জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলেও কাঠগড়ায় ওঠেননি চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী। বুধবার তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। তবে অসুস্থতার কারণে পুরো সময় অ্যাম্বুলেন্সেই অবস্থান করেন তিনি। এদিন মামলার ডিসচার্জ (অব্যাহতি) আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ফজলে করিমের আইনজীবী জানান, তার মক্কেল চিকিৎসাধীন। প্রসিকিউশন জানায়, তিনি ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণেই উপস্থিত আছেন এবং শুনানির জন্য আসামির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। পরে তার আইনজীবী মক্কেলের পক্ষে শুনানি করেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, বিচার বিলম্বিত করতেই অসুস্থতার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। তবে আসামিপক্ষ জানায়, কারাভ্যানে দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুনানি শেষে ফজলে করিমের অব্যাহতি আবেদন বিষয়ে কার্যক্রম অসমাপ্ত রেখে আগামী ২৮শে জুন পর্যন্ত মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদসহ ২২ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ফজলে করিমসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার এবং ১৭ জন পলাতক।
ফারহান ফাইয়াজ হত্যার বিচার চাইলেন বাবা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দিয়েছেন জুলাই শহীদ মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়ার (ফারহান ফাইয়াজ) বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। বুধবার দেয়া জবানবন্দিতে তিনি সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ তার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ই জুলাই ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ফারহান ফাইয়াজ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেয়। ধানমন্ডি-২৭ এলাকায় অবস্থানকালে পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এ সময় ফারহানের বুকে গুলি লাগে। শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। পরে লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে ছেলেকে দেখতে পান। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ফারহান মারা যায়। হাসপাতালের মৃত্যুসনদে উল্লেখ ছিল, সে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেছে।
