দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফিরেছেন ব্রাজিলের চোটজর্জর মহাতারকা নেইমার জুনিয়র। তার এই দারুণ প্রত্যাবর্তনের দিনে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। সেই সঙ্গে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে পা রেখেছে সেলেসাওরা। তবে এ জয় ছাপিয়ে সব ভক্তদের অপেক্ষা ছিল তাদের জুনিয়র জিনিয়াসের জন্য। মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে নেইমার মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো গ্যালারি করতালিতে ফেটে পড়ে। তাকে সঙ্গী করে ব্রাজিলের এমন চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ডিফেন্ডার তপু বর্মন। তার মতে, ব্রাজিল আসলে চেনা ছন্দে ফিরেছে।
তিনি বলেন, ‘দলের অবস্থা এখন খুব ভালো। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচের ধাক্কা সামলে তারা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা দারুণ। নেইমারের কামব্যাকটা ব্রাজিল দলের জন্য জরুরি ছিল। গত ম্যাচে সে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে এবং মাঠে নেমেছে। এটি দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে এবং আমার মনে হয় এখন তাদের আত্মবিশ্বাস বেশ উঁচুতে রয়েছে। এটি একটি চমৎকার দলগত পারফরম্যান্স ছিল।’ তপু মনে করেন নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন পুরো দলের জন্য এক বিশাল ইতিবাচক দিক হিসেবে কাজ করছে, যা সতীর্থদের জোগাচ্ছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। সেলেসাওদের এই চমৎকার জয় তাদের আসন্ন শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে আরও বেশি উজ্জ্বল করে তুলেছে। অন্যদিকে বিশ্বকাপকে রাঙাতে এই মহাতারকাদের পারফরম্যান্স নিয়ে তপু বেশ আশাবাদী। বিশেষ করে মেসি, রোনালদো আর নেইমারের মতো তারকাদের পারফরম্যান্স রাউন্ড ৩২-কে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে বলে মনে করেন তপু। তিনি বলেন, ‘মেসি অসাধারণ শুরু করেছে, রোনালদো ও নেইমারকে নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও তারাও নকআউটে যাওয়ার আগে জ্বলে উঠেছে। বিশ্বকাপে এই ৩ মহাতারকার উপস্থিতি টুর্নামেন্টকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। তাদের ফ্যান বেজ এবং ফুটবলীয় ঐতিহ্য বিশ্বকাপকে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।’
মেসি ২ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন। রোনালদোও চেনা ছন্দে ২ গোল পেয়ে ফেরায় বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব এবং দারুণ ফুটবলীয় উন্মাদনা। আর নেইমারের মাঠে ফেরা ফুটবল ভক্তদের জন্যও ছিল এক অন্যরকম আনন্দের উপলক্ষ। নেইমারের ফিটনেস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তপু তার অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন। তপু বলেন, ‘একজন পরিণত ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে যেভাবে খেলা উচিত, সে সেটাই ১০০ ভাগ ঢেলে দিয়েছে। নেইমার কিন্তু মোটেও ক্লান্ত ছিল না, তবে অনেক দিন পর প্রথম ম্যাচ খেলায় কিছুটা ধীরস্থিরভাবে সবকিছু নিখুঁত করতে চাচ্ছিল, যেমন ইজি পাস দেয়া।’ মাঠে নেইমারের এমন নিয়ন্ত্রিত ও দুর্দান্ত খেলার শৈলী ব্রাজিলের আক্রমণভাগের শক্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে এই অভিজ্ঞ ফুটবলার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় রাউন্ডের অত্যন্ত জটিল সমীকরণ ও এশিয়ান পরাশক্তি জাপানের দুর্দান্ত টিমওয়ার্ক নিয়ে তপু বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন।
তপু বলেন, ‘জাপানকে দেখেন, তারা নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ড্র করেছে, তিউনিশিয়াকে ৪ গোল দিয়েছে। তারা যেভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চেয়েছিল, সেটিতে তারা শতভাগ সফল। এশিয়ান পরাশক্তি হিসেবে জাপান গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ যাবে এবং সেক্ষেত্রে ব্রাজিলের সঙ্গে জাপানেরই খেলা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’ সুইডেন যদি আজ জাপানকে হারিয়ে দেয়, তবে আবার সুইডেনের সঙ্গেই ব্রাজিলের নকআউটের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হতে পারে বলে মনে করিয়ে দেন তপু। গ্রুপ পর্বের অন্যান্য বড় ম্যাচগুলোর সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পর্তুগালের প্রশংসা করেন তপু। তপু বলেন, ‘উরুগুয়েকে নিয়ে আমার কোনো বাড়তি প্রত্যাশা নেই। তবে পর্তুগাল খুব দারুণভাবে কামব্যাক করেছে। রোনালদো গোল পেয়েছেন এবং উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তারা ৫ গোলে জিতেছে। এটি দলের জন্য বিশাল প্লাস পয়েন্ট।’ অন্যদিকে স্পেনও দাপট দেখাচ্ছে। রাউন্ড অব ৩২-এ যখন বড় দলগুলো একে অপরের মুখোমুখি হবে, তখন এই বিশ্বকাপ আরও অনেক বেশি জমজমাট হয়ে উঠবে বলে তপু বিশ্বাস করেন।
