২০২৬ বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকসংখ্যার নতুন বিশ্বরেকর্ড

২০২৬ বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকসংখ্যার নতুন বিশ্বরেকর্ড

ফন্ট সাইজ:

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ইতিমধ্যেই ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দর্শক উপস্থিতির বিশ্বকাপে পরিণত হয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে এখনও এগিয়ে রয়েছে ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ। এ পর্যন্ত ৬০টি ম্যাচ শেষে ২০২৬ বিশ্বকাপে ৩৮ লাখেরও বেশি দর্শক মাঠে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ২৫ জুন বিশ্বকাপটি ১৯৯৪ সালের পুরো টুর্নামেন্টে উপস্থিত ৩৬ লাখ দর্শকের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এবারের বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮টি করা হয়েছে এবং মোট ম্যাচ ১০৪টি। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রেকর্ডটি গড়তে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রয়োজন হয়েছে মাত্র ৬০টি ম্যাচ। সেখানে আগের ৩২ দলের বিশ্বকাপগুলোতে মোট ম্যাচই ছিল ৬৪টি।

তবুও ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ একটি দিক থেকে এখনও অতুলনীয়। সেবার মাত্র ২৪টি দল অংশ নিয়েছিল এবং পুরো টুর্নামেন্টে ম্যাচ হয়েছিল মাত্র ৫২টি। তারপরও প্রতি ম্যাচে গড় দর্শকসংখ্যার বিচারে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ এখনও ২০২৬-কে ছাড়িয়ে রয়েছে। ১৯৯৪ সালে প্রতি ম্যাচে গড়ে ৬৮ হাজার ৯৯১ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে বর্তমানে প্রতি ম্যাচে গড়ে উপস্থিত হচ্ছেন ৬৪ হাজার ৭২০ জন দর্শক। ৩২ দলের বিশ্বকাপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর্শক হয়েছিল ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। সেই আসরে মোট দর্শক উপস্থিতি ছিল প্রায় ৩৪ লাখ। ১৯৯৪, ২০২৬ এবং মাঝের সব বিশ্বকাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো স্টেডিয়ামের আকার।

স্টেডিয়াম গাইড-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ব্যবহৃত ৯টি স্টেডিয়ামের গড় ধারণক্ষমতা ছিল ৭৪ হাজার ১৬৬ জন। অন্যদিকে ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সালের বিশ্বকাপগুলোর স্টেডিয়ামের গড় ধারণক্ষমতা ছিল ৪৮ হাজার ৫৪৪ জন। অর্থাৎ ১৯৯৪ সালের স্টেডিয়ামগুলোর গড় ধারণক্ষমতা ছিল পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি। ২০২৬ বিশ্বকাপও সেই দিক থেকে ১৯৯৪ সালের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। ইউএস সকার-এর তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর গড় ধারণক্ষমতা ৬৯ হাজার ১৩৪ জন, যা ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সালের গড়ের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি বড় কলেজ ফুটবল স্টেডিয়াম ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল স্ট্যানফোর্ড স্টেডিয়াম এবং রোজ বোল। দুটি স্টেডিয়ামেই ধারণক্ষমতা ছিল ৮০ হাজারের বেশি।

এর মধ্যে রোজ বোলে ধারণক্ষমতা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৩। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৮০ হাজারের বেশি ধারণক্ষমতার তিনটি স্টেডিয়াম রয়েছে। এগুলো হলো মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আস্তেকা, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম, টেক্সাসের আরলিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম। ডালাস কাউবয়েজ দলের মালিক জেরি জোনস-এর নাম অনুসারে ডাকনাম ‘জেরি ওয়ার্ল্ড’ হওয়া এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ভেন্যু। এর সরকারি ধারণক্ষমতা ৯২ হাজার ৯৬৭। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে কোনো স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৫০ হাজারের নিচে ছিল না। সবচেয়ে ছোট ভেন্যু ছিল আরএফকে স্টেডিয়াম, যার ধারণক্ষমতা ৫৬ হাজার ৫০০ জন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে কয়েকটি তুলনামূলক ছোট স্টেডিয়ামও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- গুয়াদালাহারার এস্তাদিও আক্রন, টরন্টোর বিএমও ফিল্ড। এই দুটি স্টেডিয়ামে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শক বসতে পারেন।

তুলনামূলকভাবে ১৯৯৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী বিশ্বকাপগুলোতে ছোট স্টেডিয়ামের সংখ্যা ছিল আরও বেশি। উদাহরণ হিসেবে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে ব্যবহৃত ১০টি স্টেডিয়ামের মধ্যে ৮টিরই ধারণক্ষমতা ছিল ৫০ হাজারের কম। বর্তমান গড় দর্শকসংখ্যা বজায় থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট দর্শক উপস্থিতি ৬৭ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পূরণ হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় ইতিমধ্যেই নিশ্চিত- বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ মোট দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের দখলে। আর টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় দর্শকসমাগম হয়তো এখনও বাকি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন