বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন এক সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন রাষ্ট্র নানা জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত ১৮ মাসের অস্থিরতার ক্ষত এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। তার সঙ্গে রয়েছে কড়া অবস্থানে থাকা বিরোধী দল এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন। তবে এসবের মধ্যেও তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফের সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, কয়েক বছর আগেও দ্রুত জিডিপি প্রবৃদ্ধি, রপ্তানির উল্লম্ফন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং মাথাপিছু আয়ের উন্নতির কারণে বাংলাদেশকে তথাকথিত ‘এশীয় টাইগার’ দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করা হতো। কিন্তু গত দুই বছরে অর্থনীতি ধাক্কা খেয়েছে। মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ শতাংশে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ কমে গেছে।
সৌভাগ্যজনকভাবে, তারেক রহমান সমস্যার গভীরতা অনুধাবন করেছেন বলেই মনে হয়। তিনি অর্থনীতি পুনর্গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন, পাশাপাশি দেশে সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন। অস্থিরতার সময় পেরিয়ে বাংলাদেশকে দৃঢ়ভাবে দাঁড় করাতে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার অপরিহার্য।
নির্বাচনী প্রচারে তিনি ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি দ্বিগুণ করা, লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য কল্যাণমূলক সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এখনো তিনি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি কীভাবে এসব উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন করবেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতি দ্বিগুণ করতে হলে বার্ষিক প্রায় ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন- যা বর্তমান প্রবৃদ্ধির দ্বিগুণেরও বেশি।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজনই হবে কূটনীতির চালিকাশক্তি। ঢাকা আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে। এই অবস্থান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে এবং বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হতে পারে। বাংলাদেশের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য।
একই দৃষ্টিভঙ্গি অভ্যন্তরীণ নীতিতেও প্রতিফলিত হতে হবে। বিনিয়োগকারীরা সেটা দেশী হোক বা আন্তর্জাতিক তারা অরাজকতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বা সামাজিক অস্থিরতা পছন্দ করেন না। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা আন্দোলনের সূচনাও হয়েছিল চাকরির সংকট নিয়ে উদ্বেগ থেকে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তারেক রহমানকে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব সংস্কার, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবাসী আয় বাড়ানোর উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত, এ ধরনের কাঠামোগত সংস্কারই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
