বাজেট বাস্তবায়ন ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের পথে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সমাজে জবাবদিহিতা, সততা ও স্বচ্ছতার অভাবই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ একইসঙ্গে বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ অভিহিত করে গত সাড়ে ১৭ বছরের সব গুম, খুন ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
বাজেট বাস্তবায়নে দুর্নীতির প্রভাব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সমাজে বাজেটের বাস্তবায়ন বা উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে দুর্নীতি। এখানে জবাবদিহিতার বড় অভাব রয়েছে। সততা ও স্বচ্ছতার যে ঘাটতি, সেটিই আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ হয়তো একদিনে দূর হবে না, কিন্তু আমাদের কোনো একটা জায়গা থেকে পদ্ধতিগতভাবে শুরু করতে হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়ন করেন রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের কাজের নিয়মিত মূল্যায়ন (ইভ্যালুয়েশন) না থাকায় অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।’ প্রতি তিন বা চার মাস অন্তর অন্তর বাজেটের মূল্যায়ন রিপোর্ট সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই-জুন অর্থবছরের কারণে বছরের শেষ দিকে তাড়াহুড়ো করে অর্থ ছাড় হয়। প্রথম ১০ মাসে ৪২ শতাংশ কাজ হলেও শেষ দুই মাসে বাকি কাজ দেখানোর মহোৎসব চলে। এর ফলে অপচয় এবং লুটপাটের দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে যায়। এ কারণে আমরা প্রস্তাব করেছি অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ার বা জানুয়ারি-ডিসেম্বর অনুযায়ী নির্ধারণ করার জন্য।’
রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের তিন ধরনের ট্যাক্স দিতে হয়। একটি যায় সরকারি ট্রেজারিতে, দ্বিতীয়টি যায় কিছু অসৎ কর্মকর্তার পকেটে এবং তৃতীয়টি দিতে হয় চাঁদাবাজদের। যদি এই দ্বিতীয় ও তৃতীয় অপশন বন্ধ করা যায়, তবে ব্যবসায়ীরা স্বপ্রণোদিত হয়ে আরও বেশি ট্যাক্স দেবেন এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।’
বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছরে দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এই টাকা জনগণের। বাজেটে এই টাকা ফিরিয়ে আনার কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন নেই। পাচারকৃত টাকার সামান্য অংশও যদি ফিরিয়ে আনা যায়, তবে দেশে কোনো বাজেট ঘাটতি থাকবে না।’
দুর্নীতিবাজদের শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শুধু সম্পদ ফিরিয়ে আনলে হবে না, যারা এই লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত সেই কালপ্রিটদেরও ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ডাকাত তৈরি হবে।’
এ সময় তিনি বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করে আশা প্রকাশ করেন যে, এই সংসদ এমন কোনো আচরণ করবে না যাতে সাধারণ মানুষ ব্যথিত হয়। বরং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ অভিহিত করে গত সাড়ে ১৭ বছরের সব গুম, খুন ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাড়ে ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের বীরদের রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সম্মান দিতে হবে। গুম হওয়া পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘব করতে হবে।’
বিচারের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চার মাস পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যে গতিতে বিচার আশা করেছিল তা দেখা যাচ্ছে না।’
অপরাধী যত বড়ই হোক, তাদের দ্রুততম সময়ে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।



SM Rafiqul Islam
২ ঘন্টা আগেবিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সাথে সহমত প্রকাশ করছি। দেশের উন্নয়নের প্রধান সমস্য এখন দূর্ণীতি এ বিষয়ে দ্বীমত করার কোন সুযোগ নেই। সরকারি দপ্তরের ফাইল গায়েব করা থেকে শুরু করে এহেন কোন কাজ নেই যা টাকা দিলে করা যায় না। আর সমস্ত অপকর্মের সাথে জড়িত তথাকথিত শিক্ষীতরা। গ্রামের কোন কৃষক দূর্ণীতি করে না। মানুষের নীতি নৈতিকতার অধঃপতন হয়েছে সর্ব নিম্ন পর্যায়ে। এখান থেকে দেশকে বাঁচাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া কোন বিকল্প নেই। ধন্যবাদ।