যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এর একদিন আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার দেয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ইরানের অব্যাহত আগ্রাসনের সরাসরি জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন পেতে সক্ষম সামরিক সক্ষমতা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন হিন্দুস্তান টাইমস।
এমন উত্তেজনা এমন এক সময় দেখা দিল, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। লক্ষ্য ছিল এমন একটি অজনপ্রিয় যুদ্ধের অবসান ঘটানো, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া করেছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে। সর্বশেষ হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আমাদের পক্ষে আর যুক্তিসংগত থাকা সম্ভব হবে না এবং আমরা যে কাজ অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছি, সেটি সামরিকভাবে সম্পূর্ণ করতে বাধ্য হব। তিনি আরও বলেন, যদি তা ঘটে, তাহলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রোববার ভোরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। প্রেস টিভির উদ্ধৃতিতে গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারার পরিপন্থী এবং এর ফলে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্থগিত হয়ে যাবে। তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব হবে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়ার মতো।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গার্ড বাহিনী কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। তারা আরও বলেছে, শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন- অজুহাত যা-ই হোক, এমনকি তুচ্ছ লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধেও, চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়ার মতো জবাব পাবে। শুক্রবারের পাল্টা হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নড়বড়ে অবস্থায় থাকলেও তারা তা কার্যকর রাখতে থাকবে। তবে একই সঙ্গে তারা স্বীকার করে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শর্ত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে টোল আরোপের প্রশ্ন এবং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ বেশ কয়েকটি জটিল ইস্যুতে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। সেন্টকম দাবি করেছে, তাদের হামলা ছিল ইরানের আক্রমণের জবাবে। বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার এমভি এভার লাভলি জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছিল, তার পর ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা করেনি।
বরং রোববার সকালে পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৪টা ৩০ মিনিটে তাদের বাহিনী একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন দিয়ে এম/টি কিকু’তে হামলা চালায়। সেন্টকম জানায়, পানামার পতাকাবাহী এই তেলবাহী জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছে দিয়ে যাওয়ার সময় এতে ২০ লাখের বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। তারা আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সর্বদা সতর্ক, প্রাণঘাতী সক্ষমতা বজায় রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স লিখেছেন, সহিংসতার জবাব সহিংসতার মাধ্যমেই দেয়া হবে।

A R Sarker
১ ঘন্টা আগেএখন লড়াই আগের মতো হবে না। এখন আছে দুই পাশেই সিংহের গর্জন।