পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মধ্যে বহেরাতলা এলাকায় দক্ষিণ বন্দর সøুইস গেট, পিয়াজ হাটা, হাসপাতাল সম্মুখ খালে এক কিলোমিটার, দক্ষিণ বন্দর সøুইস গেট-আন্দারমানিক দেড় কিলোমিটার, মঠবাড়িয়া-গুলিশাখালী, মঠবাড়িয়া-সাপলেজা সড়কের খালেরপাড়ে সহস্রাধিক পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এদিকে, উপজেলার সাপলেজা বাজারের পশ্চিম অংশে আলিশ্যার (আলিশান) মোড় এলাকায় খাল দখল করে শতাধিক পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। একই দৃশ্য দেখা গেছে সাপলেজা ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজার, মিরুখালী, বড়মাছুয়া, তুষখালী ইউনিয়নের জানখালী বাজার, গুদিঘাটা বাজার, হলতা গুলিশাখালী, আলগী পাতাকাটা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খালের দু’পাশ দখল করে প্রভাবশালীরা কাঁচা-পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র বহেরাতলা খালের মধ্যে দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন মহসিন নামে এক ব্যক্তি। তিনি পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সাবেক সংসদ ডা. মো. আনোয়ার হোসেনের ভাই। যুগের পর যুগ এই একই জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে আসছিল। বর্তমান সরকার ও প্রশাসন যখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত এই সুযোগে তিনি খালের মধ্যে দোকান ঘর (পাকা স্থাপনা) তুলছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, এটা তাদের রেকর্ডীয় জমি। গণমাধ্যমকর্মীরা কাগজ দেখতে চাইলে কোনো কাগজপত্র দেখাতে তারা রাজি হননি।
স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালীরা খালের পাড় দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িসহ নানা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন এবং অব্যাহত রাখছে। অপরদিকে, খালের দুই তীর সংশ্লিষ্ট জনবসতির ময়লা-আবর্জনা, বর্জ্যসহ অসংখ্য বাসাবাড়ির শৌচাগারের পাইপ সংযোগ থাকায় খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। প্রভাবশালীরা যেন দখলের প্রতিযোগিতায় মেতে রয়েছেন। পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলী হায়দার বলেন, বহেরাতলা তিন খালের মোহনা ভূমিদস্যুরা যেভাবে খাল ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছে। মনে হচ্ছে এদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এখানে খাল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। মঠবাড়িয়া ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা মো. সোহেল আহম্মেদ বলেন, অবৈধ দখলদারদের কারণে পানি সরবরাহ করতে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও সাধারণ মানুষের কষ্ট হয়। যে কারণে আগুন লাগলেও পানি সংগ্রহে দেরি হওয়ার কারণে অনেক সময়ই ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার ভূমি মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, বহেরাতলা এলাকার খালে জেলা পরিষদ থেকে ডিসিআর নিয়ে কাজ করছে। জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, কিছুতেই খালের মধ্যে ডিসিআর দেয়া বা ঘর তোলার বৈধতা নেই। শিগগিরই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ইতিমধ্যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়ে গেছে। কৃষকের স্বার্থে সকল অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে খাল উদ্ধার করা হবে। মঠবাড়িয়ায় কোনো প্রকার অনিয়ম থাকবে না।
মঠবাড়িয়ায় খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
