধু মেট্রোরেল, বিআরটি (বাস র্যাপিড ট্রানজিট) কিংবা উন্নত বাস পরিষেবা সুবিধাসম্পন্ন সড়কে কার্যকর হবে। যানজট শুল্ক আদায় করা হবে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ট্রাক থেকে। বৃহত্তর ঢাকাকে ঘিরে ২০ বছরের জন্য (২০২৫-২০৪৫) প্রণয়নাধীন হালনাগাদকৃত সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (ইউআরএসটিপি) যানজট শুল্ক আরোপের এ সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এতে বলা হয়েছে, যানজট শুল্ক কার্যকরের আগে অবশ্যই বিকল্প হিসেবে নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বর্তমানে যানজট শুল্ক আরোপের উপযোগী একটি করিডোর রয়েছে ঢাকায়। সেটি হলো উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল করিডোর। চালু থাকা এ মেট্রোর বাইরে ঢাকায় বর্তমানে আরো দুটি মেট্রোরেল প্রকল্প চলমান। একই সঙ্গে পরিকল্পনাধীন আছে আরো তিনটি মেট্রোলাইন। এ ছয় মেট্রো লাইনের সঙ্গে ঢাকায় নতুন আরো দুটি মেট্রোরেল এবং পাঁচটি মনোরেল লাইন নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে ইউআরএসটিপিতে। বাস্তবায়িত হলে এসব প্রকল্পসংলগ্ন সড়কে যানজট শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এর বাইরে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত একটি বিআরটি করিডোর নির্মাণ করা হচ্ছে। বিআরটি বাস্তবায়ন হলে এ করিডোরও যানজট শুল্ক আরোপের উপযোগী হয়ে উঠবে। এছাড়া সরকার কোম্পানিভিত্তিক উন্নত বাস পরিষেবা প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছে। ইউআরএসটিপির সুপারিশ অনুযায়ী, ঢাকার যেসব রুটে উন্নত বাস পরিষেবা থাকবে, সেসব রুটেও প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ট্রাক থেকে যানজট শুল্ক আদায় করা হবে।
রাজধানী ঢাকার সড়কে যানবাহনের গড় গতি সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালে ঢাকার সড়কে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২১ কিলোমিটার, যা ২০২২ সালে কমে দাঁড়ায় মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। অর্থাৎ দেড় দশকের ব্যবধানে রাজধানীতে যানবাহনের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কিলোমিটার কমে গেছে, যা নগরের চলাচল ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে, রাজধানীর ভয়াবহ যানজটের কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা হারিয়ে যাচ্ছে যানজটে। পাশাপাশি ঢাকার ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিয়মিত যানবাহন আটকে থাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করছে। এতে দেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে এবং দৈনিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই অবস্থায় জোরেশোরে বাড়ছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণ। বছরের প্রথম ছয় মাসে হাসপাতালে যাওয়া ডেঙ্গু রোগীর ৪৮ শতাংশই ভর্তি হয়েছে জুন মাসে। অর্থাৎ বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ডেঙ্গু ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে আগামী চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে ভাইরাসসৃষ্ট এই জ্বরের প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন রোগতত্ত্ব এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬ হাজার ১০৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের হিসাবে বছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় জুন মাসে এসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ দেখা গেছে। শুধু জুন মাসেই সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন; যা বছরের মোট সংক্রমণের ৪৮ শতাংশ। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে) দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫ জন; আর জুন মাসেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সরকারের তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬২৯ জন রোগী পাওয়া গেছে বরিশাল বিভাগে। চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ১৪০ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৮৭১ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ বছর বিশেষ করে ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয়সহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান দিচ্ছে।
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশায় পরিণত হতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। ফলে জুলাই মাসজুড়ে এডিস মশার ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
জুলাই মাসে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দেশে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকার তুলনায় বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা ছাড়াও গাজীপুর, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, মাদারীপুর, বাগেরহাট ও নরসিংদীতে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হতে পারে।
ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ হিসেবে না দেখে সাধারণ মশা নিয়ন্ত্রণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফগিং ও ড্রেন-নর্দমায় লার্ভানাশক প্রয়োগ মূলত কিউলেক্স মশার বিরুদ্ধে কার্যকর। কিন্তু এডিস মশা বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, বেসমেন্ট এবং জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। এডিসের প্রজননস্থল লক্ষ্য করে প্রমাণভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি না নিলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।’
তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শুধু ফগিং দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা হয়, এমন ধারণা ঠিক নয়। নিয়মিত মশার সার্ভেইল্যান্স (নজরদারি), রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, লার্ভার উৎস ধ্বংস এবং তথ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতালভিত্তিক তথ্য দিয়ে কোনো এলাকার প্রকৃত ডেঙ্গু পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না।’
ইমরুল কায়েস আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কম থাকলেও আবহাওয়া ও ভাইরাসের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সদস্য ও পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল সামনে এনেছেন সমন্বয়ের বিষয়টি। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে না আসার অন্যতম কারণ সমন্বয়ের অভাব। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ, আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রোগীর চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। কিন্তু দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ না থাকায় কোথায় কখন মশা নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে, কোন এলাকায় রোগী বাড়ছে বা কোথায় হটস্পট তৈরি হচ্ছে—এসব তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার হচ্ছে না।’
দেশ রূপান্তর
‘সাদা পতাকার আড়ালে অশান্তির ছক!’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্রিজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ হাটবাজারসহ নানা স্থানে রহস্যজনকভাবে আরবি লেখা ‘সাদা পতাকা’ উড়তে দেখা গেছে। এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তোলপাড়। এর আড়ালে চরমপন্থি ও উগ্রবাদী সংগঠনগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠেছে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সাদা পতাকার’ আড়ালে অশান্তির ছক আঁকা হচ্ছে। দেশের এজেন্টদের পাশাপাশি ভিনদেশি সংস্থার ইন্ধন রয়েছে। ওই প্রতিবেদনের আলোকে পুলিশের সবকটি ইউনিটকে বিশেষ চিঠি দিয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। এদিকে পতাকার ইস্যুটি সরকার খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে।
এদিকে বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। ইতিমধ্যে উদ্বেগ জানিয়ে গত শনিবার একটি গোয়েন্দা সংস্থা গোপন প্রতিবেদন পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।
পুলিশ সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত সময়ে নিষিদ্ধ হওয়া বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের খ- খণ্ড অংশ এই কর্মকা-ের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে। সামাজিক মাধ্যম এবং মাঠপর্যায়ে উসকানি দিয়ে তরুণদের মগজ ধোলাইয়ের এক নতুন কৌশল হিসেবে ‘সাদা পতাকাকে’ ব্যবহার করছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে যেন কেউ পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে না পারে, সেদিকে তীক্ষè নজর রাখা হচ্ছে।
পুলিশের জরুরি বৈঠক : সর্বশেষ গত রবিবার পুলিশ সদর দপ্তরে জরুরি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক, সব অতিরিক্ত আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, ডিআইজিসহ অন্য কর্তারা। আর ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সব মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট প্রধানরা। এতে ‘সাদা পতাকা’ টানানো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেকোনো মূল্যে সাদা পতাকা মিছিল বন্ধ করতে বলা হয়েছে। এসবের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২৪টি আইডি ব্লক করা হয়েছে। বিদেশি কিছু সংগঠন বাংলাদেশের ‘কতিপয় লোকের’ সঙ্গে আঁতাত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। বৈঠকে বলা হয়েছে, হামাস বা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নামে সাদা পতাকা মিছিল কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর বিষয়ে মনিটরিং আরও জোরদার করতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে মিছিলের আড়ালে আকস্মিক নাশকতা সৃষ্টি করা হতে পারে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। জনবহুল এলাকাগুলো টার্গেট করা হচ্ছে। স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে।
ইউনিট প্রধানদের কাছে ‘বিশেষ চিঠি’: পুলিশ সূত্র জানায়, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সবকটি ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্য কর্মকর্তাদের কাছ ‘বিশেষ চিঠি’ পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আকস্মিকভাবে সাদা পতাকা টানানোর ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, যেসব স্থানে এসব পতাকা পাওয়া যাচ্ছে, তার চারপাশের নিরাপত্তা জোরদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইমামদের সঙ্গে সচেতনতামূলক বৈঠক করতে হবে। কোন গোষ্ঠী বা চক্র এর পেছনে আছে তা দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। এই প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘উগ্রবাদীরা সবসময় কৌশল পরিবর্তন করে। যখনই তাদের পুরনো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়, তারা নতুন কিছু নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করে। সাদা পতাকা তেমনই একটি নতুন কৌশল হতে পারে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘গাছহীন ঢাকায় শ্বাসের কষ্ট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী ঢাকা এখন শুধু যানজট, ধুলা আর কংক্রিটের শহর নয়; এটি ক্রমেই গাছহীন এক বিপজ্জনক নগরীতে পরিণত হচ্ছে। যেখানে একজন মানুষের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহের জন্য তিনটি প্রাপ্তবয়স্ক গাছ প্রয়োজন, সেখানে ঢাকায় প্রতি ২৮ জনের জন্য রয়েছে মাত্র একটি। ফলে বিশুদ্ধ বাতাসের সংকট, বায়ুদূষণ, অতিরিক্ত তাপ এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগ- সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি। পরিবেশবিদ, বন বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, রাজধানীর সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি এখন গাছের ভয়াবহ ঘাটতি। এর প্রভাব শুধু পরিবেশেই নয়, মানুষের ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, এমনকি সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়ছে।
জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৫’ অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে বসবাস করছে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ। অন্যদিকে বন বিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস পরিচালিত ‘আরবান ট্রি ইনভেনটরি অব ঢাকা সিটি’ জরিপে দেখা গেছে, ৩০৬ বর্গকিলোমিটারের পুরো ঢাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে গাছ রয়েছে মাত্র ১৩ লাখ। অর্থাৎ প্রতি ২৮ জন মানুষের জন্য রয়েছে একটি গাছ। অথচ, বছরের পর বছর ধরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে ঢাকা শহরে গাছ লাগানো হয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বীকৃত শ্বাস-প্রশ্বাসের হিসাব অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৫০ লিটার বিশুদ্ধ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। পরিবেশবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, একজন মানুষের এ চাহিদা পূরণে গড়ে তিনটি পূর্ণবয়স্ক গাছকে আদর্শ ধরা যায়। সেই হিসাবে বর্তমান ঢাকার মানুষের জন্য প্রয়োজন প্রায় সাড়ে ১০ কোটি গাছ। অথচ বাস্তবে রয়েছে মাত্র ১৩ লাখ। বর্তমান সরকার ৫ বছরে ঢাকাসহ অন্যান্য নগরে ১ কোটি ২৫ লাখ চারা লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এ সবগুলো চারা ঢাকা শহরে লাগানো হলেও নয় কোটির বেশি গাছের সংকট থাকবে। এ ছাড়া এসব চারা থেকে পূর্ণ সুবিধা পেতে লাগবে ৫-১০ বছর। বৃক্ষ জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার টরেন্টোর প্রায় ২৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের আন্টালান্টায় ৩৭ শতাংশ, নিউইয়র্কের ২১ শতাংশের বেশি এলাকা বৃক্ষ আচ্ছাদিত থাকলেও ঢাকায় বৃক্ষ আচ্ছাদন ১১ শতাংশের মতো। ঢাকার গড় বৃক্ষ আচ্ছাদন দেশের জাতীয় গড়ের অর্ধেকের কম। গবেষকদের মতে, নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় অন্তত জাতীয় গড়ে পৌঁছানো এবং দীর্ঘমেয়াদে ৩০ শতাংশ বৃক্ষ আচ্ছাদন নিশ্চিত করা জরুরি।
পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন সেভারসের প্রতিষ্ঠাতা এহসান রনি বলেন, ঢাকায় গাছ লাগানোর জায়গা খুব নেই। প্রথমে পুরোনো গাছ বাঁচাতে হবে। ৫ লাখ নতুন ভবনের ছাদে ২০টি করে গাছ লাগালে ১ কোটি গাছ বাড়বে। এ ছাড়া ভার্টিক্যাল গার্ডেনিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। সব খাল, লেক, নদীর পাড় ও সড়কদ্বীপে গাছ লাগাতে হবে।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, পান্থকুঞ্জ পার্কের গাছগুলো বাঁচাতে মানুষ তিন মাস আন্দোলন করল। অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো রক্ষায় কিছু করল না। বর্তমান সরকারও করছে না। প্রকল্পের নামে গাছ কাটা বন্ধ না হলে, সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চিন্তায় পরিবর্তন না এলে ঢাকায় সবুজ থাকবে না। পুরোনো গাছ সংরক্ষণ এবং প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে বাধ্যতামূলক সবুজায়ন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
