আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থায় এখনো ঝুঁকি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির প্রায় এক দশক পরও আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনব্যবস্থায় একাধিক দুর্বলতা রয়ে গেছে । ওই ঘটনার পর কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা হলেও আন্তর্জাতিক মানের তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি । রিজার্ভ চুরির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনে এসব উল্লেখ করা হয়েছে । এদিকে রিজার্ভ চুরির মামলায় ছয় দেশের ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ( সিআইডি ) । অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড . আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশি ১০ কর্মকর্তা রয়েছেন । ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে তদন্ত প্রতিবেদনে তথ্য বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের কমিটির প্রতিবেদনে ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন সুপারিশ । রিজার্ভ চুরির মামলায় সিআইডির অভিযোগপত্র প্রস্তুত , শিগগির দেওয়া হবে আদালতে । অভিযোগপত্রে সাবেক গভর্নর ড . আতিউরসহ ছয় দেশের ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম । বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয় । হ্যাকাররা আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং বার্তাব্যবস্থা সুইফট অপব্যবহারের মাধ্যমে ওই অর্থ চুরি করে । তবে মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় একটি ভুয়া এনজিওর নামে ২ কোটি ডলার সরানো হলেও বানা ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায় । অপর চারটি মেসেজের মাধ্যমে বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরানো হয় ফিলিপাইনের মাকাতি শহরে রিজাল কমার্শিয়া ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ভুয়া তথ্য দিয়ে খোলা চারটি হিসাবে । এই রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ২০১৬ সালের ৩ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক মতিঝিল থানায় মামলা করে । মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি । রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের জুলাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় । কমিটিতে ছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বক্স চৌধুরী ও ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং সিআইডির তৎকালীন অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ কবির । কমিটি গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তদন্ত এবং একাধিকবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিদর্শন করে । কমিটি পরে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তাব্যবস্থায় ব্যবহৃত কয়েকটি সফটওয়্যার আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বা সর্বোচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন নয় । সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে সফটওয়্যার কেনার প্রবণতা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে । প্রতিবেদনে বিশ্বের শীর্যমানের নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে , তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তায় খরচের চেয়ে মানকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি । প্রতিবেদনে আরও বলা হয় , কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনো পূর্বনির্ধারিত বা সাধারণভাবে পরিচালিত হচ্ছে । বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি নিরাপত্তাব্যবস্থা আলাদা করে কাস্টমাইজ করা প্রয়োজন । তা না হলে সাইবার হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে দুর্বলতা থেকে যেতে পারে । কমিটির পরিদর্শনের সময় কিছু আধুনিক নিরাপত্তা যন্ত্র সংযুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি । বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে , এগুলো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে । তদন্ত দল দ্রুত এসব ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করেছে । প্রতিবেদনে অবকাঠামোগত ঝুঁকিও তুলে ধরা হয় । এতে বলা হয়েছে , সার্ভার কক্ষের কাছাকাছি একটি সভাকক্ষে একাধিক সার্ভার স্থাপন করা হয়েছে , যেখানে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের আলাদা ব্যবস্থা নেই । সার্ভার কক্ষের আশপাশের এলাকা তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ হওয়ায় আগুন বা অতিরিক্ত তাপমাত্রা হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে । সার্ভার কক্ষের পাশে ছোট একটি রান্নাঘর এবং খাবার গরম করার ব্যবস্থা নিয়েও প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানানো হয়েছে । প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , খাবারের উচ্ছিষ্ট থেকে ইঁদুরের উপদ্রব তৈরি হতে পারে । এতে ফাইবার ও তথ্য পরিবহনকারী তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে । তাই সার্ভার কক্ষের আশপাশে রান্না , খাবার সংরক্ষণ বা খাবার গরম করার ব্যবস্থা না রাখার সুপারিশ করা হয়েছে । দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের ঘাটতি থাকার বিষয়টি তদন্ত দলের কাছে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ।
প্রতিবেদনে এ ক্ষেত্রে জনবল বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে । তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , প্রধান তথ্যকেন্দ্র অকার্যকর হলে বিকল্প তথ্যকেন্দ্র চালু করতে অন্তত দুই ঘণ্টা সময় লাগে । এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সেবার মানসংক্রান্ত চুক্তি আছে কি না , তা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করতে পারেননি । তদন্ত দল এটিকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখেছে । প্রতিবেদনে জরুরি কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে । এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা , উন্নত নিরাপত্তা যন্ত্র ব্যবহার , বহিরাগত যন্ত্র ও মোবাইল ফোন সীমিত করা , কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ( এআই ) -ভিত্তিক নজরদারি চালু , নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন , ক্যামেরার তথ্য একাধিক স্থানে সংরক্ষণ এবং ব্যবহারকারীর আচরণ পর্যবেক্ষণব্যবস্থা চালু করা । জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনার পর অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে । তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে যখনই যে পরামর্শগুলো আসে, তা আমরা সব সময় অনুসরণ করি । অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তদন্ত কমিটির ওই প্রতিবেদনের পরামর্শগুলোও আমরা অনুসরণ করছি । কোনোভাবে নিরাপত্তা ইস্যুতে ছাড় দেওয়া হবে না । ‘তিনি বলেন, সফটওয়্যার কেনার বিষয়ে প্রতিবেদনে যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে , সেটি অনুসরণ করা একটু কঠিন । কারণ দরপত্রের বাইরে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া বিতর্ক তৈরি করতে পারে । তাই দরপত্রের মাধ্যমেই কিনতে হয় ।
মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত এদিকে রিজার্ভ চুরির অভিযোগপত্র প্রস্তুত সিআইডি। অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ , ফিলিপাইন , শ্রীলঙ্কা , ভারত , চীন , জাপান ও উত্তর কোরিয়ার মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে । তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় , প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে রিজার্ভ চুরি , অর্থ স্থানান্তর এবং পাচারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে । অভিযোগপত্র শিগগির আদালতে দাখিল করা হবে । অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড . আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশি ১০ কর্মকর্তার নাম রয়েছে । ড . আতিউরের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা , ঘটনা গোপন রাখা , নিরাপত্তাব্যবস্থায় ব্যর্থতা এবং আলামত নষ্ট বা মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে । অভিযোগপত্রে নাম থাকা অন্য বাংলাদেশিরা হলেন ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের তৎকালীন সভাপতি আনিস এ খান , বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক কে এম আবদুল ওয়াদুদ , সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম , তৎকালীন উপমহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক , সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা , সাবেক উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা , সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম , কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো . সুলতান মাসুদ আহম্মেদ এবং গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান । তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতি এবং নিরাপত্তা তদারকিতে ব্যর্থতার অভিযোগ আনা হয়েছে । উত্তর কোরিয়ার নাগরিক পার্ক জিন হিয়োককে মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে । তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ , সাইবার হামলা পরিচালনা এবং অর্থ চুরির অপারেশন বাস্তবায়নের অভিযোগ রয়েছে । উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার সংগঠন লাজারাস গ্রুপকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে । ফিলিপাইনের ৩০ জনের বেশি ব্যক্তি এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে । তাদের মধ্যে রয়েছেন কাম সিন ওং , মায়া সান্তোস দেগুইতো , রাউল ভিক্টর বি তান , ব্রিজিট আর কাপিনা , নেস্তর ও পিনেদা , রোমুয়ালদো এস আগারাডো , অ্যাঞ্জেলা রুথ এস টরেস , লোরেঞ্জো তানসহ অনেকে । প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন , ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশন , সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিং , আব্বা কারেন্সি এক্সচেঞ্জ , বিকন কারেন্সি এক্সচেঞ্জ , মিডাস ক্যাসিনো এবং সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনো । তাদের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণ , স্থানান্তর এবং পাচারে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে । অভিযোগপত্রে শ্রীলঙ্কার সাত ব্যক্তি ও শালিকা ফাউন্ডেশনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে । অভিযোগপত্রে নাম রয়েছে ভারতের নীলাভান্নান মাদুক্কুর আনন্দন , প্রীতম রেড্ডি , সুধীন্দ্র আত্রেশ ও রাকেশ আস্তানা ; চীনের ডিং ঝিজে , গাও শুহুয়া ও ওয়েইকাং জু এবং জাপানের সাসাকি । তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি , তদন্তে বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল । বাংলাদেশি ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার জন্যও চাপ ছিল । তবে ফরেনসিক তথ্য , আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন এবং নথিপত্রের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে । অভিযোগপত্রটি আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে । এটি শিগগির আদালতে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন । তিনি বলেন , মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষপর্যায়ে রয়েছে । বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযুক্ত কেউ গ্রেপ্তার নেই । তাদের কয়েকজনের পাসপোর্ট ব্লক রয়েছে , যাতে বিদেশে যেতে না পারেন । ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ চুরি হলেও পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি প্রথম সন্দেহের সৃষ্টি করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণ মামলার তদন্ত শুরু করে । পরে ৩ মার্চ কেন্দ্রীয় করেছে ব্যাংক মতিঝিল থানায় মামলা করে ।
প্রথম আলো
প্রথম আলোর প্রথম পাতার শিরোনাম ‘হামলার লক্ষ্য যখন পুলিশ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর আদাবরে অভিযানে গিয়ে ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন থানার ওসি ও এক এসআই। একই দিনে লালমনিরহাটের আদিতমারীতে শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিতে স্থানীয়দের হামলায় এনডিসি, পুলিশ সদস্যসহ ৩০-৩৫ জন আহত হন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় সরকারি ছয়টি গাড়ি।
এর এক সপ্তাহ আগে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার যান আটককে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনা ঘটে।
আলাদা এলাকায় ও আলাদা প্রেক্ষাপটে ঘটলেও এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন মনে করছেন না পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই (জানুয়ারি-মে) পুলিশের ওপর অন্তত ২৬৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর চলতি জুন মাসের মাঝামাঝিতে ঘটেছে বড় তিনটি ঘটনা। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত এ সংখ্যা ৮৭০ ছাড়িয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার, অপরাধবিরোধী অভিযান কিংবা আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে এমন হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশের সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আসামি গ্রেপ্তার, অপরাধবিরোধী অভিযান কিংবা আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে আক্রমণে বা প্রতিরোধের মুখে পড়ছেন পুলিশের সদস্যরা। শুধু পেশাদার অপরাধীরা নয়, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ, আসামির স্বজন কিংবা সংঘবদ্ধ দলও পুলিশের ওপর হামলায় জড়াচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও ‘মব’ তৈরি করে অপরাধী বা আসামিকে নিজেদের হাতে নিয়ে ‘বিচার’ করতে চাওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (সাবেক আইজিপি) আবদুল কাইয়ুম প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের ভেতরে যে ভয় বা ট্রমা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে নেতৃত্বের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্ব কাঠামো থেকে পুলিশ সদস্যদের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে আইনসম্মতভাবে দায়িত্ব পালন করলে বাহিনী তাঁদের পাশে থাকবে। তবে পুলিশকেও আগের মতো চললে হবে না; স্বচ্ছতা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আইনের ঊর্ধ্বে ভাবার মানসিকতা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
দেশ রূপান্তর
দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পলাতক ৫৩ বন্দি দুশ্চিন্তার কারণ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের আগে ও পরে দেশের পাঁচ কারাগারে চরম বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহের পরিস্থিতিতে দুই হাজার ২৪৭ বন্দি পালিয়ে যায়।
তাদের মধ্যে এক হাজার ৫৫০ বন্দিকে বিভিন্ন সময়ে কারাগারে ফিরিয়ে আনা (কেউ আত্মসমর্থন করেছে, কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে) সম্ভব হয়েছে।
ফিরিয়ে আনাদের এক হাজার ৩০০ জনের জামিন হয়েছে। এখনো ৬৯৭ জন বন্দি পলাতক রয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ওই সময় ৯৯ জন বিশেষ বন্দি (জঙ্গি, মৃত্যুদ-প্রাপ্ত, সাজাপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য) পালিয়ে গেছে। তাদের ৪৬ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। এখনো পলাতক ৫৩ বন্দির ছয়জন জঙ্গি, চারজন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য এবং ৪৩ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত।
তাদের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে কারা অধিদপ্তর। এ বন্দিরা বাইরে থেকে নানা ধরনের অপরাধ করতে পারে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হতে পারে, এমন শঙ্কা করছে কারা অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া, কারাগার থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘‘চিকেন নেক’ ঘিরে ভারতের মহাপরিকল্পনা।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো দ্রুত শক্তিশালী করছে ভারত সরকার।
‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধকালীন মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই সঙ্কীর্ণ ভূখণ্ডটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোকে যুক্ত করেছে।
ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটে এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ যেন হাতছাড়া না হয়, মূলত সেই কৌশল থেকেই এই তোড়জোড়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতর থেকে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোর রক্ষায় ভারত সরকার বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা চারটি পুরনো ও বন্ধ বিমানঘাঁটি পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে।
পাশাপাশি একটি বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন এবং একটি ভূগর্ভের রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পর জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত জেলাগুলোতে তদারকি ও নজরদারি শুরু করেছে দুই মন্ত্রণালয়।
সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি, বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ-ভারত সমীকরণ এবং বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য সরাসরি উদ্বেগ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বণিক বার্তা
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘ভাঙন-অব্যবস্থাপনায় বেলাভূমি ও সৌন্দর্য হারাচ্ছে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সাগরকন্যাখ্যাত কুয়াকাটা দেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। যেখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। কিন্তু ক্রমেই এ সৈকতের বেলাভূমি ছোট হয়ে আসছে।
উপকূলীয় ভাঙন, পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড, ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি আর দূষণ-দখলে দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে সৈকতের বেলাভূমি, সৌন্দর্য হারাচ্ছে পুরো সৈকত এলাকা।
অন্যদিকে, বিপদাপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘লাখ ছাড়াল হামের রোগী।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, হাম ও উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গেল।
গত ১৫ই মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গে আত্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮৯ হাজার ৯০৪ জন, আর নিশ্চিত হাম আক্রান্ত এ পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৭৭৩ জন।
আর এই সময়ে হাম ও উপসর্গে নিয়ে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬৬ জনে। যার মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের।
১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৪ হাজার ১৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫০৩ জন।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘এক বছরে বেড়েছে ৩৮০০ কোটি টাকা/বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড় সুইস ব্যাংকে’। প্রতেবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে (সুইস ব্যাংক) বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড় জমেছে। সারা বিশ্বে সুইস ব্যাংকে আমানত কমার প্রবণতা থাকলেও, ঠিক উলটো চিত্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটিতে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটিতে বাংলাদেশিদের জমানো অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্র্যাংক। প্রতি ফ্র্যাংক ১৫২ টাকা হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় যা ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। এই অর্থ অন্তত ৩১টি বেসরকারি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের সমান।
এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে কারা এই টাকা সুইস ব্যাংকে জমা রেখেছেন সে তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই। সুইস ব্যাংক তার কোনো আমানতকারীর তথ্য কখনো প্রকাশ করে না।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, বৈধ অনুমোদন নিয়ে কেউ সুইস ব্যাংকে টাকা রাখেনি। এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। তবে অর্থ পাচার ঠেকাতে এবং আগের পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, আইনগতভাবে যা করণীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাচারের অর্থ ফেরত আনতে সুইস ব্যাংকের সঙ্গে কোনো এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) হয়নি। তবে অর্থ পাচারের বিষয় নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থা এগমন্ড গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের এমওইউ আছে।
