ঢাকাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি?

তারেক-শি বৈঠকের আগে ত্রিবেদী মিশন শুরু

ঢাকাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি?

ফন্ট সাইজ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগেই ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন-এর কাছে পরিচয়পত্র জমা দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় ২২ মাস বন্ধ থাকা পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। একই সময়ে তাকে ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেয়ার ঘটনা কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দিল্লি এর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে কি ইতিবাচক সম্পর্কের বার্তা দিচ্ছে, নাকি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সূক্ষ্ম কোনো কৌশলগত সংকেত দিচ্ছে—তা নিয়ে জল্পনা বিস্তর।

কূটনীতিকদের একটি অংশ মনে করেন, সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার চেয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। তাদের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু এবং নতুন হাইকমিশনারের দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেয়ারই ইঙ্গিত বহন করে।

তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক পরিবর্তন, কূটনৈতিক অস্বস্তি এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, ভারত এখন সেটি কাটিয়ে উঠতে আগ্রহী। নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভিসা চালুর ঘোষণা সেই প্রচেষ্টারই অংশ বলে তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে কূটনৈতিক মহলের কারও কারও মতে, ঘটনাগুলোর সময় নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব, চিফ অব প্রটোকলসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন। বেইজিংয়ে যখন বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে, তখনই ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনারের আনুষ্ঠানিক মিশন শুরু হওয়া স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ত্রিবেদীকে কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দেয়ার বিষয়টিও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সাধারণত হাইকমিশনারদের ক্ষেত্রে এমন মর্যাদা সচরাচর দেখা যায় না। ফলে অনেকের মতে, এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানানোর বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেয়ার একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তাও বহন করছে।

অন্যদিকে, প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা চালুর সিদ্ধান্তকে সম্পর্ক উন্নয়নের সবচেয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যবসা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পারিবারিক কারণে ভারতে যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির জন্য এ সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এসব পদক্ষেপের প্রকৃত তাৎপর্য নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নন অভিজ্ঞ কূটনীতিকরা। তাদের মতে, একদিকে এটি সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইতিবাচক বার্তা হতে পারে, অন্যদিকে আঞ্চলিক কৌশলগত বাস্তবতায় বাংলাদেশের গুরুত্বও তুলে ধরতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন