জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ৩০ জনকে হত্যার অভিযোগ

ট্রাইব্যুনালে ‘অ্যাকমপ্লিস উইটনেস’-এর জবানবন্দি

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ৩০ জনকে হত্যার অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাবেক সেনাসদস্য ইমরানুল কায়েস ৭টি পৃথক ঘটনায় প্রায় ৩০ জনকে হত্যার বর্ণনা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটররা। রোববার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘ইমরানুল কায়েস জিয়াউল আহসানের ‘রানার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে থেকে নানা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হন। তিনি আদালতে আংশিক জবানবন্দি দিয়েছেন, যার অবশিষ্ট অংশ বিকালে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সাক্ষী তার জবানবন্দিতে সাতটি পৃথক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন, যেখানে একসঙ্গে ১১ জন, অন্য ঘটনায় সাত থেকে আট জনসহ মোট প্রায় ৩০ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দিতে হত্যার পর মরদেহ গুম ও নদীতে ফেলে দেওয়ার বিভিন্ন ঘটনার কথাও উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়।’

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নিখোঁজ নেতা -এর অপহরণ ও গুমের ঘটনাও সাক্ষীর বর্ণনায় এসেছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাক্ষী দাবি করেছেন যে তিনি এক পর্যায়ে মহাখালী এলাকায় জিয়াউল আহসান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা-এর মধ্যে ইলিয়াস আলীকে নিয়ে কথোপকথন শুনেছেন।

এছাড়া সাক্ষী দাবি করেছেন, ছুটি শেষে র‌্যাব সদরদপ্তরে ফিরে তিনি সহকর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারেন যে ইন-আউট রেজিস্টার, অস্ত্রাগারের রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন আরও জানায়, সাক্ষী একটি ঘটনায় একজন ব্যক্তিকে রেললাইনের ওপর ফেলে রাখার এবং পরে ট্রেন চলে যাওয়ার ঘটনাও বর্ণনা করেছেন। জবানবন্দিতে পোস্তগোলা, মহাখালী, গাজীপুর, উত্তরা, জাফলং ও সুন্দরবনসহ বিভিন্ন স্থানের ঘটনার উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউশন জানায়, ইমরানুল কায়েসকে ‘অ্যাকমপ্লিস উইটনেস’ (Accomplice Witness) বা সহযোগী সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল মরদেহ সরিয়ে ফেলা বা গোপন করার কাজে জড়িত থাকা। তবে ঘটনাগুলোর প্রত্যক্ষ বর্ণনা দিতে সক্ষম হওয়ায় আইনগত সুযোগ অনুযায়ী তাকে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন আরও জানায়, সাক্ষ্যের মাধ্যমে আরও কয়েকজন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে এবং তাদের বিষয়ে পৃথক বা যৌথ বিচার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ইমরুল কায়েস এ জবানবন্দি দিচ্ছেন। এ মামলায় একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন