কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ আগুনে রেনু ট্রেডার্স এন্ড প্লাস্টিক নামে একটি পাদুকা ফ্যাক্টরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া (পাক্কার মাথা) এলাকার সালাম মার্কেটে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিস, নদী ফায়ার সার্ভিস ও জেলার কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে, ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ না জানালেও ফ্যাক্টরির মালিক শরীফুল ইসলাম রকির দাবি- আনুমানিক ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল ৭টায় দ্বিতীয় শিফটের কাজ শুরু করেন সালাম মার্কেটের রেনু ট্রেডার্স এন্ড প্লাস্টিক নামে জুতার সোল্ট তৈরি ফ্যাক্টরির কর্মচারীরা। হঠাৎ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ফ্যাক্টরির কেমিক্যালে লাগলে ভয়াবহ আগুন ফ্যাক্টরিতে থাকা কেমিক্যাল থেকে আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। কাজে ব্যস্ত কর্মচারীরা দ্রুত দৌড়ে ফ্যাক্টরি থেকে বের হয়ে আসে। স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে মালিকপক্ষ ৯৯৯ এর মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফ্যাক্টরিতে পাদুকা তৈরির বিভিন্ন কেমিক্যাল ও কাঁচামাল সামগ্রীসহ নামিদামি জুতার সোল্ট তৈরির মেশিন ছিল। এ ছাড়াও ফ্যাক্টরিতে তৈরি জুতার আঠা, রাবার, পেস্টিং, সলিউশন জাতীয় পণ্য ছিল। এদিকে, আগুন নেভানোর কাজ করতে গিয়ে ফ্যাক্টরির কয়েকজন কর্মচারী আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে রেনু ট্রেডার্স এন্ড প্লাস্টিক পাদুকা ফ্যাক্টরি প্রোডাকশন ম্যানেজার আজহারুল করিম রিংকু বলেন, রাত ১০টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত একটি শিফট ও সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আরেকটি শিফট কাজ করে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কাজের চাপ বেড়েছে। সেইসঙ্গে জুতার সোল্ট তৈরির প্রোডাকশনও বেড়েছে। আমরা প্রাথমিক চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে আমাদের প্রায় ২ কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সামনে ঈদ, মালিক-কর্মচারীরা কীভাবে চলবো আমরা পথে বসে গেলাম। সরকার সহায়তা না করলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
এ বিষয়ে পাদুকা মালিক সমিতির সভাপতি মো. আল আমিন মিয়া বলেন, দেশের সর্ব বৃহত্তর পাদুকা মার্কেট ও ফ্যাক্টরিগুলো ভৈরবে রয়েছে। কয়েকদিন যেতে না যেতেই পাদুকা মার্কেটে আগুন লাগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পাদুকা শিল্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মালিকপক্ষ কোনো রকম সরকারি সহযোগিতা পায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে সরকার সহযোগিতা না করলে মালিক শ্রমিক পথে বসতে হবে। আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবে সরকার।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সকাল পৌনে ৮টায় খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিস, নদী ফায়ার সার্ভিস ও কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ শুরু করে। দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
ভৈরবে ভয়াবহ আগুনে রেনু ট্রেডার্স অ্যান্ড প্লাস্টিক পাদুকা ফ্যাক্টরি পুড়ে ছাই
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
