বদলগাছীতে পোকা খাওয়া নষ্ট চাল বিতরণের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় স্থানীয় সরকার অফিস থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা শুকনা খাদ্য সহায়তার চাল পোকা খাওয়া ও নষ্ট অবস্থায় বিতরণ করার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অসহায়, দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে সরকারি শুকনা খাদ্য সহায়তা হিসেবে তেল, হলুদ, গুঁড়ো ঝাল, লবণ, চিনি, মসুর, ডাল ও চাল বিতরণ করা হয়। তবে অনেকেই বস্তা খুলে দেখতে পান, চাল পোকায় আক্রান্ত, মান নষ্ট হওয়ায় চাল ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো পাউডার ও কিছু অংশে কালচে দাগ এবং হালকা দুর্গন্ধ রয়েছে।
উপকারভোগীরা অভিযোগ করেন, চাল ধোয়ার সময় পানিতে অসংখ্য পোকা ভেসে ওঠে এবং চাল ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হওয়ায় চালের পানি কাদা কাদা হয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় উপকারভোগী পরিবারগুলোর মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। উপকারভোগী ছালমা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। সরকারের সহায়তার দিকে তাকিয়ে থাকি। শুকনা খাবারের বস্তায় চাল, ডাল, ঝাল ও হলুদ গুঁড়া ছিল। কিন্তু যে চাল দেয়া হয়েছে তা খাওয়ার উপযোগী নয়। বাধ্য হয়ে গরুকে খাওয়াইছি। সুহেল রানার স্ত্রী বলেন, বস্তা খুলে দেখি চালের অবস্থা খুবই খারাপ। চালের পোকাগুলো গিজ গিজ করে ঘুরছে। অধিকাংশ চাল ভাঙা গুঁড়া গুঁড়া। চালগুলো অনেকবার ধুয়ে ৩-৪ দিন রোদে শুকিয়ে খেয়েছি।
এ বিষয়ে সদর ইউপি প্রশাসক ফারুক আহমেদ বলেন, আমরা প্যাকেট পেয়ে বিতরণ করেছি। ভেতরে কী আছে তা জানি না। এখনো অভিযোগও পাইনি। তবে পরে একজন সাংবাদিক এসে বললো খারাপ। বক্তব্য নেয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুনিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোনে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, কোনো শুকনা খাবার খাওয়ার অনুপযোগী হলে বিতরণ করার কথা নয়। যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো। কোনো উপকারভোগী অভিযোগ দিলে আমরা নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবো।





কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন