উদ্বোধনের পর থেকেই অবহেলায় মাসের পর মাস পার, নেই সঠিক নজরদারি, অবহেলিত থেকে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুট। বর্ষার সময় চলানো হলেও বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে এ ফেরি। এতে মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় থেকে বঞ্চিত সরকার। ফেরি না চললেও প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা। বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি দু’দপ্তরের নেই সমন্বয় সঙ্গে নাব্য সংকট আবারো তিন মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ ফেরি চলাচল। চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটে আবারো ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। সুবিধা থেকে বঞ্চিত উত্তরাঞ্চলের মানুষ। ড্রেজিং অনিয়ম আর নয়ছয়ের কারণে রৌমারী বালুর চরে আটকে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফেরি কুঞ্জলতা ও কদম। তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ফেরি দু’টি চালু না হওয়ায় একদিকে লোকসান গুনছে সরকার। অপরদিকে, ভোগান্তি আর উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে আবারো পিছিয়ে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চল।
বছরের বেশির ভাগ সময় চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় হতাশায় দিন পার করছে কুড়িগ্রামের চিলমারী, রৌমারীসহ উত্তরাঞ্চরের মানুষ, সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। দুই দপ্তর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর গাফিলতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী, রাজিবপুর, রৌমারী, রমনা এবং নয়ারহাট অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সুবিধার জন্য ফেরি ঘাট ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা থেকে অন্যান্য নদী এবং সমুদ্র বন্দরের যোগাযোগ বাড়ানো, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে রমনা এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ নদী বন্দর স্থাপন করা হয়। উন্নয়নের আরও একধাপ এগিয়ে নিতে চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটে চালু করা হয় ফেরি। ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২৩ উদ্বোধনের মাধ্যমে ফেরি কুঞ্জলতার যাত্রা শুরু হয়। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিতীয় ফেরি বেগম সুফিয়া কামাল যুক্ত করা হলেও একমাস যেতে না যেতেই নাব্য সংকট দেখিয়ে সরিয়ে নেয়া হয়। আবারো বেড়ে যায় ভোগান্তি। ভোগান্তি দূর করতে কর্তৃপক্ষ চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটে যুক্ত করে ফেরি কদম। ফেরি দু’টি চালুর কারণে চিলমারী-রৌমারী রুটের চাহিদা অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আয়ও বৃদ্ধি পায়। সূত্রমতে, ফেরি চালু থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫-৪০ লাখ টাকা আয় শুরু হয় এ রুটে। সেইসঙ্গে ব্যবসার প্রসার বাড়তে শুরু করে এবং অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু ড্রেজিং অনিয়ম আর নয়ছয়ের কারণে বারবার নাব্য সংকটের কারণে বছরের বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে ফেরি চলাচল। ফলে কমে যাচ্ছে রুটের চাহিদা, উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে পিছিয়ে পড়ছে চিলমারীসহ উত্তরাঞ্চল।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, নাব্য সংকটের কারণে গত বছরের ১৯শে নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে ফেরি চলাচল, ফেরি দু’টি বর্তমানে রৌমারী ঘাট এলাকার বালুচরে আটকে আছে। নিয়মিতভাবে ড্রেজিং না করায় উক্ত নৌপথ সচল থাকছে না। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ জানান, ফেরি চলাচল ঠিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে ড্রেজিং অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, নাব্য সংকটের কারণে এ নৌ-রুটের ওপর নির্ভর সাধারণ মানুষরাও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি দু’টি দপ্তরের সমন্বয়ের অভাব সঙ্গে গাফিলতির কারণে চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটে ফেরি চলাচল প্রায় সময় বন্ধ থাকছে জানিয়ে এলাকার নুরুল হক, মাইদুল, শহিদুলসহ অনেকে বলেন, কর্তৃপক্ষরা নাটক শুরু করেছে আর সাধারণ মানুষ পড়েছে বিপাকে, লোকসান গুনছে ব্যবসায়ীরা, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। নাব্য সংকটের কারণে আপাতত ফেরি দু’টি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চিলমারী ঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. আকিব সোহেল আকাশ বলেন, এই নৌ-রুটের বিভিন্ন স্থানে নাব্য সংকট সঙ্গে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ আছে।
৩ মাস ধরে আটকে আছে ফেরি
ড্রেজিং নিয়ে নয়ছয়, উন্নয়নবঞ্চিত উত্তরাঞ্চল
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
