তৃতীয় সন্তানেও মাতৃত্বকালীন ছুটি-বঞ্চনা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না

হাইকোর্টের রুল

তৃতীয় সন্তানেও মাতৃত্বকালীন ছুটি-বঞ্চনা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না

ফন্ট সাইজ:

সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধায় বিদ্যমান বৈষম্য এবং তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে মাতৃত্ব সুবিধা সীমিত করার বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৪৬(২) ধারা, ৪৬(১)-এর প্রভিসো এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ নম্বর রুল কেন সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

একই সঙ্গে সরকার কেন সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কর্মজীবী নারীদের জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান ও ইফাত হাসান শাম্মি।

গত ১৫ জুন দায়ের করা রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিবসহ ১২ জনকে বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কোনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা ও সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এই অধিকার থেকে কর্মজীবী নারীদের বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক ও সংবিধানবিরোধী। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন নীতিমালার কারণে কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে, যা সংবিধানের সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

পরে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘সব কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করতেই এ রিট করা হয়েছে। তার ভাষ্য, মাতৃত্ব কোনো শাস্তির বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়। এই মামলার চূড়ান্ত রায় মাতৃত্বকালীন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা এবং শ্রম অধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন