কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অপতৎপরতা ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃংখলা বাহিনীর টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথে বসানো হয় পুলিশ ও র্যাবের একাধিক চেকপোস্ট।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ছয়টি ইউনিট নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকাসহ জেলার পাঁচটি উপজেলায় টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, পুরো নারায়ণগঞ্জেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আমাদের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে শহরে নিরাপত্তা মিছিল ও শোডাউন করেছেন জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিলে অংশ নিয়ে দলটির নেতারা সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করবে, জনগণ তাদের রাজপথেই জবাব দেবে।
যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
