ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নূরুল্লাহ শাওন (২৫) নিহতের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগের দিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত সদর উপজেলা, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ভারতী গ্রাম ও নেত্রকোণা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সবাই ১৮ বছরের কম বয়সী। নিহত নূরুল্লাহ শাওন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরজাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। গত বুধবার বিকালে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নূরুল্লাহ শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুই বন্ধুকে অন্তত সাতজনের একটি ছিনতাইকারী কিশোর দল ঘিরে ধরে তাদের কাছে যা আছে বের করে দিতে বলে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে এ সময় দুই বন্ধুকেই মারধর করা হয়। একপর্যায়ে নূরুল্লাহ শাওন প্রতিবাদ করলে বেদম মারধর শুরু করে। ওই সময় দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন পিছু নেয় শাওনের ও তিনজন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নূরুল্লাহ শাওন কোনদিকে গেছেন তার সন্ধান মেলেনি। পরে মঞ্জুরুল তীরে উঠে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বন্ধুদের খবর দিয়ে দলটির ১৫ বছর বয়সী এক সদস্যকে ধরে থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। রাতে শাওনের সন্ধান শুরু করলেও সন্ধান পাননি বন্ধুরা। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে শাওনের ব্যাগ ও জুতা পাওয়া যায়। ওই অবস্থায় পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে নদে সন্ধান চালালেও খোঁজ মেলেনি শাওনের।
এদিন বিকালে শাওনের মা শাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৩-৪ জনকে আসামি করে দেয়া অভিযোগটি পুলিশ সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ব্যাটবল চত্বর সংলগ্ন ব্রক্ষপুত্র নদের কিনারার পানিতে মরদেহটি দেখতে পেয়ে এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশকে জানান। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এদিকে জড়িতদের গ্রেপ্তারে শনিবার (২১শে ফেব্রুয়ারি) বিকালে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ঘটনায় জড়িত আসামিদের রাতের মধ্যেই গ্রেপ্তারের দাবি জানান। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করেন বিক্ষোভকারীরা। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কিশোর দলটি নিজেদের এলাকায় সন্ধ্যার দিকে যারা ঘুরতে যায়, তাদের ‘ঠেক’ দিতো। তারা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।
ময়মনসিংহে কলেজছাত্র নিহতের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ থেকে
২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
