গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মরক্কোকে চমকে দিয়েছিল হাইতি। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে দুই দুইবার এগিয়ে যায় ক্যারিবীয় দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয়ে হাঁফ ছাড়ে মরোক্কানরা। সি গ্রুপ ব্রাজিলের পেছনে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে শেষ-৩২ রাউন্ডে পা রাখে মরক্কো। ব্রাজিলের সমান ৭ পয়েন্ট তাদের।
তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে (১ গোল)। এদিন বিশ্বকাপে আফ্রিকা অঞ্চলের সর্বোচ্চ গোলদাতা দেশ হিসেবে নাম লেখায় অ্যাটলাস সিংহরা। ২৯শে জুন মন্টেরেতে গ্রুপ ‘এফ’ চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামবে মরক্কো। আটলান্টা স্টেডিয়ামে মরক্কোর শুরুটা ছিল হতাশার। দশম মিনিটে চমক দেখিয়ে লিড নেয় হাইতি। ডান দিক দিয়ে দারুণ দৌড়ে উঠে আসা ডুভেরনের ক্রস থেকে লেনি জোসেফের ফ্লিকে বল মরক্কোর জালে জড়িয়ে যায়। পরে গোলটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর নামে নথিভুক্ত হলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় হাইতি। এটি ৫২ বছরে বিশ্বকাপে দেশটির প্রথম গোল। এবারের বিশ্বকাপে ৪৫তম দেশ হিসেবে গোল করার ঘটনা। ৩০তম মিনিটে আশরাফ হাকিমি ও আয়ুব এল কাবির টানা দুটি প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিদ। ৩৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের উঁচু ক্রস গোলরক্ষক প্লাসিদ মুষ্টিবদ্ধ করে দূরে সরানোর চেষ্টা করলে গোলমুখে থাকা আশরাফ হাকিমি স্লাইড করে বল জালে পাঠান। বিশ্বকাপে নিজের ১৩তম ম্যাচে এসে প্রথম গোলের দেখা পান তিনি। অবশ্য হাইতির খেলোয়াড়রা হাকিমির গোলকে অফসাইডের দাবি তুললেও রেফারি সেটি বহাল রাখেন। চার মিনিট পরই আবার এগিয়ে যায় হাইতি। মাঝমাঠে বল পুনরুদ্ধারের পর ডাকেন্স নাজনের পাস পেয়ে ইসিদোর এক স্পর্শে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালের ওপরের বাঁ কোণায় পাঠান। এই গোলে হাইতি ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এই প্রথম বিশ্বকাপের এক ম্যাচে দুই গোল করে হাইতি।
অবশ্য লিড নিয়ে বিরতিতে যেতে পারেনি তারা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফের সমতায় ফেরে মরক্কো। দিয়াজের চতুর ডামি ছেড়ে দেয়া পাসে বক্সে ফাঁকা জায়গা পান ইসমাইল সাইবারি। ডান পায়ের শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে ২-২ সমতা ফেরান তিনি। প্রথম আফ্রিকান হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে টানা তিন ম্যাচের গোল করার কীর্তি গড়েন সাইবারি। মরক্কোর হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এখন তার। বিরতির পর ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। ৫৯তম মিনিটে এল খান্নুসের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন প্লাসিদ। অন্যদিকে হাইতিও কয়েকটি পাল্টা আক্রমণ গড়ে তুললেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তহীনতায় সুযোগ নষ্ট করে। ৭৮তম মিনিটে প্রথমবারের মতো লিড নেয় মরক্কো। কর্নার থেকে ফিরে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রহিমি সতীর্থদের সহায়তা ছাড়াই জায়গা তৈরি করেন। এরপর সতর্কভাবে বল সেট করে জোরালো শটে জালের উপরের কোণায় বল পাঠিয়ে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ৮৯তম মিনিটে জয় নিশ্চিত করে মরক্কো। বাম প্রান্ত দিয়ে দারুণভাবে বল নিয়ন্ত্রণে রেখে রহিমি গোললাইন থেকে ক্রস বাড়ান। গোলমুখে ফাঁকায় থাকা ইয়াসিন সহজেই বল জালে পাঠান। ভিএআরে বল মাঠের ভেতরে ছিল কি না পরীক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত গোলটি বহাল থাকে। যোগ করা সময়ে হাইতি ব্যবধান কমানোর সুযোগ পায়। নাজনের ফ্রি-কিক দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন বুনু। এরপর কর্নার থেকেও গোল পায়নি তারা।শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরক্কো। এই জয়ে নাইজেরিয়াকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে আফ্রিকার সর্বোচ্চ গোলদাতা দেশ এখন মরক্কো (২৬ গোল)। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে মরক্কোর সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও এটি। এই ম্যাচে মরক্কো ৬৯ শতাংশ বলের দখল রেখেছে। যা বিশ্বকাপে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
