বৃটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভুয়া সনদে ভর্তি চেষ্টা, তালিকায় বাংলাদেশিরাও

ফন্ট সাইজ:

বৃটেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুয়া বা ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছেন কয়েক হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। এমন দাবি তুলেছে শিক্ষা-যাচাইকরণ প্রতিষ্ঠান ‘কোয়ালিফিকেশন চেক’।
গত ২৬শে জুন প্রকাশিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’র প্রতিবেদনের বরাতে বিষয়টি সামনে আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘কোয়ালিফিকেশন চেক’ প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৪৫টি বৃটিশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হতে ৫৫ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আবেদন করেন। আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট কোর্স ভর্তি হতে ৫৫ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দেন যার মধ্যে ৫ শতাংশ জমাকৃত ডিগ্রির তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। যা ভুয়া সনদ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ভুয়া তথ্য দেয়া আবেদনকারীদের প্রায় ৪০ শতাংশ জাল নথিপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রায় ২০ শতাংশ আবেদনকারী ভুল ফলাফল দাবি করেছেন অথবা প্রয়োজনীয় একাডেমিক রেকর্ডই উপস্থাপন করতে পারেননি।

ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার বেশি দাবি করা হয়েছে নাইজেরিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে ঘানা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং কানাডার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আবেদনকারী পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে ফটোশপ করা সনদ, ভুয়া ওয়েবসাইট কিংবা নকল কিউআর কোডের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। কিছু ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরের ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ভুয়া উপস্থিতি বা ফলাফল নিশ্চিত করার অভিযোগও উঠে এসেছে।

বৃটেনের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যথেষ্ট কঠোরভাবে যাচাই করে না। ‘কোয়ালিফিকেশন চেক’ টিম বলছে, বর্তমান সময়ে এআই এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে এখন ভুয়া সনদ ও নথি তৈরি করা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি সমন্বয়কারী সংস্থা ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিশনস সার্ভিস (ইউসিএএস) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের বাইরে বসবাসকারী ১ লাখ ৫১ হাজার ২১০ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১ হাজার ৩৭৫টি আবেদন সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কমে ৪৩৫-এ নেমে এসেছে, যেখানে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬০ জন।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক নির্ভরতা বজায় থাকলেও আবেদন যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ও যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ভুয়া আবেদন প্রতিরোধের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বৃটিশ উচ্চশিক্ষা খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন