নতুন চুক্তি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, দক্ষিণ লেবাননে আবারও ইসরাইলের হামলা

নতুন চুক্তি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, দক্ষিণ লেবাননে আবারও ইসরাইলের হামলা

ফন্ট সাইজ:

নতুন চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। দক্ষিণ লেবাননে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন। এ তথ্য দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইসরাইল ও লেবানন দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ তৈরি করতে একটি চুক্তিতে সই করার মাত্র একদিন পরই এই হামলা চালানো হলো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইলের একটি ড্রোন দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা শহরে হামলা চালায়। পরে ওই এলাকায় আরও কয়েকটি হামলার খবর পাওয়া যায়, যাতে অন্তত আরও দু’জন আহত হয়েছেন।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করেছিল এমন একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য তারা প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, লেবাননের যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির আলোচনায় অংশ নেয়নি। তারা সেই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহর নেতা নাইম কাসেম চুক্তির নিন্দা করে বৈরুত সরকারের বিরুদ্ধে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলেছেন। এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে হওয়া চুক্তিটিকে ঐতিহাসিক এবং ইরান ও হিজবুল্লাহর জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে বর্ণনা করেছেন।

চার দফার এই কাঠামো অনুযায়ী, ইসরাইল দক্ষিণ লিতানি এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে এবং খালি হওয়া ওই ভূখণ্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে লেবাননের সেনাবাহিনী। তবে চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে সম্প্রসারিত একটি নিরাপত্তা এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান করতে পারবে। শনিবার হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম অভিযোগ করেন, লেবানন সরকার ক্ষতিকর ছাড় দিয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের এই কাঠামোগত চুক্তি অপমানজনক, লজ্জাজনক এবং সার্বভৌমত্বের কাছে আত্মসমর্পণের শামিল। এই চুক্তি বাতিল এবং অকার্যকর। কাসেম বিশেষভাবে সমালোচনা করেন সেই ধারার, যেখানে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি আমাদের সব লাল রেখা অতিক্রম করেছে। তিনি লেবাননের কর্তৃপক্ষকে গুরুতর ভুল করার অভিযোগ এনে বলেন, এই সিদ্ধান্ত এমনকি ওই ভূখণ্ড ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়ার পথও তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও ঘোষণা দেন, হিজবুল্লাহ তাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে। শনিবার পরে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানান, দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে দীর্ঘ সময় অবস্থানের জন্য ইসরাইলি সেনাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি যে নিরাপত্তা অঞ্চলের কথা বলেছেন, সেটি লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। গত ২রা মার্চ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর লেবানন সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহ জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার জবাবে তারা ওই হামলা চালিয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় এবং দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান দফার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ১৯২ জন নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ১১ হাজার ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন এবং ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে লেবাননের দাবি। অন্যদিকে, ইসরাইলের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের দুই পাশে সংঘাতে তাদের ৩৬ জন সেনা এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এর আগে ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হয়। পরে জুন মাসে দুই দেশ নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি পুনর্নবীকরণে সম্মত হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা এমন কিছু পাইলট জোন গঠনে সহায়তা করবে, যেখানে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী এককভাবে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন

Closing in 10s