করাচি হামলা: পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ভারতের

করাচি হামলা: পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ভারতের

ফন্ট সাইজ:

করাচিতে সন্ত্রাসী হামলায় একটি ‘ভারতীয় প্রক্সি’ জড়িত ছিল। পাকিস্তানের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। আফগানিস্তানভিত্তিক তেহরিকে তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে প্রায়ই সম্পৃক্ত বলে বিবেচিত জঙ্গিগোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার গত সপ্তাহে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের প্রাদেশিক সদর দপ্তরে হামলার দায় স্বীকার করে। ওই হামলায় পাকিস্তানের তিনজন নিরাপত্তা সদস্য এবং তিনজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। তবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি দাবি করেন, হামলায় একটি ‘ভারতীয় প্রক্সি’ জড়িত ছিল। কিন্তু তিনি তার এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ইসলামাবাদের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি পাকিস্তানকে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, করাচির সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনার বিষয়টি আমরা দেখেছি। তিনি আরও বলেন, আমরা এসব অভিযোগ দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। অন্যের দিকে আঙুল তোলার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের ভেতরে তাকানো, নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা নেয়া এবং রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদের ওপর নির্ভর করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাণঘাতী ওই হামলার জবাবে পাকিস্তান রাতভর পূর্ব আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, নির্ভুল হামলার মাধ্যমে পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার এই তিনটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় ২৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তারার আরও বলেন, অভিযানে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থল অভিযানও চালানো হয়েছে এবং জামাত-উল-আহরার’কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার করাচিতে পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা এবং সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে সাম্প্রতিক সহিংসতার জবাব হিসেবেই এই রাতভর অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

জামাত-উল-আহরার জানিয়েছে, করাচিতে হামলায় মোট নয়জন হামলাকারী অংশ নেয়। তাদের একজন বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি করাচি বন্দরনগরীর পাকিস্তান রেঞ্জার্স সদর দপ্তরে আঘাত করলে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলি চলে। এই সংঘর্ষে পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হন এবং আরও চারজন আহত হন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোলাগুলিতে তিনজন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এছাড়া চতুর্থ একজন হামলাকারী, যিনি আফগান নাগরিক, তাকে জীবিত আটক করা হয়েছে।

এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল, যখন পাকিস্তানজুড়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান একাধিকবার আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ হামলাটি চালানো হয় চলতি মাসের শুরুতে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’কে (টিটিপি), যারা বহু বছর ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সহিংস অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে কাবুল বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আফগান সরকার বলেছে, তাদের ভূখণ্ড সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। তারা আরও দাবি করেছে, অতীতে পাকিস্তানের বিমান হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবরে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার পর থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার সীমান্ত বেশিরভাগ সময় বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন