সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় থাকার বিধান নেই। অথচ লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একই কর্মস্থলে কর্মকর্তারা ৫-৮ বছর চাকরি করছেন। আবার কেউ কেউ এর চেয়ে বেশি সময় ধরেও কর্মরত আছে একই অফিসে। লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে দেখা যায় এ সব কান্ড। যার ফলে গতি বাড়ছে না কাজে। অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ওই সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দীর্ঘ দিন একই কর্মস্থলে চাকরির সুবাধে ডালপালা মেলেছেন তারা। তাদের আধিপত্যে অধিনস্থ কিংবা সেবাগ্রহীতারা মুখ খুলে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। নিজেদের ইচ্ছামত চালাচ্ছেন দাপ্তরিক কার্যক্রম। বাস্তবায়ন হচ্ছে না সরকারের লক্ষ্যমাত্রা। এছাড়াও সরকারি ওয়েবসাইট গুলো দীর্ঘদিন থেকে আপডেট করা হচ্ছে না, ফলে সাধারন জনগণ অনলাইনে তথ্য প্রাপ্তিতে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শ্রাবনী চক্র বর্তী চার বছর চলমান, সহকারী প্রকৌশলী সবুজ মজুমদার রামগতি থেকে শুরু করে টানা এক যুগের কাছা কাছি একই জেলায় চাকুরি করে যাচ্ছেন।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন এক যুগেরও বেশী। রায়পুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুমন মুন্সি। লক্ষ্মীপুর এলজিইডি সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ পাঁচ বছর যাবত কর্মরত আছেন। রামগঞ্জ একাডেমিক সুপার ভাইজার শরীফ উল্লাহ আস শামছ, সমাজসেবা রামগঞ্জ আনোয়ার হোসেন প্রায় নয় বছর একই উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। গণপুর্ত বিভাগের উপ- সহকারী প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেন। রায়পুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সিএ ফয়সাল আজিমসহ দীর্ঘদিন একই দপ্তরে কর্মরত থাকায় লুটপাটের সর্ঘ গড়ে তুলেছেন। লক্ষ্মীপুর সদর এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী বেল্লাল হোসেন তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর একই স্টেশনে কর্মরত।
তাছাড়া রামগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্যের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কানঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাষক আশিকুর রহমান দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবত রামগঞ্জে কর্তা বাবুদের ম্যানেজ করে অবস্থান করছেন। আবার নিজেই ঠিকাদার হয়ে কাজ চালিয়ে যান। একই চিত্র প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ও সমাজ সেবা ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমানসহ অনেক কর্মকর্তা খাপটি মেরে বসে আছেন। কিছু কর্মকর্তা চাকুরী জীবন নিজ জেলা থেকে শুরু বর্তমানেও নিজ জেলায় দেখা যায়। দীর্ঘ দিন স্থায়ী হওয়ায় বড় অংকের ঘুষ বাণিজ্যের একাধিক অভিযোগ রয়েছে এইসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় জেলাবাসির অভিযোগ, বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তারা অতীতে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগের দোসরদের সাথে হাত মিলিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করে নিজেদের ইচ্ছে মতো খেয়েছেন। স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও তাদের রেখে যাওয়া কর্তারা এখনো খাপটি মেরে বসে আছ বিভিন্ন দপ্তরে। সময়ের ব্যবধানে তারা সুর পাল্টিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছে। তৈরী হচ্ছে নতুন ধারার লুটপাট। কর্মকর্তারা দীর্ঘ মেয়াদী এক স্টেশনে থাকলে সরকারের কাজের ধীরগতি সৃষ্টি হয়। পলে সরকারী কাজের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থতা সৃষ্টি হয়। আবার কোন কোন কর্মকর্তা নিজ জেলায় কর্মরত থাকায় সিন্ডিকেট তৈরী করেন । এ জেলার যারা কর্মরত তারা অফিস পাকি দিয়ে পারিবারিক জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তারা নিদিষ্ট সময়ে অফিসে না আসার অভিযোগ ও রয়েছে। স্থানীয় লোকদের সাথে সখ্যতা করে গড়ে তোলেন লুটপাতের রাজত্ব।
মানবাধিকার কর্মী ও সুপ্রিম কোটের আইনজীবী এড, নিজাম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, যে কোন কর্মকর্তা এক স্টেশনে দীর্ঘ দিন থাকলে কাজের কিছুটা ভাটা পড়ে। যার ফলে সেচ্ছাচারিতা বেড়ে যায়। সুযোগ সন্ধা নিধের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন।
