আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে পাক বাহিনী। এতে দেশটির অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নিহত হয়েছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছে আরও ১৬৩ জন। সোমবার (২৯ জুন) আফগান কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।
এ ছাড়া আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তান বেসামরিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছে। আফগান সরকারের ডেপুটি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেছেন, পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে বেসামরিক নাগরিকদের বাড়ি লক্ষ্য করে পাক বাহিনী এসব হামলা চালিয়েছে।
তবে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ভিন্ন দাবি করেছেন। তারা বলেছেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী হামলার জবাবে স্থল ও বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, দেশজুড়ে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর একাধিক হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এক্সে তিনি বলেন, নির্ভুল হামলায় পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কিনারে তিনটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
এদিকে তালিবান এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকতিয়ায় চামকানি জেলার মান্দখালী গ্রামে এক বাড়িতে পাক বাহিনী বোমাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি এবং শিশু নিহত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এরপর পাক বাহিনী দ্বিতীয় হামলাটি চালায় গ্রামবাসীদের ওপর, যারা বেঁচে যাওয়াদের উদ্ধারে জড়ো হয়েছিলেন। এই হামলায় নিহত হয়েছে ২৮ জন এবং আহত ১৫৮ জন।
এ ছাড়া তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকতিকার গিয়ান জেলার ওলাস্ট গ্রামে আরেক বাড়িতে পাক বাহিনীর হামলায় ছয়জন বেসামরিক নিহত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই নারী এবং শিশু।
কুনারের মানোগাই জেলায় আরেকটি আবাসিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
গত শনিবার পাকিস্তানের করাচিতে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদরদপ্তরে আত্মঘাতী হামলা হয়। এতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছে। এই হামলার পরেই আফগানিস্তানে অভিযান চালালো পাক বাহিনী।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার পরিমাণ বেশ বেড়েছে। বিশেষ করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করে আসছে পাক সরকার।
দেশটির অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে নিষিদ্ধঘোষিত পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে পাকিস্তানের এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে আফগানিস্তান।
প্রতিবেশী দেশ দুইটির সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এতে দেশ দুইটির মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। উভয় পক্ষই কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়।
