মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্পসহ উদীয়মান খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
স্থানীয় সময় সোমবার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক খাতে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে। কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে থাকবে, তবে এর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্পের মতো নতুন খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে হবে।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুই দিনের মালয়েশিয়া সফরকে স্বাগত জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, এটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বৈঠকের আগে দুই নেতা সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী গবেষণা ও বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সহায়তা সংক্রান্ত দুটি দলিল বিনিময় করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়া সফরের জন্য প্রথম গন্তব্য হিসেবে দেশটিকে বেছে নেওয়ায় তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ। এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনায় জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পখাত গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।”
