অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারে প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন

সহযোগীদের খবর

অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারে প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন

ফন্ট সাইজ:

ইত্তেফাক

‘অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারে প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদেন বলা হয়, রাজনৈতিক কোন্দল, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে দেশ জুড়ে খুন, টার্গেট কিলিং ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর পরেই সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে চট্টগ্রামে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত তিন মাসে সারা দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ডের মামলা হয়েছে। অর্থাত্ গড়ে প্রতিদিন ১০টিরও বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক পরপরই, অর্থাত্ মার্চ মাসে ৩১৭টি, এপ্রিলে ২৮৮টি ও মে মাসে ৩১০টি মামলা দায়ের হয়েছে। গত বছরের এই তিন মাসে ৯৯৩টি মামলা হয়েছিল, তবে এর মধ্যে ২২৬টি মামলা ছিল আগের ঘটনার জের। অন্যদিকে ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৭৯৪। অর্থাত্ হত্যাকাণ্ড বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত পহেলা মে থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। চলমান বিশেষ অভিযানে গতকাল পর্যন্ত ১৫৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১৭৮৫ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ম্যাগজিন ৫২টি, হাতবোমা ৩২টি, গানপাউডার ২ হাজার ২০০ কেজি উদ্ধার করা হয়েছে।

চলতি বছর এই তিন মাসে সবচেয়ে বেশি ২০৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা রেঞ্জে। এরপর চট্টগ্রামে ১৮৬টি, রাজশাহীতে ১০৬টি ও খুলনায় ৮৪টি মামলা হয়েছে।

মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোর মধ্যে বরাবরের মতোই শীর্ষে ঢাকা, যেখানে ৫৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দিনদুপুরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ বাড়ছে।

সবশেষ গত ১৩ জুন ট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার এক জনাকীর্ণ বাজারে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি অটোরিকশায় করে পাঁচ থেকে সাত জন সশস্ত্র ব্যক্তি এসে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়। এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি একই উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নে নিজ বাড়ির সামনে জানে আলম সিকদার (৫১) নামের অন্য এক যুবদল নেতাকে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। স্থানীয়রা এখন রাউজানকে ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কেবল রাউজানেই অন্তত ২৫ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে ৯৪৫টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল, যার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় ৭০০টির মতো অস্ত্র উদ্ধার করেছে ও ৫ সেপ্টেম্বরের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ৬১৭টি অস্ত্র জমা পড়েছিল। অর্থাত্ এখনো প্রায় ১৬৫টির মতো লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।

অন্য জেলাগুলোর মধ্যে গত ১৩ জুন খুলনায় এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া ১৫ জুন খুলনা শহরের দৌলতপুরে ফজর নামাজের সময় মসজিদের ভেতর সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে দুই মুসল্লি আহত হন। একই দিন ঢাকার পশ্চিম রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে ‘কাইল্যা পলাশ’ কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বেশ কয়েক জন কুখ্যাত গ্যাং লিডার ও দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী কারাগার থেকে জামিনে বা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসায় সহিংসতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই অপরাধীরা তাদের হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় পাঁচ জন নিহত ও ২৮৯ জন আহত (১১ জন গুলিবিদ্ধ) হয়েছেন। এপ্রিল মাসে ৯৮টি ঘটনায় ছয় জন নিহত ও ৫৩৩ জন আহত (৩৭ জন গুলিবিদ্ধ) হয়েছেন। মার্চ মাসে ১১৩টি ঘটনায় অন্তত ১৮ জন নিহত ও ৯১২ জন আহত (১৫ জন গুলিবিদ্ধ) হয়েছেন। রাউজানে গত ২৬ এপ্রিল বিএনপি কর্মী নাসির উদ্দিন নিহত হন। এর দুদিন আগে ২৪ এপ্রিল নিহত হন বিএনপি নেতা কাউসারুজ্জামান। ২ এপ্রিল পাবনার ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। খুলনায় ৫ মার্চ সাবেক রূপসা শ্রমিক দল সভাপতি মাসুম বিল্লাহ গুলিতে নিহত হন। আর ১৪ মার্চ বাগেরহাটে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সোহেলকে হত্যা করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্রে খুনাখুনি বেশি ঘটছে। গত দেড় বছরে যশোর সীমান্ত এলাকায় ৬২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশেই বিদেশি পিস্তল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তুরস্ক ও জার্মানিতে তৈরি রিভলবার ও পিস্তলসহ ১১টি বিদেশি উন্নতমানের আগ্নেয়াস্ত্র, একটি নতুন অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় পয়েসবচ ২২ ক্যালিবার একে রাইফেল এবং দুটি এয়ারগান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পর যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে সবচেয়ে বেশি অবৈধ ক্ষুদ্র অস্ত্র প্রবেশ করছে। পার্শ্ববর্তী দেশে তৈরি ‘কাটা রাইফেল’, ‘বেলঘরিয়া পিস্তল’ এবং ৯ এমএম পিস্তলের মতো ছোট আকারের আগ্নেয়াস্ত্র সহজে বহন ও গোপন করা যায়, যা চোরাচালানকে আরো সহজ করে তুলছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের মধ্যেও খুনাখুনি চলছে। সর্বশেষ গত দুই দিন আগে মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি অস্ত্রসহ সোহেল ওরফে ‘মাওরা সোহেল’ নামে পরিচিত এক শীর্ষ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার সোহেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রথম আলো

‘কারখানা তৈরি, গ্যাস নেই, ঋণের সুদ ঠিকই দিতে হয়’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দুটি কারখানা পাশাপাশি। একটি কাচ তৈরির, আরেকটি রডের। দুই কারখানায় বিনিয়োগ প্রায় ৭ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। প্রায় পুরোটাই দেশি-বিদেশি ঋণ। বছরে সুদ দিতে হয় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা; কিন্তু গ্যাস–সংযোগ না পেয়ে কারখানা দুটি চালু করা যাচ্ছে না।

কারখানা দুটি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই)। করা হয়েছে কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলে। কাচ তৈরির কারখানাটি নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় আড়াই বছর আগে। আর রডের কারখানাটির কাজ শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে।

এমজিআই যখন বিনিয়োগ করে, তখন তারা গ্যাস–সংযোগের আশ্বাস পেয়েছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নিজেরাই ৫৫০ কোটি টাকা খরচ করে গ্যাসলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করেছে; কিন্তু গ্যাস–সংযোগ পাওয়া যায়নি।

দুই কারখানার ঋণের বিপরীতে মাসে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা সুদ দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ২০ জুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই বিনিয়োগ বিদেশি ঋণে হয়েছে। বিদেশি ঋণে তো আর রিশিডিউল (পুনঃ তফসিল) করা যায় না। সুদও মাফ পাওয়া যায় না। গ্যাস না পেলে কারখানা দুটি চালু করা যাবে না।’ তিনি বলেন, কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলে মোট সাতটি কারখানায় ১৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা। সবকিছু থেমে আছে গ্যাসের অভাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সভায় ২০ জুন বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছেন।

শুধু এমজিআই নয়, ছোট, মাঝারি ও বড় বেশ কিছু শিল্পগোষ্ঠী কারখানায় গ্যাস–সংযোগ না পেয়ে বিপাকে আছে। কেউ কেউ বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে গেছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র জানায়, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসিসহ ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কাছে শিল্প সংযোগের ১ হাজার ৮০০টির বেশি আবেদন জমা আছে। এর মধ্যে ৫৫০টির মতো প্রতিষ্ঠান সব প্রক্রিয়া শেষ করে সংযোগের (প্রতিশ্রুত সংযোগ) অপেক্ষায় রয়েছে। মানে হলো, তারা গ্যাস-সংযোগের জন্য টাকাও জমা দিয়েছে; কিন্তু গ্যাস পাচ্ছে না।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী গত ২০ এপ্রিল কারখানায় গ্যাস–সংযোগ না পাওয়া নিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিবকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি পাঁচটি কারখানার কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে দুটি এমজিআইয়ের।

আশিক চৌধুরী বলেন, গ্যাস–সংযোগ দিতে না পারলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান হবে না। ভবিষ্যতে দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন।

সরেজমিন

এমজিআইয়ের কারখানা দুটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। ঢাকা থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায়। সেখানে বেসরকারিভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে এমজিআই। জমির পরিমাণ ৩৬১ একর।

সরেজমিনে ২০ জুন দেখা যায়, মহাসড়ক থেকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে যেতে রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। তাতে জমে আছে বৃষ্টির পানি। তার মধ্য দিয়ে কোনো রকমে যানবাহন চলছে।

ভাঙা রাস্তা দিয়ে কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঢুকে দেখা যায়, দুটি কারখানার কাজ শেষ। এখন অন্য কারখানা ও স্থাপনা তৈরির কাজ চলছে। শ্রমিকদের আবাসনের জন্য ভবন নির্মাণও শেষ। দেখা গেল, বিদ্যুতের লাইন তৈরি আছে, গ্যাসের লাইন তৈরি আছে; কিন্তু সংযোগ নেই।

এমজিআইয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুতে যদি তাঁদের বলা হতো যে গ্যাস পাওয়া যাবে না, তাহলে বিপুল বিনিয়োগ করে কারখানা করতেন না। কাচের কারখানাটিতে তাঁদের বিনিয়োগ ২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সেটির নাম মেঘনা গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিডেট; আর রডের কারখানার নাম মেঘনা রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস লিমিটেড। বিনিয়োগ ৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। দুটি কারখানা করতে এমজিআই বিশ্বব্যাংক গোষ্ঠীর সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) ঋণ নিয়েছে।

এমজিআই দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর একটি। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এমজিআইয়ের বর্তমানে ৫৭টির বেশি কারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলে শুধু গ্যাস নয়, শিল্পের বিদ্যুৎ–সংযোগও পাওয়া যায়নি। আর রাস্তাটি মেরামতের জন্য সরকারকে একাধিকবার অনুরোধ করেছিল এমজিআই; তবে মেরামত হয়নি।

এমজিআইয়ের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) সুমন চন্দ্র ভৌমিক প্রথম আলোকে বলেন, রাস্তাটি বড় করা এবং সংস্কারের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা; কিন্তু প্রকল্পটি তখন পাস হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারও অর্থাভাবে প্রকল্পটি অনুমোদন করেনি। তিনি বলেন, রাস্তাটি মেঘনা উপজেলার সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে সংযুক্ত করেছে। শিল্পকারখানা এবং সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তাটি খুবই জরুরি।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সবার নজর এখন তিস্তায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে নেই। তবে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ইস্যুটি আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, কৌশলগত কারণে চীনের মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন চাইছে না ভারত। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় তিস্তা প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই বাংলাদেশ এও বলে রেখেছে যে, তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে করবে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী আলোচনা হয়, তা দেখার অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাই। ভারতের পাশাপাশি কূটনৈতিক মহল এবং বাংলাদেশের সচেতন জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে-সবার নজর এখন তিস্তায়।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরের প্রথম দিনে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। চারদিনের এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা, দ্বিতীয় মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ, মুক্তবাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, বাংলাদেশ থেকে চীনে উচ্চমানের পণ্য রপ্তানিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের আগ্রহ অনেকদিনের। যদিও বিষয়টিকে শুরু থেকেই নেতিবাচকভাবে দেখছে ভারত। তিস্তা এলাকা সংবেদনশীল ‘চিকেন নেক’-এর কাছাকাছি হওয়ায় প্রকল্পে চীনের আগ্রহকে ভারত ভবিষ্যতে তাদের নিরাপত্তাজনিত হুমকি হিসাবে দেখতে পারে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো-ভারত থেকে প্রবাহিত তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আজও পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়টি এখন শুধু বাংলাদেশের ন্যায্য পানির চাওয়ার মধ্যে আটকে নেই। কারণ, তিস্তার ওপারে ভারত। তিস্তার উজানের অংশ আবার চীনের নিয়ন্ত্রণে। সেখানেও চীনের একটি প্রকল্প পরিকল্পনা আছে। মনে করা হয়, তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহের বড় কারণ ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্প। যার মাধ্যমে চীন এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশকে একীভূত করতে চায়। তাই তিস্তা প্রকল্প ঘিরে ভূরাজনৈতিক নানা হিসাবনিকাশের বিষয় রয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, প্রথমত, নদীশাসন নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের অনেকে নিশ্চিত নন তিস্তা অববাহিকায় ঠিক কী ধরনের প্রকল্প করলে তা বাংলাদেশের উপকারে আসবে। তাই এ মহাপরিকল্পনার বিষয়ে আমাদের দিক থেকে আরও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় বিদেশি অর্থায়ন হলে তা আসবে ঋণ আকারে। প্রকল্প থেকে যদি সরাসরি কোনো আয় না হয়, তাহলে এই ঋণ আমাদের জন্য বোঝা হতে পারে। বৈদেশিক রিজার্ভের ওপর চাপ পড়তে পারে। তৃতীয়ত, পরিবেশের ওপর এর প্রভাব কী পড়তে পারে, সেটিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। কারণ, তিস্তা প্রকল্প মানেই পানির প্রাকৃতিক প্রবাহে কৃত্রিম কিছু করা। চতুর্থত, ভাবতে হবে এটি মেইনটেইন করার মতো ট্যাকনিক্যাল ক্যাপাসিটি আমাদের আছে কি না।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা নদীর সঙ্গে ভারত, চীনসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের নদীপ্রবাহ জড়িত। আমরা কতটুকু পানি পাব, তা নিশ্চিত হওয়া না গেলে প্রকল্প জটিল হয়ে যাবে। তাই ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হতে হবে। নদীর উজানে চীনের নিয়ন্ত্রণ। তাই ভারতও পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এ বিষয়ে বহুপাক্ষিকভাবে আলোচনা করা যায়।

কালের কণ্ঠ

‘ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে দেশ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঘুষ, দুর্নীতি ও কর ফাঁকি ঠেকাতে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

‘বাংলা কিউআর’ নামের এ উদ্যোগ পুরোপুরি চালু হলে একজন গ্রাহক নগদ টাকা ছাড়াই সব ধরনের লেনদেন করতে পারবে। এ জন্য দেশের সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে চলতি জুন মাসের মধ্যেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখনো ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে প্রচারের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এর ব্যাপক প্রচার করা গেলে মানুষ এতে উদ্বুদ্ধ হবে এবং উদ্যোগটিও সফল হবে।

বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথমত, গ্রাহকের একটি ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিক্রেতাকে ব্যাংক বা এমএফএসের মাধ্যমে বাংলা কিউআর এজেন্ট হতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মুদি দোকান, সবজি বাজার থেকে শুরু করে বড় শপিং মল পর্যন্ত এই সেবা চালু করা গেলে ধীরে ধীরে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

জানা যায়, নগদ টাকার লেনদেন বন্ধ হলে সরকারের অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। কারণ লেনদেনের জন্য কাগুজে নোট ছাপতেই সরকারের ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। যখন সব লেনদেন ক্যাশলেস হয়ে যাবে, তখন কাগুজে নোটের আর প্রয়োজন হবে না। এদিক থেকে সব লেনদেন ক্যাশলেস করার এ উদ্যোগ দেশের জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে বড় সংকট হলো দেশে এখনো ৮০ শতাংশ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই।

তাদের অ্যাকাউন্টের আওতায় এনে ক্যাশলেস লেনদেনে অভ্যস্ত করানো একটু চ্যালেঞ্জের। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও ব্যাংক খাতে ঠিকই ৪২ কোটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এটা এক ধরনের বৈপরীত্য। জানা যায়, অনেকের একের বেশি অ্যাকাউন্ট থাকার কারণেই দেশের জনসংখ্যার চেয়ে অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেশি।

এদিকে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো, নগদের ব্যবহার কমানো এবং প্রান্তিক পর্যায়ে আধুনিক পেমেন্ট সুবিধা পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে বাংলা কিউআর কার্যক্রম সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম বৈঠক গত সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে গভর্নর বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং নগদের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সেবাকে জনপ্রিয় করার আহবান জানান এবং সরকারি বিভিন্ন ফি ও চার্জও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে নেওয়ার প্রস্তাব দেন।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু করতে চলমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় এ প্রস্তাব

দেওয়া হয়। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী নতুন করে সমঝোতা স্মারক সই করতে হবে, যা ডিসেম্বরে শেষ হবে। দ্রুত সংশোধন করা না হলে সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

অবশ্য দুই দেশই মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী করতে একমত হয়েছে। এতে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমে আসবে। তবে এসব প্রক্রিয়া শেষ করে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত রোববার মালয়েশিয়া সফরে যান। পরদিন সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের কথা বলা হয়। ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) পর্যালোচনা করবে এবং বর্তমান বাস্তবতা

ও দুই দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করবে। তবে দ্রুত শ্রমবাজার খুলতে বাংলাদেশ চায় সমঝোতা স্মারকের সংশোধন।

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা সমকালকে বলেন, নতুন করে সমঝোতা স্মারক সই করার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। চলমান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে দুই বছর ধরে আলোচনা করতে হয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য তা স্বাক্ষরিত হয়।

যদিও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার সংসদে জানিয়েছেন, সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে কাজ করছে। আশা করা যায়, দ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।

প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সমকালকে বলেন, 'মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।'

গত সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে। আমরা একমত হয়েছি, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী হতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং কর্মীদের খরচ হ্রাস পায়।'

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে প্রতারণা, প্রতিশ্রুত চাকরি ও বেতন না দেওয়া এবং অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করায় মালয়েশিয়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে রয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণ, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ বা শুধু কোম্পানির লাভের জন্য তাদের ব্যবহার করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া ন্যায্য ও মানবিক করা এবং শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় জোর দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘রাজস্বে রেকর্ড ঘাটতি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে। অঙ্কটি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ; বাংলাদেশের ইতিহাসে ১১ মাসে টাকার অঙ্কে এত রাজস্ব আগে আদায় হয়নি। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আদায় বেড়েছে প্রায় ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা বা ১০.০২ শতাংশ। কিন্তু সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ১১ মাসে আদায় করা রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ আদায় করতে হবে শেষ মাসে, যা হবে আগের বছরের একই সময়ের আদায়ের চেয়ে ২৪১ শতাংশ বেশি।

১১ মাসের মতো শেষ মাসে ১০ শতাংশ রাজস্ব আদায় এনবিআর বৃৃদ্ধি করতে পারলে মোট আদায় হতে পারে ৪ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার মতো। এতে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ কোটি টাকা। এনবিআর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। আর এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে নতুন বছরে এনবিআরকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে সাড়ে ৪৮ শতাংশ যা কার্যত কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সামষ্টিক অর্থনীতির পুনর্গঠন, চরম মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দুই অঙ্কের এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সরকারের জন্য বড় স্বস্তির খবর বলে এনবিআরের কেউ কেউ মন্তব্য করছেন। কিন্তু এই মুদ্রার উল্টো পিঠ হলো- ১১ মাসেই এনবিআর তার নিজস্ব সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৮১ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা পিছিয়ে আছে।

ফলে অবধারিতভাবেই প্রশ্ন উঠছে : চলতি অর্থবছরের কাটছাঁট করা লক্ষ্যমাত্রাই যেখানে পূরণ হচ্ছে না, সেখানে নতুন অর্থবছরের আরো উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কতটা বাস্তবসম্মত?

প্রবৃদ্ধি হয়েছে, লক্ষ্যপূরণের খরা

মে ২০২৬ পর্যন্ত এনবিআরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা; অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার মাত্র ৮১.৬ শতাংশ।

ঘাটতির এই চিত্র নতুন নয়। গত এক দশক ধরে প্রায় প্রতি অর্থবছরেই এনবিআর অতি-উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এবং বছর শেষে বিরাট ঘাটতি নিয়ে হিসাব সমাপ্ত করে। বাজেট প্রণয়নের সময় যে রাজস্বের স্বপ্ন দেখানো হয়, বছর শেষে তার বড় অংশই অধরা থেকে যায়।

এই ব্যবধান সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সরকারের ব্যয় পরিকল্পনা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং ঋণ পরিশোধের হিসাব- সবকিছুই এই কাগজে-কলমে থাকা প্রত্যাশিত আয়ের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়।

বণিক বার্তা

‘সরকারের ট্রেজারি কাঠামোর বাইরে ১৯ হাজার অ্যাকাউন্ট’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিশ্বের সব দেশেই সরকারের আয়-ব্যয়ের সামগ্রিক হিসাব পরিচালিত হয় একটি একক ট্রেজারি অ্যাকাউন্টের (টিএসএ) মাধ্যমে।

যদিও বাংলাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সরকারের বিভিন্ন হিসাবকে এখনো একক কাঠামোর অধীনে আনা সম্ভব হয়নি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, টিএসএ কাঠামোর বাইরে এখনো সরকারের প্রায় ১৯ হাজার হিসাব রয়ে গেছে। প্রত্যক্ষ নজরদারির বাইরে থাকার কারণে এসব হিসাবের মাধ্যমে লেনদেনের স্বচ্ছতা ও অর্থ অপচয়ের বিষয়টি তদারক করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত কেন্দ্রীয় ‘ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট (টিএসএ)’ ব্যবস্থাটি প্রযুক্তিগতভাবে বেশ উন্নত। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং পেনশন এখন ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ-চালান পদ্ধতির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব প্রাপ্তি কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক প্লাটফর্ম আইবাস প্লাস প্লাস-এ রিয়েল টাইমে যুক্ত হচ্ছে। এ অটোমেশনের ফলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ দৈনিক লেনদেন সমন্বয় এবং তারল্য কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারছে।

তবে এ ডিজিটালাইজেশনের বাইরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় ধরনের এক বিশৃঙ্খলা ও সমন্বয়হীনতার চিত্রও উঠে এসেছে এডিবির প্রতিবেদনে। একদিকে সরকারি লেনদেনকে স্বয়ংক্রিয় করতে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ বা ‘এ-চালান’-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, অন্যদিকে ১৯ হাজার ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে কেন্দ্রীয় নজরদারির বাইরে রেখে এক সমান্তরাল ও অনিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক না কেন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করা না গেলে আর্থিক খাতের এ সমন্বয়হীনতা দূর করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

বিশ্বজুড়ে আর্থিক সুশাসন ও দক্ষ নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সুপারিশে অনেক দেশ ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থলে জর্জিয়া ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগী দেশ তুরস্ক তাদের স্থানীয় সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ফান্ডের নগদ অর্থকে আইনি ডিক্রির মাধ্যমে একক হিসাবের আওতায় নিয়ে এসেছে। লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোসহ প্রায় ১৮টি দেশ কয়েক দশক আগেই নিজস্ব আর্থিক আইনের মাধ্যমে টিএসএ ব্যবস্থার সফল প্রবর্তন করেছে। আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া ও তানজানিয়া বাণিজ্যিক ব্যাংকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব হিসাব বন্ধ করে বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি পোশাক খাত ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগী ভিয়েতনাম, ভারত ও কম্বোডিয়াতেও এই একক ট্রেজারি হিসাব কাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী। এসব দেশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সরকারি অ্যাকাউন্টগুলোকে একক ছাতার নিচে নিয়ে আসায় অলস টাকা ব্যাংকে রেখে বাইরে থেকে চড়া সুদে ঋণ নেয়ার মতো আর্থিক রক্তক্ষরণ থেকে মুক্ত। যা দেশগুলোর সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় সুবিধা দিচ্ছে। ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকেও সরকারের সব হিসাবকে টিএসএ কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে বলেছে আইএমএফ। য‌দিও তা পুরোপু‌রি বাস্তবায়ন করা এখনো সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশে টিএসএ কাঠামোর বাইরে থাকা ১৯ হাজার ব্যাংক হিসাবের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে, যারা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার বাইরে স্বাধীনভাবে আলাদা বাণিজ্যিক ব্যাংকিং সুবিধা ব্যবহার করছে। এর মধ্যে দাতা-সংস্থার অর্থায়িত অ্যাকাউন্টও রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় সরকার পর্যায়ের সংস্থাগুলোর অনেক ব্যাংক হিসাবও সরকারের কেন্দ্রীয় তদারকির বাইরে রয়ে গেছে। এ প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্ছিন্নতার পরিণতি বেশ সুদূরপ্রসারী। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অ্যাকাউন্টগুলো বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে আর্থিক দৃশ্যমানতা এবং নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি” তৈরি হচ্ছে। যেহেতু এ বাহ্যিক লেনদেন নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বাইরে চলে যায়, তাই অগ্রিম অ্যাকাউন্ট থেকে হওয়া খরচগুলো আইবাস প্লাস প্লাস সিস্টেমে সঠিকভাবে শ্রেণীবদ্ধ বা ট্র্যাক করা সম্ভব হচ্ছে না।

আর্থিক সুশাসনের তাগিদ দিলেও বাংলাদেশে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দাতা সংস্থাগুলোর নিজস্ব দ্বিমুখী নীতি এ সংকটকে আরো দীর্ঘায়িত করেছে। ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বব্যাংক, এডিবি বা আইডিবির মতো সংস্থাগুলো ঋণের অর্থ ছাড়ের জন্য মূল ট্রেজারির বাইরে আলাদা ‘স্পেশাল অ্যাকাউন্ট’ খোলার শর্ত জুড়ে দেয়, যা প্রকারান্তরে সরকারের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করে তোলে।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘পাঁচ হাজার কোটিতে বস্তিবাসীর আবাসন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর দরিদ্র শ্রমজীবীদের তিন বড় আবাসস্থল কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা বস্তির বাসিন্দাদের জন্য সমন্বিত পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে কয়েক হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটিকে সার্বিকভাবে স্বাগত জানালেও বর্তমান বাসিন্দাদের প্রকল্পকালীন সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থা এবং পরে প্রকৃত বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট পাওয়া নিশ্চিত করতে সতর্ক করে দিয়েছেন নগর বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টরা।

ডিএনসিসি সূত্র বলছে, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির জন্য ৯ জুন চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসানকে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সৈয়দ রাকিবুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বস্তিবাসীর জন্য মানসম্মত আবাসন তৈরি করা হবে। এর অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। শুধু বহুতল ভবন নয়, এই প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট বস্তিবাসীর সব নাগরিক সুবিধাও নিশ্চিত করা হবে।’

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা বস্তিকে নিয়ে একটি সমন্বিত আবাসনের মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। তবে প্রকল্পের নকশা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নকাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সংসদ নির্বাচনের কিছু আগে গত জানুয়ারিতে বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে আয়োজিত বিএনপির এক জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘কড়াইলবাসীর থাকার কষ্ট দূর করতে বহুতল ভবন নির্মাণ করে ছোট ছোট ফ্ল্যাট বানিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সমাধান করা হবে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ নাগরিক সব সমস্যা।’

এর আগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের পুনর্বাসনের জন্য ডিএনসিসির পক্ষ থেকে প্রকল্প নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।

দেশ রূপান্তর

‘তারা কেন বিদ্যুৎ জ্বালানি বোর্ডে’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অর্ধেক শেয়ার রয়েছে এ কোম্পানিতে। খোঁজে খোঁজে কানিজ মওলাকে পাওয়া গেল গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির (জিটিসিএল) বোর্ডে। তিনি এ কোম্পানির পরিচালক। সংস্কৃতি সচিবের জ্বালানির কোম্পানিতে কাজ কী? কীভাবে তিনি এ কোম্পানিতে যুক্ত হলেন? জানা গেল, তিনি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি; প্রভাবশালী আমলা। অনেক কিছুই তার জন্য জায়েজ।

তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগে মোট ৩৭টি কোম্পানি রয়েছে; ৩৭টি বোর্ডে ৩০৬ জন বোর্ড সদস্য রয়েছেন। এসব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের ১৬৭টি পদেই আমলারা রয়েছেন। একই ব্যক্তি একাধিক বোর্ডেরও সদস্য। কোনো বোর্ডে বর্তমান আমলাদের পাশাপাশি প্রভাবশালী সাবেক আমলারাও জায়গা পেয়েছেন। একই আমলা একাধিক বোর্ডে যেমন রয়েছেন, আবার কানিজ মওলার মতো আমলা অন্য মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি কোম্পানির বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরিচালক হয়েছেন। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি কোম্পানিকে টেক্কা দিতে সরকার কোম্পানি গঠন করে থাকে।

কৃষি সচিব ড. রফিকুল ইসলাম মোহাম্মেদও প্রভাবশালী একজন আমলা। তিনি নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) চেয়ারম্যান। স্বাভাবিক নিয়মে তার এখন অবসরকালীন ছুটি কাটানোর কথা। কিন্তু সরকার সে ছুটি বাতিল করে তাকে এক বছরের চুক্তিতে কৃষি সচিব হিসেবে নিয়োগ করেছে। এমনটা ভাবা স্বাভাবিক যে, রফিকুল ইসলাম মোহাম্মেদ হয়তো বিদ্যুৎ বিষয়ে বিস্তর জানেন। কিন্তু তার জীবনবৃত্তান্ত ঘেঁটে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এ সচিব যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন অর্থনীতিতে। উপসচিব থাকাকালে তিনি বগুড়ার ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ছিলেন। নেসকোর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে এ পরিচয় কাজে লেগেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দেশের খাদ্য উৎপাদনের পুরো দায়িত্ব কৃষি মন্ত্রণালয়ের। প্রশ্ন উঠতে পারে, সে মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যনির্বাহীর দায়িত্ব পালনের ফাঁকে তিনি একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কখন, কীভাবে পালন করেন।

শুধু তিনিই নন, স্বরাষ্ট্র থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চেয়ারে বসা নাসিমুল গণি দেশের একমাত্র তেল পরিশোধন কোম্পানি ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির (ইআরএল) চেয়ারম্যান। দেশে ব্যবহার্য তেলের এক-চতুর্থাংশের জোগান দেয় ইআরএল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকও বিআর পাওয়ার জোন নামের বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানির চেয়ারম্যান। সমালোচকরা অবশ্য বলেন, যত বেশি প্রভাব তত বড় কোম্পানি।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘নির্বাচিত সরকারেই আস্থা আইএমএফের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই বছরের বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের অচলাবস্থা কাটিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। যার ফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারির সরকার গঠনের পর উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য পৃথক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে সরকার। এর অংশ হিসেবে এডিবি বাজেট সহায়তা দিয়েছে এক বিলিয়ন ডলার। আইএমএফ সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের নতুন একটি ঋণচুক্তির জন্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক দেড় বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এ মাসেই। যার একটি বড় অংশ দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে কাজে লাগানো হবে। এদিকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের যে অবনতি ছিল সেটাও অনেকটা কেটে গেছে। জাইকা, ইএসএইড, ইউএনডিপি, আইডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগীরা নতুন করে ঋণ ও সহায়তার হাত বাড়াচ্ছেন। এবার ২০২৬-২৭ বাজেটে ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। যা চলতি বাজেটের চেয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাজে মালয়েশিয়া ও চীন সফল করছেন। যা দেশের কূটনৈতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. ইউনূস দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলেও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার কারণে ভেঙে পড়ে আর্থিক কাঠামো। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করে অভিষিক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সেটা টেনে তোলার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংক ও সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কারের মনোযোগী হয় সরকার। এর ফলে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করে তিন মাসের ব্যবধানেই। বিশ্বব্যাংক ঢাকার সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রত্যেক সরকারেরই আলাদা পরিকল্পনা থাকে। তবে বর্তমান সরকার অতি অল্প সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক অর্থনীতিতে এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। এতে অবশ্য সরকার অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণও করতে পেরেছে। এখন দরকার দূরদর্শী পরিকল্পনা। যা দেশকে সত্যিকারের সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স এর ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ ও রাজস্ব ঘাটতির সময়ে এ ধরনের সহায়তা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে অর্থের চেয়ে বড় বিষয় হলো সংস্কার বাস্তবায়ন। ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব ব্যবস্থা ও আর্থিক খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা কার্যকর সংস্কার এনে দেশ সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে চাই। দেশের জাতীয় স্বার্থ অটুট রেখে ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের দেশের উন্নয়নে আমরা কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। এতে তরুণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তির আলোচনা শুরু : ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচিত সরকার ছাড়া চলমান ৫.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তির বাকি দুই কিস্তির অর্থ ছাড় করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল আইএমএফ। ১২ ফেব্রুয়ারির পর সংস্থাটি তাদের মনোভাব পরিবর্তন করে। ওই পুরোনো ঋণের অবশিষ্ট কিস্তির সঙ্গে নতুন করে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তির প্রস্তাব দেয় নির্বাচিত সরকারকে। জানা গেছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক খাতের চাপ মোকাবিলা এবং বাজেট সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পেতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এদিকে নতুন ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল আগামী ১২ থেকে ১৭ জুলাই ঢাকা সফর করবে।

এডিবি দিয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার : চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা) বাজেট সহায়তা দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)। এই অর্থ প্রবাহের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠেছে। সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। গড়ে মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরলে, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যা আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপদ মানদণ্ড (কমপক্ষে তিন মাস) ছাড়িয়ে গেছে।

অতীতে রিজার্ভ চাপের মুখে পড়ে ব্যবহারযোগ্য অংশ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচেও নেমে গিয়েছিল। সেই সময় বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বিশ্বব্যাংক দিচ্ছে দেড় বিলিয়ন ডলার : চলতি মাসেই তিনটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য ১.৫ বিলিয়ন (১৫০ কোটি) ডলার অনুমোদন করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে চাপে পড়া বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে আসবে। এই তহবিলের মধ্যে, র‌্যাপিড রেসপন্স অপশন (আরআরও) উইন্ডোর আওতায় চলমান প্রকল্প ঋণ থেকে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার পুনর্নির্ধারণ (রিপারপাস) করা হবে। সার আমদানি ও খাদ্য সহায়তার জন্য দেওয়া হবে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। ওয়াশিংটন ডিসি এবং ঢাকা উভয় স্থানেই কয়েক দফা আলোচনার পর এই বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগ করবে চীন : চীনের অর্থায়নে দেশের অবকাঠামো খাতে নতুন করে বড় বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশে আরও একটি করে পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণসহ সড়ক, রেল ও সেতু খাতের ২০টির মতো প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরে এসব প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এতে ইতিবাচক খবর পাবে বাংলাদেশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র জানায়, চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি ৯টি প্রকল্পের নাম জমা দিয়েছে সেতু বিভাগ। এর মধ্যে আছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও গাইবান্ধার বালাসীঘাটের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এটি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে। দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য তিনটি সম্ভাব্য পথ (অ্যালাইনমেন্ট) নিয়ে সমীক্ষা চলছে। এগুলো হলো বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা-জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে যমুনা নদীর ওপর।

অন্যটি গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত। এর বাইরে অন্য যেকোনো উপযুক্ত স্থানে।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামে উড়াল মহাসড়ক, ঢাকার জন্য সাবওয়ে ও নতুন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে চীনের বিনিয়োগ আসতে পারে। এক সমীক্ষায় রাজধানীর ১১টি রুটে ২৩৮ কিলোমিটার সাবওয়ে নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে চারটি পথ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন