সিলেটে মুশফিকের তোপ

সিলেটে মুশফিকের তোপ

ফন্ট সাইজ:

সিলেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল ছিল ব্যাটারদের দাপট আর বোলারদের ধৈর্যের অগ্নিপরীক্ষা। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের হয়ে ম্যাথু ক্যাম্পবেল উপহার দিলেন এক মহাকাব্যিক ইনিংস। বাঁহাতি এই ব্যাটার তুলে নিলেন ঝকঝকে এক সেঞ্চুরি। তবে দিনের শেষ ভাগে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বোলাররা ম্যাচে ফিরলেন দুর্দান্তভাবে। বিশেষ করে পেসার মুশফিক হাসানের বোলিং তোপে বিপদে সফরকারীরা। চার দিনের সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দুই দলের লড়াই এখন তুঙ্গে। বৃষ্টির কারণে প্রথম দিনে খেলা হয়েছিল সামান্য।

গতকাল অবশ্য কিছুটা সময় মিলেছে। ম্যাথু ১১৯ রানের ইনিংস খেলে দলকে বড় সংগ্রহের পথে রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ বিকালে মুশফিকের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে জিম্বাবুয়ে ‘এ’। ৮৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা ম্যাথুর বিদায়ের পর সফরকারীদের রানের গতি কমেছে অনেকটাই। মুশফিকের ভেতরে ঢোকা বলগুলো সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সফরকারী ব্যাটাররা। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে স্কোরবোর্ডে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৮৯ রান। তৃতীয় দিনে নতুন বলের আশায় টাইগাররা।

ম্যাথু ক্যাম্পবেল গতকাল ব্যাট হাতে যেন উইকেটে রাজত্ব করলেন। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের এই ব্যাটার শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। এনামুল হক এনাম ও অন্যদের বল অনায়াসেই বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছেন তিনি। ১৮টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে সাজানো ১১৯ রানের ইনিংসটি ছিল মুগ্ধতা ছড়ানো। সেঞ্চুরির পথে দু’বার জীবন পেলেও দারুণ আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এনামুলের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তরুণ এই ক্রিকেটার। ম্যাথুর বিদায়ের পর জোনাথন ক্যাম্পবেল ক্রিজে এসে দলের হাল ধরেন। আন্তুম নাকভির সঙ্গে তার জুটিটা ভালোই জমে উঠেছিল। ৩৩ রানের ইনিংসে জোনাথন দেখিয়েছেন সাবলীল ব্যাটিং। লং অন দিয়ে নাঈম আহমেদের বল সীমানা ছাড়া করে সামর্থ্যরে জানান দিয়েছেন তিনি। অপর প্রান্তে নাকভি ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে উইকেটে টিকে আছেন। তাদের এই প্রতিরোধের কারণেই সফরকারীরা তিনশ রানের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। সারাদিন জিম্বাবুয়ে ব্যাট হাতে নিয়ন্ত্রণ করলেও মুশফিক হাসানের বোলিংয়ে গতকাল বিকেলের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়।

রাউন্ড দা উইকেটে বোলিং করে তিনি সফরকারীদের ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করেছেন। জোনাথনের এলবিডব্লিউ ও পরে ক্লাইভ মাডান্ডেকে ফিরিয়ে দিয়ে তিনি ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। উইকেট পাওয়ার পর দলের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বোলাররা এখন নতুন বল হাতে নেয়ার অপেক্ষায়। তৃতীয় দিন সকালে তাদের লক্ষ্য দ্রুত বাকি উইকেটগুলো তুলে নিয়ে ম্যাচ নিজেদের দিকে ঘোরানো। বাংলাদেশ ইমার্জিং বোলারদের লক্ষ্য এখন প্রথম ইনিংস দ্রুত শেষ করা। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল চাইবে স্কোরবোর্ড বড় করতে। খেলার এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি বলই গুরুত্বপূর্ণ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন