বণিক বার্তা
‘নাজুক রাষ্ট্রীয় কোষাগার বিপুল বকেয়া, দুশ্চিন্তায় নতুন সরকারের অনেকেই’ এটি দৈনিক বণিক বার্তার শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় ৩৩ হাজার ৩৪০ কোটি টাকার ঋণ নিতে হয়েছে সরকারকে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের এ নাজুক অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই। তার ওপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বকেয়া এবং ঋণ পরিশোধের চাপ। এ অবস্থায় নতুন সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। বিদ্যমান বাস্তবতায় জনপ্রত্যাশা পূরণ করা নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল অনেকেই।
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করে গেছে। এর মধ্যে পরিচালন খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে সরকার মোট ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যার মধ্যে পরিচালন খাতে ২ লাখ ২০ হাজার ৪৬৩ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ৩১ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। ফলে এ সময় বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা, যার বেশির ভাগই ঋণ নিয়ে মেটানো হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই খরচ হয়েছে সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, বেতন-ভাতা ও পেনশন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন সংস্থাকে দেয়া আর্থিক সহায়তা বাবদ। এর মধ্যে সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৬৬ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা, ভর্তুকিতে ৩৭ হাজার ১৬৩ কোটি, বেতন-ভাতা ও পেনশনে ৪৭ হাজার ১২৫ কোটি, আর্থিক সহায়তায় ২৬ হাজার ১৭৬ কোটি, শেয়ার ও ইকুইটি বিনিয়োগে ২০ হাজার ৬৭ কোটি, পণ্য ও সেবায় ১৪ হাজার ৭০৩ কোটি, প্রণোদনায় ৪ হাজার ৮৯৯ কোটি এবং অন্যান্য খাতে ৪ হাজার ৮৬ কোটি টাকা।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের সময় উত্তরাধিকার সূত্রে বিএনপি সরকারের কাঁধে চেপেছে ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ। নির্বাচনী ইশতাহারে দেশের পাঁচ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং প্রকৃত কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ঋণ কমানোর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রথমে পাইলট ভিত্তিতে দেশের ১৩টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ২ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। আসন্ন ঈদের আগে পাইলট ভিত্তিতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদেরও সম্মানী ভাতা দেয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। যদিও সম্মানীর পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তাছাড়া কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সভা থেকে বের হয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মতো করেই কৃষক কার্ড দেয়ার বিষয়ে দ্রুত পাইলট প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে।
সরকারের এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য বেশ বড় অংকের অর্থের প্রয়োজন হবে। শুরুতে পাইলট ভিত্তিতে এসব কর্মসূচি চালু হলেও সামনে এর পরিধি বাড়বে। অর্থের পরিমাণও বাড়বে তখন।
এদিকে বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারকরা অতীতের ঋণনির্ভরতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনবান্ধব বাজেট করার কথা বলছেন। সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামে গিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, দেশে কোনো পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি আর চলবে না। বাজেট হবে জনবান্ধব। বিগত আমলে ঋণ নেয়া হয়েছে, কিন্তু তা কোনো ভালো প্রকল্পে ব্যয় হয়নি। ফলে এ সরকারের ওপর বিশাল ঋণের বোঝা রয়েছে।
ঋণনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুযোগ বেশ সীমিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ঋণ না নিয়ে সরকারের ব্যয় বাড়ানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি। কিন্তু প্রতি বছর যে হারে রাজস্ব আয় বাড়ছে তার তুলনায় ব্যয় বাড়ার গতি আরো বেশি। রাজস্ব আয় আরো বাড়াতে গিয়ে যদি করের পরিমাণ বাড়াতে হয় তাহলে সেটি আবার জনগণের ওপর চাপ বাড়াবে। ফলে সরকার এক ধরনের ফাঁদের মধ্যে পড়ে গেছে বলে মনে করছেন তারা।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যয় বাড়ানোর কোনো সুযোগ দেখা যাচ্ছে না। উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে, যদিও সেটি সীমিত। বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া জমে রয়েছে, সেগুলো পরিশোধ করতে হবে। আবার নতুন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনাধীন থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের ব্যয় বাড়বে।’
পর্যাপ্ত রাজস্ব আয়ের সংস্থান করতে না পারলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে প্রতি বছরই বড় হয়েছে বাজেটের আকার। এর সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়েছে বাজেটের ঘাটতি। এ ঘাটতি পূরণে স্থানীয় ও বিদেশী উৎস থেকে নেয়া ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে ক্রমে বাড়ছে ঋণ ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয়ের পরিমাণও। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশী ও বিদেশী মিলিয়ে ৩০ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে। টাকার অংকে যার পরিমাণ ৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৩৭ কোটি (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ ঋণ পরিশোধের পরিমাণ আরো বেড়ে ৩৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে বলে প্রক্ষেপণ করেছে সংস্থাটি।
সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দেয়ার পরও বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পুঞ্জীভূত হয়ে পড়েছে। এ অর্থ পরিশোধের দায় বর্তেছে নতুন সরকারের ওপর। তাছাড়া জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্প ও আবাসিক খাতের গ্রাহকরা দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানির নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব না হলে দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও বাড়বে না। আবার নতুন গ্যাসের মজুদ খুঁজে বের করে উত্তোলন বেশ সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে আমদানির মাধ্যমে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন হবে বিপুল অংকের অর্থ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এ পরিস্থিতিকে নিজের জন্য ‘অগ্নিপরীক্ষা’ বলে উল্লেখ করেছেন নতুন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘বিগত সময় যে পরিমাণ বকেয়া রেখে যাওয়া হয়েছে, তারপর আমাকে যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে হবে—সব মিলিয়ে একটা কঠিন অগ্নিপরীক্ষা আমার জন্য। আমি চেষ্টা করছি আপ্রাণ, কীভাবে এটাকে ম্যানেজ করে জনগণকে সুফল দেয়া যায়।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা আছে। সরকার যদি চলতি অর্থবছরে পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে তাহলে এ বরাদ্দ থেকে যাবে। সেখান থেকে অর্থ নিয়ে প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য অর্থের সংস্থান করা সম্ভব। কিন্তু সামনের অর্থবছরে এসব কর্মসূচির পরিধি আরো বাড়বে। তখন বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে গিয়ে পড়তে হবে চ্যালেঞ্জের মধ্যে।
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সীমিত সামর্থ্য, বাড়তে থাকা ঋণের বোঝা এবং জনমুখী প্রতিশ্রুতির চাপ—এ তিনের ভারসাম্য রক্ষা করাই নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য অর্থসংস্থানে সরকারকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে বলে মনে করছেন অর্থ বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মাহবুব আহমেদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ, যেখানে আমরা যেতে চাই এবং যে ধরনের প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করি সেক্ষেত্রে জিডিপির ন্যূনতম ২৫ শতাংশ বাজেট করা উচিত। যদিও আমরা সেটি করতে পারি না। অন্যদিকে আমরা যে বাজেট করি সেটিও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। কারণ আমাদের কর-জিডিপির অনুপাত অত্যন্ত কম। সরকার যেসব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে চাইবে এটিই স্বাভাবিক। তার ওপর সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোরও চাপ রয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ফলে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো ছাড়া সরকারের অন্য কোনো উপায় নেই। ঋণ নিয়ে এসব ব্যয় করা ঠিকও হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাজস্ব আহরণ বাড়াতে গিয়ে যদি পরোক্ষ করের হার বাড়ানো হয় তাহলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাবে। ফলে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোটাই একমাত্র সমাধান। কিন্তু আমাদের এখানে কাঠামোগত সমস্যার কারণে এটি বাড়ানোটাও চ্যালেঞ্জিং হবে।’
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার শিরোনাম ‘সিটিতে শুরু, ইউপিতে শেষ হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন’। খবরে বলা হয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়েই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই।
গত এক-দেড় বছরের এই শূন্যতায় সেবা পেতে নানা পর্যায়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নাগরিকদের। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের দায়িত্ব এখন এসব নির্বাচন দ্রুত শেষ করে সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি বসানো।
জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এরপর ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার পরিকল্পনা হচ্ছে। যদিও এই রোডম্যাপ এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন দিতে আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
মামলার কারণে কোন কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনে আইনি বাধা রয়েছে , সে তথ্য এবং স্থানীয় সরকারের কতটি প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের সময় পার হয়েছে, সেসব তথ্য হালনাগাদের কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।
কালের কণ্ঠ
‘রাষ্ট্রপতির আরো বিস্ফোরক তথ্য’ কালের কণ্ঠের শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে তার কার্যালয়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবতারণা করেছেন রাষ্ট্রপতি। গতকাল সোমবার সাক্ষাৎকারে প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয়। আজ প্রকাশিত হলো দ্বিতীয় পর্ব।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন তাকে জানানো হয়, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় তাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার।
এর আগে তারা আঁচই করতে পারনেননি কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন।
একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।
সমকাল
‘প্রশাসক আসছেন, কাউন্সিলর না থাকায় ভোগান্তি যাবে না’ এটি দৈনিক সমকালের শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর, দক্ষিণসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে আগের প্রশাসকদের সরিয়ে নতুন প্রশাসক হিসেবে বিএনপি নেতাদের নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
গত রোববার এক প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় সরকার বিভাগ জানায়, করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে মেয়রের বদলে সরকার প্রশাসক বসালেও সিটি করপোরেশনগুলোতে কাউন্সিলর না থাকায় ভোগান্তি যাবে না নগরবাসীর। গত দেড় বছরের মতো বিভিন্ন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিতই থাকতে হবে। কারণ, ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে ১৪ ধরনের নাগরিক সেবা দেওয়া হয়।
গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সব কাউন্সিলরকে বরখাস্ত করায় এই সেবা কার্যত বন্ধ। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নির্বাচন না হলে এমন সংকট আরও দীর্ঘায়িত হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশাসক নিয়োগে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকায় পরবর্তী নির্বাচন কবে হবে বলা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে এখনও প্রাথমিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি।
প্রথম আলো
‘৫ আগস্টের পরের মামলা যাচাই-বাছাই করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ এটি দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরীহ মানুষ যাতে ভোগান্তির শিকার না হন, সে জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে বৈঠক শেষ হয়ে বেলা আড়াইটায়।
পরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে একে একে সেগুলো তুলে ধরেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু মামলা হয়েছে, কিছু সুবিধাবাদী মানুষ এসব মামলা করেছে। ব্যবসায়ী-সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষদের নামে মামলা করা হয়েছে।
এসব মামলা যাচাই-বাছাই করা হবে এ জন্য যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিরীহ মানুষ যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে জন্য এসব মামলা পুনরায় যাচাই করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘আদানির চুক্তি নিয়ে ব্রিটিশ আইনজীবী: আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার পরামর্শ’। খবরে বলা হয়, ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে এ চুক্তি বাতিলের পরামর্শ দিয়েছেন সরকারের নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের আইনজীবী ফারহাজ খান।
ওই চুক্তি নিয়ে সোমবার বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চার মন্ত্রীর বৈঠকে তিনি ওই পরামর্শ দেন। ফারহাজ খান এজন্য সরকারকে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতেও বলেন। তার মতে, নির্বাহী আদেশ দিয়ে এ চুক্তি বাতিল সম্ভব নয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ দিনে আদানি নিয়ে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করলেন সরকারের ওই চার মন্ত্রী।
এর আগে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বৈঠক হয়েছিল। বিদ্যুৎমন্ত্রী সোমবারের ওই বৈঠকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, আদানির ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, দেখা যাক।
নয়া দিগন্ত
‘জ্বালানি খাতের অন্ধকারে আলো খোঁজা’-এটি নয়া দিগন্তের শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঢাকার একটি শিল্পাঞ্চলে দুপুর গড়িয়ে বিকেল। কারখানার জেনারেটরের শব্দে বাতাস ভারী। বিদ্যুৎ থাকলে যে মেশিনগুলো ঘণ্টায় লাখ টাকার পণ্য উৎপাদন করে, সেগুলো দাঁড়িয়ে আছে।
ম্যানেজার বললেন-'লাইনে বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু ভোল্টেজ পড়ে যাচ্ছে। গ্যাসও ঠিকমতো আসছে না।' দেশের জ্বালানি খাতের সঙ্কট আজ এই এক দৃশ্যেই ধরা পড়ে: কাগজে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত, বাস্তবে অচল উৎপাদন।
বাংলাদেশে গত এক দশকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ও সক্ষমতা দ্রুত বেড়েছে। স্থাপিত ক্ষমতা ২৫-২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- যখন সক্ষমতা এত, তখন লোডশেডিং কেন? কেন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ কমে যায়? কেন সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়?
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের শিরোনাম ‘বৈষম্যবিরোধী আইন শুধুই কথার কথা’। খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় নিয়মিতই বৈষম্যের শিকার হন দলিত ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী। সামাজিক নিগ্রহ ও অস্পৃশ্যতার শিকার এসব ব্যক্তির করা অভিযোগের প্রতিকারও সুদূর পরাহত।
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হিসেবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
যেখানে সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষা, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক, সামাজিক সাম্য ও তাদের মানবসত্তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।
তবে, পাঁচ দশকের বেশি সময়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। দলিত, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি অবহেলা, তাদের নিরাপত্তাহীনতা, উচ্ছেদের খবর শোনা যায় প্রতিনিয়ত।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ্য লক্ষ্য ছিল সমাজের সব ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসন। কিন্তু এত রক্তক্ষয়ের পরেও রাষ্ট্রক্ষেত্রে বৈষম্য দূর হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন উঠছে।

জনতা
৩ মাস আগেমন্তব্যকারী GMA Zafar, আপনার হিসেব মীর জাফরের হিসেবের মতই, হাসিনা দেশটিকে কি অবস্থায় রেখে পালিয়েছে ত আপনি মনে হচ্ছে জানেন না, আপনি মংগল গ্রহ থেকে হঠাৎ বাংলাদেশে এসেছেন মনে হয়। ২০ বছরের লুটপাট আপনি ২ বছরে ওকে করে ফেলবেন মনে হচ্ছে, আপনাকে বসানো দরকার ছিলো অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে।