গণভোট মানা না হলে জনগণ সরকারকে মানতে চাইবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। গতকাল ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত এই সভাটির আয়োজন করে।
জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে অতীত-ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। ভুল ইতিহাস দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। ব্যক্তি স্বার্থে রচিত ইতিহাস পরিহার করে জনকল্যাণমুখী ও সত্যনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে ইতিহাস সংশোধনেরও প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, কথা আর কাজ এক না হলে জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না। জনগণের রায় মেনে নেয়া হচ্ছে শান্তির উপায়। বাংলাদেশে দুটি ভোট হয়েছে এর মধ্যে গণভোট রয়েছে। বিএনপি গণভোটের শপথ নেয়নি। গণভোট না মানা হলে জনগণ সরকারকে মানতে চাইবে না।
তিনি সরকারি ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন শান্তির দেশ গঠনে আমরা এগিয়ে যাই। ফ্যাসিবাদ, জুলুমমুক্ত দেশ গঠনের জন্য জনগণ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। যে দেশে ঐক্য নাই সে দেশে শান্তি নাই। শৃঙ্খলা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। অতীতে যেই জুলুম অত্যাচার হয়েছে এগুলো যেন আর দেখতে না হয়। বিএনপি’র প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সময় আছে দয়া করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে জনগণের কল্যাণে সবাই কাজ করি।
এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড.এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই দিবসটি শুধু বাংলাদেশের মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, তা আজ পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে। ১৯৩টি দেশে এই দিবস পালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই গৌরব অর্জন করেছি তাদের আমরা যথাযথ স্বীকৃতি দিতে পারিনি। আজও প্রশ্ন ওঠে ভাষা শহীদের তালিকা নিয়ে। এটি খুবই দুঃখজনক। তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, নতুন প্রজন্মকে প্রকৃত ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শেখাতে হবে। সঠিক ইতিহাস না জানলে এ জাতিকে বিপদগামী পথ থেকে ফিরিয়ে আনা যাবে না।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত একটি সভায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এলাহী চৌধুরী বলেছিলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে যারা পিকেটিং করেছিলেন, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজন অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এই জাতি আজও সেই স্বীকৃতি দিতে পারেননি।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয় যখন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। তখন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সোচ্চার হয়। এ আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানও গ্রেপ্তার হন। সংগ্রামের মধ্যদিয়েই বাঙালি তার অধিকার আদায় করেছে। একুশ আমাদের চেতনার ধারক। সেই চেতনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে জীবন দিবো আপস করবো না। একই চেতনা থেকে জুলাই মাসের আন্দোলনে ৩৬ দিনের মধ্যে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ড. হামিদ আযাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করাই হবে আমাদের প্রতিশ্রুতি। আমি বলতে চাই, জুলাই চেতনাকে মাইনাস করে গণতন্ত্রকে সুসংহত করা যাবে না। উনারা স্বৈরতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য হাঁটছেন। জুলাই বিপ্লব বাদ দিয়ে, সংবিধান সংস্কার শপথ উপেক্ষা করে সংস্কার না করে কীভাবে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়বেন। জুলাই বিপ্লবই তো হয়েছে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য।
