সারা দেশে ৬-৫৯ মাস বয়সী ২ কোটিরও বেশি শিশুকে বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। রোববার গোপালগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৬-৫৯ মাস বয়সী ২ কোটিরও বেশি শিশুকে সারাদেশে বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এই কর্মসূচি শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশের অন্যতম সফল জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, অপুষ্টিজনিত জটিলতা কমাতে সহায়তা করে, দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতিজনিত রাতকানা ও অন্যান্য চোখের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করে। একই সঙ্গে এটি শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তার মতে, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪-২৫ সালের পরিকল্পিত হাম টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হওয়ায় অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি এবং সামগ্রিক অপুষ্টি গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এ কারণে চলমান জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
গোপালগঞ্জ প্রসঙ্গে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, তার মূল্যায়নে, স্বাধীনতার পর থেকে, বিশেষ করে গত দেড় দশকে, গোপালগঞ্জের মানুষ একদল দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবের মধ্যে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই নেটওয়ার্কের অবসান ঘটে এবং এখন গোপালগঞ্জের মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ, স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং নিজেদের উদ্যোগে উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই নতুন পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
এ সময় জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। অতীতের কর্তৃত্ববাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনের অবসান ঘটিয়ে এখন জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। তিনি সকলকে দল-মত নির্বিশেষে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পুষ্টি উন্নয়ন, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর সুস্বাস্থ্য এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তার মতে, একটি সুস্থ, পুষ্টিসম্পন্ন ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তুললেই দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যমকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী এবং অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা নিজ নিজ এলাকার প্রতিটি ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্র থেকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন। কোনো যোগ্য শিশু যেন এই জীবনরক্ষাকারী সেবা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নি বলেন, প্রতিটি শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। আসুন, আমরা সবাই মিলে নিশ্চিত করি—দেশের কোনো যোগ্য শিশু যেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ থেকে বঞ্চিত না হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. কে. এম. বাবর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিসেফের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
