মায়ের বিশ্বাস বৃথা যায়নি

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপে যেন রূপকথা বই খুলে বসেছে পুঁচকে আফ্রিকান দেশ কেপ ভার্দে। স্পেনের (০-০) পর উরুগুয়েকেও (২-২) রুখে দিয়ে নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ব্লু শার্করা। রোববারের এই ঐতিহাসিক রাতে মায়ামি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত ৬৪,০০৩ জন দর্শকের মধ্যে সবচেয়ে আবেগময় গল্পটি ছিল কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহার মা আনা কান্দিদা এভোরার।

ভিসা জটিলতা এবং যাতায়াত খরচের অভাবে স্পেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখতে পারেননি এই গর্ভধারিণী। সেই ম্যাচে স্পেনের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে ঠেকিয়ে ভোজিনহা কেঁদে ফেলেন। তার চোখের জল ছুঁয়ে যায় পুরো বিশ্বকে। ম্যাচ শেষে ভোজিনহা আক্ষেপ করে বলছিলেন, যদি তার মা গ্যালারিতে থাকতেন এবং প্রয়াত দাদা-দাদী এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখতেন! তার সেই কান্না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক দিনে ভোজিনহার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ৫০ হাজার থেকে এক লাফে ১ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছে যায়। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩০ জন নতুন মানুষ তাকে ফলো করতে শুরু করেন।

এই ভিডিও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করলে ফিফা, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের যৌথ প্রচেষ্টায় দ্রুত মায়ের ভিসার ব্যবস্থা করা হয়। ২৪ ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে শুক্রবার মায়ামি পৌঁছান আনা কান্দিদা। ম্যাচের আগে ফিফার মাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় ছেলেদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি সব সমর্থক ও যারা আমাদের সাহায্য করেছেন, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা সবাই কেপ ভার্দের সুন্দর ফুটবলের জন্য প্রার্থনা করছি।

খেলোয়াড়দের মনে বিশ্বাস রাখতে হবে, তাহলেই সব ভালো হবে। মাথা উঁচু করে মাঠে নামো, গোলের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ো এবং তোমরা চমৎকার খেলবে, আমার বাবারা। তোমাদের জন্য অনেক ভালোবাসা, শক্ত ও সাহসী হও। ব্লু শার্কস!’ ম্যাচে সরাসরি কোনো সেভ করতে না হলেও, চতুর পজিশনিং দিয়ে উরুগুয়ের নিশ্চিত দুটি সুযোগ নস্যাৎ করেন ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে মায়ের উড়ানো পতাকার দিকে তাকিয়ে মাঠ থেকেই সালাম জানান ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন