ইতিহাস হাতছানি দিচ্ছে মিশরকে। মাত্র এক পয়েন্ট পেলেই প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার স্বপ্ন পূরণ হবে ফারাওদের। কাল সকাল ৯টায় সিয়াটল স্টেডিয়ামে ইরানের বিপক্ষে সেই লক্ষ্য নিয়ে নামছে মোহাম্মদ সালাহ অ্যান্ড কোং। ইরানের স্বপ্নও অভিন্ন। তারাও কখনো নকআউটে খেলেনি। আর ‘জি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে বেলজিয়ামকে হারাতে পারলে প্রথমবার নকআউট পর্বে উঠে যেতে পারে নিউজিল্যান্ডও।
আগের ম্যাচেই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পায় মিশর। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ৩-১ গোলের জয় কুড়ায় তারা। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও এটি মিসরের প্রথম জয়। ইরানের বিপক্ষে আরেকটি অনুকূল ফলাফল তাদের নিয়ে যাবে শেষ ৩২ রাউন্ডে। ইরান এর আগে ছয়বার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছে। কিন্তু নকআউটে যেতে পারেনি। নিউজিল্যান্ড ইতিপূর্বে দুইবার অংশ নেয়। তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে ২০১০ আসরে তিন পয়েন্ট অর্জন।
‘জি’ গ্রুপের হালচাল
মিসর: জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন।
ড্র করলে কমপক্ষে দ্বিতীয় হয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত। এমনকি গ্রুপসেরা হওয়াও সম্ভব। সেক্ষেত্রে হয় বেলজিয়ামকে পয়েন্ট খোয়াতে হবে নয়তো বেলজিয়াম জিতলেও গোল ব্যবধানটা এমন হতে হবে যেন তা মিসরকে টপকে না যায়। বর্তমানে +২ গোল ব্যবধানে এগিয়ে মিসর।
মিসর হেরে গেলে তৃতীয় স্থানে নেমে যেতে পারে। তবুও তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা পাওয়ার একটা সুযোগ থাকবে।
বেলজিয়াম: টানা দুই ড্রয়ে আপাতত তিন নম্বরে বেলজিয়াম। জিতলে সরাসরি উতরে যাবে ডি ব্রুইনারা। বেলজিয়াম ড্র করলে আর অন্য ম্যাচে ইরান হারলে নকআউটের টিকিট পাবে বেলজিয়াম।
বেলজিয়াম ড্র করলে এবং ইরানও ড্র করলে টাইব্রেকে (গোল ব্যবধান, সর্বোচ্চ গোল স্কোরিং ইত্যাদি) এগিয়ে থাকা দল যাবে পরের রাউন্ড। বেলজিয়াম ড্র করলে আর ইরান জিতলে অনিশ্চয়তায় থাকতে হবে বেলজিয়ামকে।
ইরান: টানা দুই ম্যাচ ড্র করায় বেলজিয়ামের মতো হুবহু সমীকরণ ইরানের সামনেও।
নিউজিল্যান্ড: সরাসরি নকআউটে জায়গা পেতে জিততে হবে এবং সঙ্গে কামনা করতে হবে ইরান যেন পয়েন্ট খোয়ায়। ইরান জয় পেলে বেলজিয়ামকে হারালেও তিনে নেমে যেতে পারে নিউজিল্যান্ড। সেক্ষেত্রেও তৃতীয় দল হিসেবে ভালো সুযোগ থাকবে কিউইদের। কিন্তু হেরে গেলে কোনো আশা নেই।
নকআউটে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ: শেষ ৩২ রাউন্ডে ‘জি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন মোকাবিলা করবে তৃতীয় স্থানধারী কোনো দলের। আর রানার্সআপ দল খেলবে ‘ডি’ গ্রুপের রানার্সআপদের বিপক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র ‘ডি’ গ্রুপের সেরা দল। তুর্কি আগেই ছিটকে গেছে। তাই প্রতিপক্ষ হবে অস্ট্রেলিয়া কিংবা প্যারাগুয়ে।
