বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি বিকল্প উৎপাদন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় এই খাতের অবদান অপরিসীম। তবুও বাস্তবতা হলো- এসএমই খাত এখনো অর্থায়নের সংকটে জর্জরিত। ব্যাংক ঋণই যেখানে প্রধান ভরসা, সেখানে উচ্চ সুদহার, কঠোর জামানত শর্ত এবং দীর্ঘসূত্রতা উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সময় এসেছে প্রচলিত ব্যাংকনির্ভর কাঠামোর বাইরে গিয়ে বিকল্প অর্থায়ন পদ্ধতি, বিশেষ করে ভেঞ্চার ডেট ও ক্লাস্টার ফান্ড-নীতিগতভাবে মূলধারায় নিয়ে আসা।
এই প্রেক্ষাপটে ভেঞ্চার ডেট ও ক্লাস্টার ফান্ড এসএমই অর্থায়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারক ও ব্যাংকাররা। তাদের মতে, প্রথাগত ব্যাংক ঋণের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মূলধনের যোগান দিতে এই মাধ্যমগুলো বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
ভেঞ্চার ডেট হলো- এমন একটি ঋণব্যবস্থা, যা মূলত স্টার্টআপ ও দ্রুত বর্ধনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া হয়, যাদের প্রচলিত ব্যাংকঋণ পাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জামানত নেই। এটি ইকুইটি বিনিয়োগের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুঁজি সরবরাহ করে, ফলে উদ্যোক্তাদের মালিকানা কমে যাওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়। আর ক্লাস্টার ফান্ড হলো- সমন্বিত উন্নয়নের মডেল, বিশেষ করে- একই খাত বা অঞ্চলের একাধিক এসএমই প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে অর্থায়ন ও সহায়তা প্রদানের একটি কাঠামো। যেমন; পোশাক, চামড়া, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প বা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে নির্দিষ্ট অঞ্চলে গড়ে ওঠা শিল্পগুচ্ছকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ তহবিল গঠন। তবে এক্ষেত্রে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেমন- স্টার্টআপ ও এসএমই এর জন্য ব্যাংক ঋণের সীমাবদ্ধতা।
ভ্যালুয়েশন এবং সিকিউরিটি সম্পত্তি না থাকায় বিনিয়োগে বাধা একটি অন্যতম কারণ। এছাড়া ব্যাংকিং খাত ও ইকুইটি বিনিয়োগ খাতে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে ভেঞ্চার ডেট ফ্যাসিলিটি সৃষ্টির জন্য সরকারি-ব্যাংক ও প্রাইভেট পার্টনারশিপ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ক্লাস্টার ফান্ড এসএমই-ক্লাস্টারগুলোতে একত্রে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা বাড়াতে হবে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা আরও বলছেন, বিকল্প অর্থায়নকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার, যেখানে ভেঞ্চার ডেট ও ক্লাস্টার ফান্ডের কাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও তদারকি পদ্ধতি নির্ধারিত থাকবে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পাইলট প্রকল্প চালু করা যেতে পারে। কর ছাড়, আংশিক ক্রেডিট গ্যারান্টি ও প্রণোদনা স্কিম চালু করে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে হবে। এর পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ব্যবসার খরচ কমানো এবং অর্থায়নের বিকল্প উৎস তৈরি করা জরুরি। তার মতে, এসএমই খাতে উদ্ভাবনী অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু করা গেলে তরুণ উদ্যোক্তারা বেশি উপকৃত হবেন এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। বিশেষ করে ভেঞ্চার ডেট চালু হলে প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ, রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র শিল্প এবং উদ্ভাবনী ব্যবসা সহজে সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, আগামী বাজেটে এসএমই খাত উন্নয়ন এবং এ খাতে সহজ অর্থায়নের বিষয়ে গাইডলাইন দেয়া হবে। শুধু তাই নয়, সরকার বিনিয়োগ-চালিত অর্থনীতি গঠনে গুরুত্ব দেবে, এবং ব্যবসার খরচ কমিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে তার অগ্রাধিকার, যা এসএমই খাতকে সহায়তা করবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা হবে যেন এসএমই ও স্টার্টআপরা সহজেই পুঁজিতে অ্যাক্সেস পায়। উচ্চ খরচ ও বিশৃঙ্খলা (যেমন দুর্নীতি, চাঁদাবাজি) কমিয়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা ও ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম (এফএসিএইচই, এফএলএময়াই) বলেন, বাংলাদেশে বহু সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ রয়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত ও নমনীয় অর্থায়নের অভাবে তারা দ্রুত স্কেল-আপ করতে পারে না। ভেঞ্চার ডেট চালু হলে উদ্যোক্তারা ইকুইটি ছাড়াই মূলধন পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের সক্ষমতা বাড়াবে। তিনি আরও বলেন, ক্লাস্টার ফান্ড গড়ে উঠলে একই খাতের ব্যবসাগুলো যৌথভাবে প্রযুক্তি উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানি বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, যা এককভাবে সম্ভব নয়। ব্যাংকাররা মনে করেন, এতে ঝুঁকি বণ্টন সহজ হয় এবং উৎপাদন, প্রযুক্তি, বিপণন ও রপ্তানি সক্ষমতা একসঙ্গে বৃদ্ধি পায়।
এ প্রসঙ্গে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, এসএমই খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত মডেলের বাইরে চিন্তা করতে হবে। তার মতে, ডিজিটাল ফাইন্যান্সিং, তথ্যভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং বিকল্প বিনিয়োগ কাঠামো একত্রে প্রয়োগ করতে পারলে এসএমই অর্থায়নে গতি আসবে। তিনি মনে করেন, ভেঞ্চার ডেট ও ক্লাস্টারভিত্তিক অর্থায়ন ব্যাংক ও উদ্যোক্তার মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধ তৈরি করতে পারে। এসএমই খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে এসএমই খাতকে টিকিয়ে রাখতে উদ্ভাবনী অর্থায়ন কাঠামো অপরিহার্য। ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বহুমুখী অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে টেকসই প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। সরকার যদি নীতিগত সহায়তা, কর-সুবিধা ও ঝুঁকি ভাগাভাগির কাঠামো তৈরি করে এবং ব্যাংক ও বেসরকারি খাত সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসে, তবে ভেঞ্চার ডেট ও ক্লাস্টার ফান্ড বাংলাদেশের এসএমই খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এসএমই খাতকে শক্তিশালী করতে শুধু ঋণ বিতরণ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার ও বিকল্প বিনিয়োগ পদ্ধতি। ভেঞ্চার ডেট উদ্যোক্তাদের মূলধন জোগাবে, আর ক্লাস্টার ফান্ড গড়ে তুলবে সমন্বিত শিল্পভিত্তি। নীতিনির্ধারক, ব্যাংকার ও উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই এ খাতে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।
সাকিফ শামীম আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাত। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই খাতের অবদান অনস্বীকার্য। গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা থেকে শুরু করে রপ্তানিমুখী শিল্পের সাপ্লাই চেইন সব জায়গাতেই এসএমই একটি মৌলিক চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো-অর্থায়নের প্রশ্নে এসএমই এখনো প্রায় সম্পূর্ণভাবে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল। উচ্চ সুদের হার, জামানত-নির্ভর মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া বহু সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাকে প্রান্তিক করে রাখছে। যাদের বাজার আছে, অর্ডার আছে, সক্ষমতা আছে তাদের অনেকেরই নেই পর্যাপ্ত জামানত। ফলে সম্ভাবনাময় ব্যবসা মাঝপথে থেমে যায় অথবা কাঙিক্ষত সম্প্রসারণ করতে পারে না। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ব্যাংক ঋণের বাইরে কি বিকল্প অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব? বিশেষ করে ভেঞ্চার ডেট ও ক্লাস্টার ফান্ড কি হতে পারে সেই কাঠামোর কার্যকর উপাদান? ভেঞ্চার ডেট এমন একটি অর্থায়ন পদ্ধতি, যেখানে প্রচলিত জামানতের পরিবর্তে গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, নগদ প্রবাহ এবং ব্যবসায়িক মডেলের শক্তিমত্তাকে। এটি মূলত দ্রুত বর্ধনশীল স্টার্টআপ বা স্কেল আপ পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হয় যারা ইকুইটি সম্পূর্ণ ছাড়তে চায় না, আবার ব্যাংকও যাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক।
সাকিফ শামীম বলেন, উন্নত অর্থনীতিতে ভেঞ্চার ডেট ইকোসিস্টেম বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে ভারতে Small Industries Development Bank of India (SIDBI) এবং বিভিন্ন প্রাইভেট ফান্ডের মাধ্যমে এই খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বহু প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণের বিকল্প হিসেবে ভেঞ্চার ডেট ব্যবহার করে সফলভাবে সম্প্রসারণ করেছে। বাংলাদেশেও তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে এমন বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের ব্যবসায়িক ভিত্তি মজবুত কিন্তু জামানত সীমিত। এদের জন্য বিশেষায়িত ভেঞ্চার ডেট ফান্ড গঠন করা গেলে অর্থায়নের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন ডেটা-নির্ভর ঝুঁকি মূল্যায়ন, ক্যাশফ্লো-ভিত্তিক ক্রেডিট অ্যাসেসমেন্ট এবং একটি সুসংহত নিয়ন্ত্রক কাঠামো।
বাংলাদেশের শিল্প কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ক্লাস্টারভিত্তিক উৎপাদন। নারায়ণগঞ্জের নিটওয়্যার, বগুড়ার কৃষিযন্ত্র, কুমিল্লার হোম টেক্সটাইল বা রাজশাহীর সিল্ক এসব উদাহরণ দেখায়, একই অঞ্চলে গুচ্ছ আকারে শিল্প গড়ে উঠেছে। কিন্তু পৃথকভাবে ব্যাংক ঋণ পেতে গিয়ে অধিকাংশ উদ্যোক্তা জটিলতার মুখে পড়ে। ক্লাস্টার ফান্ড মডেলে একই অঞ্চলের বা একই শিল্পখাতের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি যৌথ তহবিল গঠন করা হয়। এতে ঝুঁকি একক উদ্যোক্তার ওপর না পড়ে পুরো ক্লাস্টারের মধ্যে বণ্টিত হয়। তথ্য যাচাই সহজ হয়, সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক অর্থায়ন সম্ভব হয় এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
তিনি বলেন, ইতালির শিল্প ক্লাস্টার মডেল বা ভিয়েতনামের এসএমই ক্লাস্টারভিত্তিক অর্থায়ন আন্তর্জাতিকভাবে সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশেও সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, ব্যাংক এবং শিল্প সমিতির যৌথ অংশগ্রহণে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি শিল্পাঞ্চলে ক্লাস্টার ফান্ড চালু করা গেলে এসএমই অর্থায়নে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে।
তিনি জানান, ভেঞ্চার ডেট বা ক্লাস্টার ফান্ড কোনোটিই স্বয়ংক্রিয় সমাধান নয়। এগুলো কার্যকর করতে হলে আর্থিক খাতে কিছু মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। প্রথমত, একটি শক্তিশালী ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম প্রয়োজন, যাতে নতুন ধরনের ঋণদাতারা ঝুঁকি নিতে উৎসাহিত হন। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল ফাইন্যান্স ও বিকল্প ডেটা-ভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিং চালু করতে হবে যাতে নগদ প্রবাহ, কর পরিশোধ, সরবরাহ চেইন লেনদেন ইত্যাদি তথ্যের ভিত্তিতে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করা যায়। তৃতীয়ত, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতকে বিশেষায়িত ভেঞ্চার ডেট ও ক্লাস্টার ফান্ড পরিচালনায় উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি সুদের হার, মূলধন পর্যাপ্ততা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
সাকিফ শামীম বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসিকতার পরিবর্তন। এসএমই অর্থায়নকে কেবল জামানত-নির্ভর ঋণ হিসেবে দেখলে চলবে না; এটিকে দেখতে হবে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে বিনিয়োগ হিসেবে। ব্যাংক ঋণ সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রশ্ন নয় বরং ব্যাংক ঋণের পরিপূরক হিসেবে বহুমাত্রিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ যদি এলডিসি-পরবর্তী প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব অর্থনীতিতে টিকে থাকতে চায়, তবে এসএমই খাতকে শক্তিশালী করা ছাড়া বিকল্প নেই। আর এসএমই শক্তিশালী করতে হলে অর্থায়নের নতুন পথ খুলতেই হবে। আমার বিশ্বাস, ভেঞ্চার ডেট ও ক্লাস্টার ফান্ড-দুটি কাঠামোই সঠিক নীতি, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা গেলে এসএমই খাতে নতুন বিনিয়োগের দ্বার উন্মুক্ত হবে। ব্যাংক ঋণের গণ্ডি পেরিয়ে এখন আমাদের সাহসী, উদ্ভাবনী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ফাইন্যান্স ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার সময়-কারণ এসএমই বাঁচলে অর্থনীতি এগোবে।
