বয়স মাত্র ১৮। বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলছেন এই প্রথম। তবু কেরিম আলায়বেগোভিচ সিয়াটলে যা করে দেখালেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য! বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নকআউটে জায়গা পাকাপাকি করেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। সেই জয়ের নায়ক এই কিশোর।
২০০৭ সালে জার্মানির কোলন শহরে জন্ম আয়ালবেগোভিচের। বাবা সেমিন আয়ালবেগোভিচও পেশাদার ফুটবলার ছিলেন। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ঘরোয়া লীগে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছেন। চাচাতো ভাই কেনান ভ্রবানও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন। ফুটবল পরিবারে জন্ম নেয়া কেরিম আয়ালবেগোভিচের ক্যারিয়ার শুরু অবশ্য জন্মভূমি জার্মানিতে। ২০২১ সালে বায়ার লেভারকুসেনের যুব একাডেমিতে যোগ দেওয়ার আগে কোলন এফসিতে ফুটবলের হাতেখড়ি। বায়ার লেভারকুসেনের একাডেমিতে আলো ছড়িয়ে ২০২৫ সালে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা রেডবুল সলজবুর্গকে দিয়ে। দলটির হয়ে ১৭ বছর বয়সে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের বাছাইয়ে খেলেন তিনি। ওই ম্যাচের তিন দিন পর অস্ট্রিয়ান কাপে পেশাদার লীগে প্রথম গোলের দেখা পান আলায়বেগোভিচ। জার্মানিতে খেলার সুযোগ থাকলেও তিনি পিতার জন্মভূমি বসনিয়াকে বেছে নেন। বসনিয়ার অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭, ১৯ ও ২১ পর্যায়ের ধাপ পেরিয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক করেন। এবারের বিশ্বকাপে কাতারের বিপক্ষে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স দিয়ে বসনিয়াকে তোলেন নকআউটের মঞ্চে। ম্যাচের শুরু থেকে কানাডার রক্ষণদূর্গে মুহুমুর্হু আক্রমণ শানায় বসনিয়া। কাতারের গোলরক্ষক আবুনাদাকে বারবার পরীক্ষায় ফেলে ড্রাগনরা। সেই চাপের পুরস্কার আসে ২৯তম মিনিটে। বল পায়ে দুই কাতারি ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন আলায়বেগোভিচ। তারপর ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করেন। এতে বসনিয়ার সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার কীর্তি গড়েন আলায়বেগোভিচ (১৮ বছর ২৭৬ দিন)। পাঁচ মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে বসনিয়া। দলের অধিনায়ক এডিন জেকোর হাফ ভলি লেগে যায় কাতারের ডিফেন্ডার আল-ব্রেকের উরুতে। সেখান থেকে ঘুরে গিয়ে আবুনাদার গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হয়। ৪২তম মিনিটে অধিনায়ক আল-হাইদোস জোরালো শটে ব্যবধান কমিয়ে স্কোরলাইন ২-১ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে কাতারের কোচ লোপেতেগি দেশটির সর্বোচ্চ গোলদাতা আলমোয়েজ আলিকে মাঠে নামান। বসনিয়ার রক্ষণে চাপ বাড়ে। কিন্তু ৮২তম মিনিটে কাতারের সমতায় ফেরার স্বপ্ন ভেঙে দেন বদলি নামা মাহমিচ। তার ডিফ্লেক্টেড শটে ৩-১ গোলে নকআউট নিশ্চিত করে বসনিয়া। বিশ্বকাপে বসনিয়ার আগের একমাত্র জয় ছিল ২০১৪ সালে ব্রাজিলে। সেটিও এসেছিল তৃতীয় ম্যাচে ৩-১ গোলে। ১২ বছর পর একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান আলায়বেগোভিচ।
