চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও কার্যকরী স্মারক (এমওএ) বাতিল করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। মিশরের দু’টি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান- ওরাসকম কনস্ট্রাকশন ও দ্য আরব কন্ট্রাক্টরসের প্রতিনিধি পরিচয়ে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠান দু’টির অনুমোদিত প্রতিনিধি নন বলে নিশ্চিত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বুধবার চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মনোরেল প্রকল্প-সংক্রান্ত সব সমঝোতা ও কার্যকরী চুক্তি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১লা জুন ‘আরব কন্ট্রাক্টরস-ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম’-এর প্রতিনিধি দাবি করে কাউসার আলম চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরে ২৪শে জুন কার্যকরী স্মারকও (এমওএ) স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সহযোগিতাও চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকাস্থ মিশরীয় দূতাবাস ২২শে জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিডাকে জানায়, কাউসার আলম চৌধুরীর সঙ্গে ওরাসকম কনস্ট্রাকশন কিংবা দ্য আরব কন্ট্রাক্টরসের কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক, চুক্তিভিত্তিক বা অনুমোদিত সম্পর্ক নেই। তিনি প্রতিষ্ঠান দু’টির পক্ষে কোনো আলোচনা, চুক্তি স্বাক্ষর কিংবা প্রকল্প প্রচারের অনুমোদনও পাননি। মিশরীয় দূতাবাসের ওই তথ্য ২৩শে জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চসিকের কাছে পৌঁছায়। এরপর বিষয়টি যাচাই করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দ্রুত চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। চসিকের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি ও প্রতারণার তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় পূর্বে স্বাক্ষরিত সব এমওইউ ও এমওএ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হলো।
সূত্রমতে, কথিত ‘আরব কন্ট্রাক্টরস-ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শুধু চট্টগ্রামের মনোরেল প্রকল্প নয়, খুলনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মোংলা বন্দরে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়েও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ‘আরব কন্ট্রাক্টরস-ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম’-এর প্রতিনিধি দাবি করা কাউসার আলম চৌধুরী বলেন, কেন এটি করা হয়েছে এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য কী, তা জানতে আমি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে এসেছি। এ বিষয়ে মেয়রের সঙ্গে কথা বলার পর বিস্তারিত জানতে পারবো এবং পরে সে বিষয়ে জানাবো। এ প্রকল্প ঘিরে গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের নামও আলোচনায় এসেছে। সংগঠনটির সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী এবং সদস্য সচিব আলী নাজির শাহীন বিভিন্ন সময় প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সভা ও কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চসিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং এতে সিটি করপোরেশনের কোনো আর্থিক ব্যয় হয়নি। তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে জালিয়াতির তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় চুক্তি বহাল রাখার সুযোগ ছিল না। চসিকের এ সিদ্ধান্তের অনুলিপি বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
