‘টক্সিক’ বিয়েলসার বিদায়, উরুগুয়ে ফুটবলে এক বিষাদময় অধ্যায়ের সমাপ্তি

‘টক্সিক’ বিয়েলসার বিদায়, উরুগুয়ে ফুটবলে এক বিষাদময় অধ্যায়ের সমাপ্তি

ফন্ট সাইজ:

গুয়াদালাহারায় স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলের হার। ১০ জনের দল নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেল উরুগুয়ে। এই চরম ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত গুরু মার্সেলো বিয়েলসা। তিন বছরের টানাপোড়েন আর ড্রেসিংরুমের অশান্তির পর ৭০ বছর বয়সী এই কোচের বিদায়টা হলো ঠিক তার চরিত্রের মতোই নাটকীয়।

ম্যাচ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিয়েলসা নিজের স্বভাবসুলভ সুরে বলেন, ‘এই চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পুরো দায় আমার। উরুগুয়ে ফুটবলকে আমি আসলে কিছুই দিতে পারিনি। তিন বছর কাজ করার পর যদি কাঙ্ক্ষিত ফলাফলই না আসে, তবে সেই অবদানের কোনো মূল্য থাকে না।’

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নিজেকে ‘টক্সিক পারফেকশনিস্ট’ বলে আখ্যা দেয়া বিয়েলসা আরও বলেন, ‘আমার এই সময়টাকে কেউ মনে রাখবে না। কারণ আমি কিছুই রেখে গেলাম না।’

ম্যাচের প্রথমার্ধে অভিজ্ঞ গোলকিপার ফার্নান্দো মুসলেরার এক মারাত্মক ভুলে গোল হজম করে উরুগুয়ে। বিয়েলসার অনুরোধেই ৪০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি আন্তর্জাতিক অবসর ভেঙে ফিরেছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে তিনটি গোল ‘উপহার’ দিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বরেকর্ড গড়ে প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। বিয়েলসা অবশ্য বলেন, ‘মুসলেরা নিজেই হাফ-টাইমে উঠে যেতে চেয়েছিল। তার আত্মবিশ্বাস বাঁচাতে আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের অস্থিরতাই উরুগুয়ের এই পতনের মূল কারণ। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার পর থেকেই বিয়েলসার কড়া ও কঠোর আচরণের বিরুদ্ধে ড্রেসিংরুমে ক্ষোভ জমছিল। দলের রেকর্ড গোলদাতা লুইস সুয়ারেজ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেয়ার সময় সরাসরি বিয়েলসার শীতল আচরণ ও ক্যাম্পের দমবন্ধ পরিবেশ নিয়ে সমালোচনা করেন। স্পেনের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখা উইঙ্গার অগুস্তিন কানোপিওর সঙ্গের বিয়েলসার তীব্র বাদানুবাদ হয় শুধুমাত্র ‘বসার ভঙ্গি’ নিয়ে!

একসময় বিয়েলসার হাই-প্রেস, আক্রমণাত্মক ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। এই উরুগুয়েকে নিয়েই তিনি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক ফুটবলারদের সঙ্গে মানসিক যোগাযোগ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছেন এই প্রবীণ কোচ। ফেদেরিকো ভালভার্দে, ডারউইন নুনিয়েজদের মতো তারকারা তার অধীনে নিজেদের হারিয়ে খুঁজছিলেন।

এমনকি টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল ফটোশুটের মতো আধুনিক নিয়মেরও কড়া সমালোচনা করে বিয়েলসা বলেছিলেন, ‘আমি কোনো মডেল নই।’ শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম রোমাঞ্চকর ও খামখেয়ালি এক কোচের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটলো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন