টাঙ্গাইলে কূপ থেকে ছাগল উদ্ধারে গিয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জলই গ্রামে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্তে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নেইমার ম্রং (১০), রতন নকরেক (২৫), গ্রাব্রিয়েল নকরেক (৪৫) এবং বাবলু হাজং (৩৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংকে একটি ছাগল পড়ে যায়। প্রথমে একজন উদ্ধার করতে নামার পর পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকজন নিচে নামেন এবং দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।

মাত্র ৮-৯ ফুটের ছোট্ট একটি গর্ত। আর এ গর্তই কেড়ে নিলো বাবা-ছেলেসহ একই পরিবারের চার-চারটি তাজা প্রাণ। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য, একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে ছাগল তুলতে গিয়ে ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছোট্ট গর্তে আটকে এতো সংখ্যক মানুষের মৃত্যু আগে দেখেনি এলাকাবাসী। অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন কারণ বললেও এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় বিরাজ করছে শোকের মাতম। স্বজন আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকায়।
এদিন স্থানীয়রা জানান, সকালে ওই এলাকার বাবুল হাদিমার বাড়ির কাছে ৮-৯ ফুটের পরিত্যক্ত ছোট্ট একটি কূপে পড়ে যায় তাদের পালিত একটি ছাগল। পরে ছাগলটিকে উঠাতে গর্তে নামেন বাবুল হাদিমার স্কুল পড়ুয়া ছেলে নেইমার ম্রং।

কিন্তু দীর্ঘ সময় তার সাড়াশব্দ না পেয়ে একে একে কূপে নামেন বাবুল হাদিমার শ্যালক রতন নকরেক, ভগ্নিপতি গাব্রিয়েল সাংমা এবং শেষে নামেন বাবুল হাদিমা। এভাবেই একে একে চারজনই আটকে পড়েন অন্ধকার কূপে।
দীর্ঘ সময় ৪ জন কূপ থেকে না উঠলে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ বাধে। এরপর মধুপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ঘটনার দুই ঘণ্টা পর কূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-স্টেশন অফিসার লাভলু তরফদার বলেন, সকালে টেলকি গ্রামে পরিত্যক্ত কূপের মধ্যে একটি ছাগলের বাচ্চা পড়ে যায়। পরে সেই ছাগলের বাচ্চা তুলতে গিয়ে প্রথমে এক শিশু কূপে নেমে অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়। পরে ওই শিশুকে উদ্ধারে নেমে একে একে পরিবারের আরও ৩ তিনজন মারা যান। কূপটি আনুমানিক ৯-১০ ফুট গভীর।

গারো আদিবাসী নেতা ইউজিন নকরেক জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাবুল হাদিমার একটি ছাগল বাড়ির নিকটস্থ একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। ছাগলটি তোলার জন্য বাবুল হাদিমার স্কুলপডুয়া ছেলে নেইমার প্রথম কূপে নামে। কিন্তু তার সাড়াশব্দ না পেয়ে কূপে নামেন রতন। একপর্যায়ে তারও সাড়া না মেলায় কূপে নামেন গাব্রিয়েল। কিন্তু এদের কারও কোনো সাড়া না পাওয়ায় সবার শেষে নামেন বাবুল হাদিমা। তিনিও কূপ থেকে না উঠলে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ হয়।

গ্রামের সুসাং সাংমা জানান, এ ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত হই পরে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ঘটনার দুই ঘণ্টা পর কূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এলাকার ইউপি সদস্য হাসমত আলী জানান, পুরোনো কূপে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সেখানে সম্ভবত গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছিল। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক জানান, ফায়ার সার্ভিস নিহতদের উদ্ধার করেছে। লাশগুলো ঘটনাস্থলেই রয়েছে। পুলিশ সেখানে যাচ্ছে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন